১৫ তলার ফাইভস্টার ভবন থেকে ৮৭ কোটির পার্ক—দুর্নীতিমুক্ত ফরিদপুর গড়তে জেলা পরিষদ প্রশাসকের সুদূরপ্রসারী নকশা
বদলে যাচ্ছে ফরিদপুর, মাস্টারপ্ল্যানে আফজাল হোসেন খান পলাশ
- আপডেট সময় : ০৫:৫২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
- / 279
আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া ভেন্যু, ১৫ তলা বিশিষ্ট ফাইভস্টার আবাসন সংবলিত সুবিশাল ভবন, লেকপাড়ে অত্যাধুনিক পার্ক এবং জেলার প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন—ফরিদপুরকে এক আধুনিক ও নীতিনিষ্ঠ জেলায় রূপান্তর করতে এমনই এক অভাবনীয় ও দূরদর্শী স্বপ্নের কথা শোনালেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ।
সীমিত সম্পদ আর নানা প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার মাঝেই স্বচ্ছতা, জিরো টলারেন্স নীতি এবং সততাকে পুঁজি করে প্রান্তিক মানুষের সেবা নিশ্চিত করার এক নতুন মডেল দাঁড় করাচ্ছেন তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় উঠে এসেছে তাঁর এই বহুমাত্রিক পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গি।
প্রথা ভাঙা সকাল ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, “আগে জেলা পরিষদের বরাদ্দ ও সুযোগ-সুবিধা সাধারণ মানুষের অজানা থাকত। এখন এই সীমিত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে সব সুবিধা সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।”
শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুর জেলা পরিষদকে পুনর্গঠিত ও শক্তিশালী করার যে দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করেছেন, একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকেই অফিসে উপস্থিত থেকে তা পালনের আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রেখে জনগণের প্রতিটা টাকা শতভাগ নিষ্ঠার সাথে ব্যয়ের নিশ্চয়তা দিয়েছেন এই প্রশাসক।
১৫ তলার ফাইভস্টার ভবন ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ভেন্যু
ফরিদপুরে আন্তর্জাতিক মানের কোনো খেলাধুলার আয়োজন না হওয়ার মূল বাধা মানসম্মত আবাসন। এই বড় ঘাটতি মেটাতে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ১৫ তলা বিশিষ্ট একটি আধুনিক ভবন নির্মাণের সয়েল টেস্ট বা প্রাক-কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এর জন্য একটি বেসরকারি কনসালটেন্ট ফার্মের সঙ্গে চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ভবনের প্রথম পাঁচ তলা পর্যন্ত জেলা পরিষদের নিজস্ব অফিস, কমার্শিয়াল স্পেস, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও অডিটোরিয়াম থাকবে। আর ওপরের তলাগুলোতে গড়ে তোলা হবে বিশ্বমানের ফাইভস্টার আবাসন ব্যবস্থা, যাতে দেশি-বিদেশি খেলোয়াড় ও অতিথিরা অবস্থান করতে পারেন। ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব স্থানটি পরিদর্শন করেছেন এবং আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে।
লেকপাড় পার্ক, রাজবাড়ী মোড়ে মার্কেট ও শহরের সৌন্দর্যবর্ধন
জেলা পরিষদের আয় বাড়াতে এবং বিনোদন নিশ্চিত করতে একাধিক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছেন আফজাল হোসেন খান পলাশ:
রাজবাড়ী রাস্তার মোড়: আয় বাড়ানোর অংশ হিসেবে রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে অস্থায়ীভাবে মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে।
সার্কিট হাউস ও বিপি-এসপি বাংলো এলাকা: সার্কিট হাউস এবং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বাসভবনের সামনের চওড়া জায়গাগুলোতে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ এসেছে। সেখানে ঝর্ণা ও বৃক্ষরোপণ করে মনোরম পরিবেশ তৈরির কাজ চলছে।
লেকপাড়ের পার্ক প্রকল্প: ফরিদপুরের লেকপাড়ে একটি আধুনিক পার্ক নির্মাণের কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইতোমধ্যে সেখানে ৮৬ কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে এবং প্রায় ৬৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মূল প্রকল্পটি ২১০ কোটি টাকার থাকলেও বিগত সরকার তা কাটছাঁট করে ৮৭ কোটি টাকায় নামিয়ে আনে। এই কাজ পুরোপুরি শেষ হলে জেলার বিনোদনের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হবে এবং রাজস্ব আদায় বাড়বে।
বিগত সরকারের লুটপাট ও জেলা পরিষদের অতীত-বর্তমান
উন্নয়নের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে জেলা পরিষদ প্রশাসক আফসাল হোসেন খান পলাশ আক্ষেপ করে বলেন, “বর্তমানে আমাদের মাত্র এক লাখ টাকার টেন্ডার করতে হলেও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগে, অথচ পৌরসভার প্রশাসক বিশ-পঞ্চাশ লাখ টাকার টেন্ডার করতে পারেন। এর প্রধান কারণ হলো—বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার মসজিদ-মাদ্রাসার নাম করে শত শত কোটি টাকা এই জেলা পরিষদ থেকে আত্মসাৎ করেছে। ফলে মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ কড়া করেছে।”
তিনি আরও স্মৃতিচারণ করে বলেন, একসময় শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থেকে রাজবাড়ীর পাংশা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা ছিল এই জেলা পরিষদের অধীনে। তখন পিডব্লিউডি, এলজিইডি বা উন্নত রাস্তাঘাট ছিল না—সব কাজই জেলা পরিষদ করত। সীমানা কাটছাঁট হয়ে জেলা পরিষদ ছোট হলেও, এর পরিধি এখনো পুরো জেলাজুড়ে বিস্তৃত। ৮১টি ইউনিয়নের প্রান্তিক মানুষ সাহায্য-সহযোগিতার আশায় জেলা পরিষদে আসেন।
ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে হাতেখড়ি আফজাল হোসেন খান পলাশের। যুবদল ও কৃষকদলের শীর্ষপদে নেতৃত্ব দেওয়ার পর বর্তমানে তিনি ফরিদপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৩১ মার্চ জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র পাঁচ মাসেরও কম সময়ে নিজের স্বচ্ছতা ও কর্মতৎপরতায় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সুনাম ও আস্থা কুড়াতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।











