ঢাকা ০২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 103

সংগঠনিক শৃঙ্খলার জন্য পরিচিত দল হিসেবে দাবি করা জামায়াতে ইসলামীর ভেতরেই এবার ফুটল অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পদ-পদবির হিংসাত্মক রূপ। কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নতুন কমিটি গঠন নিয়ে শীর্ষ নেতাদের বিরোধ গড়িয়েছে ককটেল বিস্ফোরণ ও প্রকাশ্যে গাড়ি ভাঙচুরে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর ব্যস্ততম মোগলটুলীস্থ মহানগর জামায়াতের প্রধান কার্যালয়ে এ নজিরবিহীন তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিলে খবর পেয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবস্থান নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পদ বাগানোর গুঞ্জন ও ককটেল তাণ্ডব

দলীয় ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ ও মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চলছিল। বুধবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলাকালে সেই চাপা ক্ষোভ আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ে।

সূত্র নিশ্চিত করেছে, বর্তমান মহানগর সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান নতুন কমিটিতে ‘আমির’ পদে আসীন হতে পারেন—এমন খবর ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে বিরোধী বলয় তীব্র ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বুধবার রাতেই নতুন কমিটি গঠনের ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। অভিযোগ উঠেছে, সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান কৌশলে কেবল তাঁর পছন্দের অনুসারীদের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

এই খবর ছড়িয়ে পড়ামাত্রই বিরোধী পক্ষের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে তাণ্ডব শুরু করেন। এ সময় কার্যালয়ের সামনে থাকা সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের গাড়িটি বেধড়ক পিটিয়ে ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে কার্যালয়ের ছাদে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

নেতাদের অভিযোগ ও গোপনীয়তার চেষ্টা

ঘটনা ঘটার পরপরই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তীব্র আতঙ্কে সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান নিজেই কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ফোন করে সাহায্য চান। দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, মহানগর জামায়াতের সহ-সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন এবং দাওয়াহ ও তথ্য সম্পাদক হোসেনের অনুসারীদের বিরুদ্ধেই এই গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল হামলায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার তীব্র অভিযোগ উঠেছে।

তবে ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সহ-সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন এবং ভুক্তভোগী সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁদের কারও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ দূরভিসন্ধি ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেন বলেন, “এটা পুরোপুরি আমাদের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা পরে সমন্বিতভাবে মিডিয়ায় ব্রিফিং দেব। বর্তমানে আমাদের মিটিং চলছে।”

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, “সংঘাত ও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে মোগলটুলী কার্যালয় এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ভেতরে জামায়াতের ঊর্ধ্বতন নেতারা বৈঠক করছেন, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে।”

জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ

আপডেট সময় : ০৯:০০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

সংগঠনিক শৃঙ্খলার জন্য পরিচিত দল হিসেবে দাবি করা জামায়াতে ইসলামীর ভেতরেই এবার ফুটল অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পদ-পদবির হিংসাত্মক রূপ। কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নতুন কমিটি গঠন নিয়ে শীর্ষ নেতাদের বিরোধ গড়িয়েছে ককটেল বিস্ফোরণ ও প্রকাশ্যে গাড়ি ভাঙচুরে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর ব্যস্ততম মোগলটুলীস্থ মহানগর জামায়াতের প্রধান কার্যালয়ে এ নজিরবিহীন তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিলে খবর পেয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবস্থান নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পদ বাগানোর গুঞ্জন ও ককটেল তাণ্ডব

দলীয় ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ ও মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চলছিল। বুধবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলাকালে সেই চাপা ক্ষোভ আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ে।

সূত্র নিশ্চিত করেছে, বর্তমান মহানগর সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান নতুন কমিটিতে ‘আমির’ পদে আসীন হতে পারেন—এমন খবর ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে বিরোধী বলয় তীব্র ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বুধবার রাতেই নতুন কমিটি গঠনের ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। অভিযোগ উঠেছে, সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান কৌশলে কেবল তাঁর পছন্দের অনুসারীদের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

এই খবর ছড়িয়ে পড়ামাত্রই বিরোধী পক্ষের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে তাণ্ডব শুরু করেন। এ সময় কার্যালয়ের সামনে থাকা সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের গাড়িটি বেধড়ক পিটিয়ে ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে কার্যালয়ের ছাদে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

নেতাদের অভিযোগ ও গোপনীয়তার চেষ্টা

ঘটনা ঘটার পরপরই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তীব্র আতঙ্কে সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান নিজেই কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ফোন করে সাহায্য চান। দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, মহানগর জামায়াতের সহ-সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন এবং দাওয়াহ ও তথ্য সম্পাদক হোসেনের অনুসারীদের বিরুদ্ধেই এই গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল হামলায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার তীব্র অভিযোগ উঠেছে।

তবে ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সহ-সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন এবং ভুক্তভোগী সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁদের কারও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ দূরভিসন্ধি ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেন বলেন, “এটা পুরোপুরি আমাদের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা পরে সমন্বিতভাবে মিডিয়ায় ব্রিফিং দেব। বর্তমানে আমাদের মিটিং চলছে।”

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, “সংঘাত ও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে মোগলটুলী কার্যালয় এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ভেতরে জামায়াতের ঊর্ধ্বতন নেতারা বৈঠক করছেন, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে।”