ঢাকা ১০:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিককে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে মাথায়-বুকে পরপর ৫টি গুলি

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৫৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 301

সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা কলমকে স্তব্ধ করে দিতে আবারও রাজপথে ঝরল রক্ত। নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (প্রতিনিধি, ‘রূপসী বাংলা’ টিভি) নামের এক সাংবাদিককে গুলি করে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজারে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত সাংবাদিক আলিফ ফকির ফেসবুক পেজ ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’-এর মাধ্যমে এলাকায় সক্রিয় সাংবাদিকতা চালিয়ে আসছিলেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা এলাকায় হলেও তিনি দুর্গাপুরের বিরিশিরি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে পরিবারসহ বসবাস করতেন।

পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে ৫টি গুলি ও নাটকীয় পলায়ন

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উতরাইল বাজারের একটি দোকানে স্বাভাবিকভাবে বসে কথা বলছিলেন লুৎফুজ্জামান আলিফ। এমন সময় একটি মোটরসাইকেলে চেপে দুই সশস্ত্র যুবক দোকানে এসে আচমকা অস্ত্র উঁচিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে একের পর এক গুলি চালাতে থাকে। গুলির বিকট শব্দে বাজারজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা তাড়া করার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে দ্রুত বাইকে চেপে অন্ধকার গলিপথে চম্পট দেয়। রক্তে ভেসে যাওয়া আলিফকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পথিমধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ খান সাংবাদিক আলিফ ফকিরের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “নিহত সাংবাদিকের মাথা, গলা ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মোট পাঁচটি গুলির আঘাত পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে।”

আগের হামলার সূত্র ও মাদকের কালো থাবা

অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও লুৎফুজ্জামান আলিফের ওপর পৈশাচিক হামলা চালানো হয়েছিল। গত ১০ নভেম্বর দুপুরে উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাঁকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। সে সময় তাঁর সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী বাঁচাতে গেলে তাঁকেও অস্ত্র উঁচিয়ে ধাওয়া দিয়েছিল ঘাতক চক্রটি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তঘেঁষা সোমেশ্বরী নদী ও দুর্গাপুরের মাদক চোরাচালান, বালুমহাল ও অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়া ও পেজে নিয়মিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও পোস্ট দিতেন সাংবাদিক আলিফ। ধারণা করা হচ্ছে, সেই পুরোনো শত্রুতা এবং মাদক সিন্ডিকেটের স্বার্থে আঘাত লাগার কারণেই তাকে পথ থেকে সরিয়ে দিল ঘাতকেরা।

এদিকে ঘটনা শোনার পরপরই নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি জানান, “হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা যুক্ত তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের বিশেষ টিম মাঠে নেমেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে জোনজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে।”

সাংবাদিককে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে মাথায়-বুকে পরপর ৫টি গুলি

আপডেট সময় : ১২:৫৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা কলমকে স্তব্ধ করে দিতে আবারও রাজপথে ঝরল রক্ত। নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (প্রতিনিধি, ‘রূপসী বাংলা’ টিভি) নামের এক সাংবাদিককে গুলি করে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজারে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত সাংবাদিক আলিফ ফকির ফেসবুক পেজ ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’-এর মাধ্যমে এলাকায় সক্রিয় সাংবাদিকতা চালিয়ে আসছিলেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা এলাকায় হলেও তিনি দুর্গাপুরের বিরিশিরি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে পরিবারসহ বসবাস করতেন।

পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে ৫টি গুলি ও নাটকীয় পলায়ন

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উতরাইল বাজারের একটি দোকানে স্বাভাবিকভাবে বসে কথা বলছিলেন লুৎফুজ্জামান আলিফ। এমন সময় একটি মোটরসাইকেলে চেপে দুই সশস্ত্র যুবক দোকানে এসে আচমকা অস্ত্র উঁচিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে একের পর এক গুলি চালাতে থাকে। গুলির বিকট শব্দে বাজারজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা তাড়া করার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে দ্রুত বাইকে চেপে অন্ধকার গলিপথে চম্পট দেয়। রক্তে ভেসে যাওয়া আলিফকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পথিমধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ খান সাংবাদিক আলিফ ফকিরের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “নিহত সাংবাদিকের মাথা, গলা ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মোট পাঁচটি গুলির আঘাত পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে।”

আগের হামলার সূত্র ও মাদকের কালো থাবা

অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও লুৎফুজ্জামান আলিফের ওপর পৈশাচিক হামলা চালানো হয়েছিল। গত ১০ নভেম্বর দুপুরে উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাঁকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। সে সময় তাঁর সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী বাঁচাতে গেলে তাঁকেও অস্ত্র উঁচিয়ে ধাওয়া দিয়েছিল ঘাতক চক্রটি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তঘেঁষা সোমেশ্বরী নদী ও দুর্গাপুরের মাদক চোরাচালান, বালুমহাল ও অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়া ও পেজে নিয়মিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও পোস্ট দিতেন সাংবাদিক আলিফ। ধারণা করা হচ্ছে, সেই পুরোনো শত্রুতা এবং মাদক সিন্ডিকেটের স্বার্থে আঘাত লাগার কারণেই তাকে পথ থেকে সরিয়ে দিল ঘাতকেরা।

এদিকে ঘটনা শোনার পরপরই নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি জানান, “হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা যুক্ত তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের বিশেষ টিম মাঠে নেমেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে জোনজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে।”