ঢাকা ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সূত্র: বিবিসি বাংলা

মার্কিন শুল্ক: সংকটে ভারতের অর্থনীতি, জিডিপিতে বড় আঘাতের শঙ্কা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:২৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / 260

রাশিয়া থেকে তেল কেনার জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট মার্কিন শুল্ক ৫০ শতাংশে উন্নীত হচ্ছে, যা আগামী ২৭শে আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপের পর ভারতের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত ভারতের রপ্তানি বাণিজ্য ও সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বড় আঘাত। ভারত বর্তমানে বছরে প্রায় ৮৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমেরিকায় রপ্তানি করে। ৫০ শতাংশ শুল্কের কারণে এই রপ্তানির বেশিরভাগই অলাভজনক হয়ে পড়বে। জাপানি ব্রোকারেজ ফার্ম নোমুরার মতে, এটি এক ধরনের ‘বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা’র (Trade Embargo) মতো, যা রাতারাতি অনেক ভারতীয় পণ্যের রপ্তানি বন্ধ করে দেবে। এর ফলে টেক্সটাইল, জুয়েলারি ও অন্যান্য শ্রম-নিবিড় শিল্পে বহু মানুষ কাজ হারাতে পারে।

ভারতের জিডিপির ২.২ শতাংশ আসে আমেরিকার বাজার থেকে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই শুল্কের ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে।

ভারতের কৌশলগত অবস্থান ও সম্ভাব্য নতুন জোট
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ভারতকে তাদের কৌশলগত সম্পর্কগুলো নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। দিল্লির থিংকট্যাংক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (GTRI) অজয় শ্রীবাস্তব মনে করেন, এই ঘটনার পর রাশিয়া, চীন এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।

এ মাসের শেষে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চীন সফরের কথা রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই সম্মেলন থেকেই রাশিয়া-ভারত-চীন একটি নতুন ত্রিপাক্ষিক অক্ষের সূচনা হতে পারে। পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ শুভ্রকমল দত্তের মতে, ট্রাম্পের ‘ঔদ্ধত্য’ই এই ধরনের একটি জোট তৈরির পথ খুলে দিয়েছে।

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন
মার্কিন চাপের মুখে ভারত রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে রাশ টানতে পারে এমন গুঞ্জন উঠলেও, প্রধানমন্ত্রী মোদি শুক্রবার এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন যে, ভারত ও রাশিয়ার ‘বিশেষ সম্পর্ক’ অক্ষুণ্ণ থাকবে। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে তার টেলিফোনে বিশদ আলোচনা হয়েছে এবং পুতিন এ বছরই ভারত সফরে আসছেন।

অন্যদিকে, আমেরিকা ও ভারতের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে, তবে শুল্ক বৃদ্ধির কারণে তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর উর্জিত প্যাটেল সতর্ক করেছেন, এই আলোচনা ব্যর্থ হলে দুই দেশের মধ্যে ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ শুরু হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে ভারত কি মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে, নাকি রপ্তানিকারকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেবে, তা দেখার বিষয়। তবে কংগ্রেস নেতা শশী থারুর মনে করেন, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন দেশ হিসেবে ভারতেরও পাল্টা শুল্ক আরোপ করা উচিত।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

মার্কিন শুল্ক: সংকটে ভারতের অর্থনীতি, জিডিপিতে বড় আঘাতের শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৯:২৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫

রাশিয়া থেকে তেল কেনার জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট মার্কিন শুল্ক ৫০ শতাংশে উন্নীত হচ্ছে, যা আগামী ২৭শে আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপের পর ভারতের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত ভারতের রপ্তানি বাণিজ্য ও সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বড় আঘাত। ভারত বর্তমানে বছরে প্রায় ৮৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমেরিকায় রপ্তানি করে। ৫০ শতাংশ শুল্কের কারণে এই রপ্তানির বেশিরভাগই অলাভজনক হয়ে পড়বে। জাপানি ব্রোকারেজ ফার্ম নোমুরার মতে, এটি এক ধরনের ‘বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা’র (Trade Embargo) মতো, যা রাতারাতি অনেক ভারতীয় পণ্যের রপ্তানি বন্ধ করে দেবে। এর ফলে টেক্সটাইল, জুয়েলারি ও অন্যান্য শ্রম-নিবিড় শিল্পে বহু মানুষ কাজ হারাতে পারে।

ভারতের জিডিপির ২.২ শতাংশ আসে আমেরিকার বাজার থেকে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই শুল্কের ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে।

ভারতের কৌশলগত অবস্থান ও সম্ভাব্য নতুন জোট
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ভারতকে তাদের কৌশলগত সম্পর্কগুলো নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। দিল্লির থিংকট্যাংক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (GTRI) অজয় শ্রীবাস্তব মনে করেন, এই ঘটনার পর রাশিয়া, চীন এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।

এ মাসের শেষে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চীন সফরের কথা রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই সম্মেলন থেকেই রাশিয়া-ভারত-চীন একটি নতুন ত্রিপাক্ষিক অক্ষের সূচনা হতে পারে। পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ শুভ্রকমল দত্তের মতে, ট্রাম্পের ‘ঔদ্ধত্য’ই এই ধরনের একটি জোট তৈরির পথ খুলে দিয়েছে।

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন
মার্কিন চাপের মুখে ভারত রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে রাশ টানতে পারে এমন গুঞ্জন উঠলেও, প্রধানমন্ত্রী মোদি শুক্রবার এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন যে, ভারত ও রাশিয়ার ‘বিশেষ সম্পর্ক’ অক্ষুণ্ণ থাকবে। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে তার টেলিফোনে বিশদ আলোচনা হয়েছে এবং পুতিন এ বছরই ভারত সফরে আসছেন।

অন্যদিকে, আমেরিকা ও ভারতের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে, তবে শুল্ক বৃদ্ধির কারণে তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর উর্জিত প্যাটেল সতর্ক করেছেন, এই আলোচনা ব্যর্থ হলে দুই দেশের মধ্যে ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ শুরু হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে ভারত কি মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে, নাকি রপ্তানিকারকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেবে, তা দেখার বিষয়। তবে কংগ্রেস নেতা শশী থারুর মনে করেন, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন দেশ হিসেবে ভারতেরও পাল্টা শুল্ক আরোপ করা উচিত।