ঢাকা ০৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে হলফনামায় ‘মিথ্যা’ তথ্যের অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৩:০৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 1378

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী) আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার জমা দেওয়া হলফনামায় ‘অসম্পূর্ণ, ভুল ও মিথ্যা তথ্য’ প্রদানের অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী।

অভিযোগের মূলে যা আছে:

অভিযোগকারীদের দাবি, খন্দকার নাসিরুল ইসলাম নিজের নামে কোনো আয়কর নথি (TIN) বা ইনকাম ট্যাক্স সার্টিফিকেট জমা দেননি। পরিবর্তে তিনি ‘খন্দকার নাসিউল ইসলাম’ নামে অন্য এক ব্যক্তির আয়কর নথি সংযুক্ত করেছেন। এমনকি ওই নথির সম্পদের তথ্যের সাথে নাসিরের হলফনামার তথ্যে বিশাল গরমিল পাওয়া গেছে।

সম্পদ ও ঋণের তথ্যে বড় গরমিল:

১. সম্পদ: ‘খন্দকার নাসিউল’ এর আয়কর নথিতে সম্পদ দেখানো হয়েছে মাত্র ৪৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। বিপরীতে বিএনপি প্রার্থী খন্দকার নাসিরের হলফনামায় সম্পদ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৮৫ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা। ২. ঋণ: নাসিরের হলফনামায় দায় (ঋণ) দেখানো হয়েছে ১৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, অথচ সংযুক্ত আয়কর নথিতে ব্যাংক ঋণ দেখানো হয়েছে মাত্র ৫ লাখ টাকা। ৩. ঋণখেলাপির অভিযোগ: খন্দকার নাসিরুল ইসলাম ঢাকা ব্যাংক ফরিদপুর শাখার একজন ‘ঋণখেলাপি’ বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য:

এনডিএফ জোটের প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এই অভিযোগ করেন। আবু জাফর বলেন, “নিজ নামে আয়কর রিটার্ন না দেওয়া এবং হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া একটি ফৌজদারি অপরাধ। আমরা আশা করছি রিটার্নিং কর্মকর্তা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।”

রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া:

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা জানান, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা কারো চেহারা দেখে নয়, বরং আইন অনুযায়ী যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তাই নেব।”

এদিকে, গুরুতর এই অভিযোগের বিষয়ে খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এই হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে।

ফরিদপুরে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে হলফনামায় ‘মিথ্যা’ তথ্যের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:০৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী) আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার জমা দেওয়া হলফনামায় ‘অসম্পূর্ণ, ভুল ও মিথ্যা তথ্য’ প্রদানের অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী।

অভিযোগের মূলে যা আছে:

অভিযোগকারীদের দাবি, খন্দকার নাসিরুল ইসলাম নিজের নামে কোনো আয়কর নথি (TIN) বা ইনকাম ট্যাক্স সার্টিফিকেট জমা দেননি। পরিবর্তে তিনি ‘খন্দকার নাসিউল ইসলাম’ নামে অন্য এক ব্যক্তির আয়কর নথি সংযুক্ত করেছেন। এমনকি ওই নথির সম্পদের তথ্যের সাথে নাসিরের হলফনামার তথ্যে বিশাল গরমিল পাওয়া গেছে।

সম্পদ ও ঋণের তথ্যে বড় গরমিল:

১. সম্পদ: ‘খন্দকার নাসিউল’ এর আয়কর নথিতে সম্পদ দেখানো হয়েছে মাত্র ৪৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। বিপরীতে বিএনপি প্রার্থী খন্দকার নাসিরের হলফনামায় সম্পদ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৮৫ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা। ২. ঋণ: নাসিরের হলফনামায় দায় (ঋণ) দেখানো হয়েছে ১৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, অথচ সংযুক্ত আয়কর নথিতে ব্যাংক ঋণ দেখানো হয়েছে মাত্র ৫ লাখ টাকা। ৩. ঋণখেলাপির অভিযোগ: খন্দকার নাসিরুল ইসলাম ঢাকা ব্যাংক ফরিদপুর শাখার একজন ‘ঋণখেলাপি’ বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য:

এনডিএফ জোটের প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এই অভিযোগ করেন। আবু জাফর বলেন, “নিজ নামে আয়কর রিটার্ন না দেওয়া এবং হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া একটি ফৌজদারি অপরাধ। আমরা আশা করছি রিটার্নিং কর্মকর্তা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।”

রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া:

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা জানান, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা কারো চেহারা দেখে নয়, বরং আইন অনুযায়ী যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তাই নেব।”

এদিকে, গুরুতর এই অভিযোগের বিষয়ে খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এই হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে।