খুন হওয়ার আশঙ্কায় দোলন: ফরিদপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েই বিপদে
- আপডেট সময় : ১২:২৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 540
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ফরিদপুর-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করে নিজের জীবন এবং সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দৈনিক ঢাকা টাইমসের সম্পাদক, কাঞ্চন মুন্সি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলন।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এই গুরুতর আশঙ্কার কথা জানান।
আরিফুর রহমান দোলন তার স্ট্যাটাসে লেখেন, “সবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরে সাধারণ মানুষের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে পরম করুণাময় আল্লাহপাকের হুকুমে এবং আমার মায়ের নির্দেশে ফরিদপুর-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছি। আর তাতেই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছে কেউ কেউ।”
বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
দোলন অভিযোগ করেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম চান না তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। দোলনের দাবি, নাসিরুল ইসলাম ইতোমধ্যে একটি গোপন পরিকল্পনা করেছেন। এই পরিকল্পনার কথা তিনি একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হয়েছেন।
দোলন বলেন, “নাসির ভাই তার দুষ্টু অনুসারীদের বলেছেন, একটি নাশকতা ঘটিয়ে সেই ঘটনায় আমাকে ও আমার কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীর নামে মামলা করবেন।” আরও ভয়াবহ অভিযোগ করে তিনি বলেন, “আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং খুন করার পরিকল্পনাও রয়েছে।”
প্রশাসন ও ইসির দৃষ্টি আকর্ষণ
এই প্রেক্ষিতে আরিফুর রহমান দোলন সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সব গোয়েন্দা সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি ফরিদপুর-১ আসনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সর্বোচ্চ নজরদারি, সতর্কতা ও পর্যাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি তার অহিংস নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমি একজন পেশাদার সাংবাদিক ও সম্পাদক। সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সব সময় শতভাগ অহিংস নীতি অবলম্বন করি। কিন্তু আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারি— এটা শোনার পর বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী ও তার কতিপয় সমর্থক বহুমুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।”
পুরোনো নির্বাচনের প্রসঙ্গ
দোলন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর খন্দকার নাসিরুল ইসলাম নিজেই তার অফিসে এসে তাকে (দোলনকে) দলে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরই নাসিরুল ইসলাম তাকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিতে উঠেপড়ে লেগেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে যখন তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন, তখন নাসিরুল ইসলাম নিজেই উপযাজক হয়ে ঈগল প্রতীকের পক্ষে কাজ করার বিষয়ে অঙ্গীকার করেছিলেন। কাশিয়ানী উপজেলার সাম্পান রেস্টুরেন্ট ও ফরিদপুরের লাজ ফার্মায় তাদের একাধিক বৈঠক হয়েছে।
‘প্রশাসন সামলানোর’ অভিযোগ
আরিফুর রহমান দোলন অভিযোগ করেন, খন্দকার নাসিরুল ইসলাম তার অনুসারীদের বলেছেন যে, তিনি স্থানীয় প্রশাসন ‘সামলাবেন’ এবং ‘ফেভার নেবেন’। দোলন বলেন, “আমি বিশ্বাস করতে চাই না, তবে তিনি কারণে-অকারণে ফোন করে প্রশাসনে নিজের অবস্থান শক্ত— এটা বোঝাতে চাইছেন।” তিনি আরও দাবি করেন, নাসিরুল ইসলাম সরকারের কিছু কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বীকে হেনস্থা করার সহযোগিতা চাইছেন।
শেষে আরিফুর রহমান দোলন বলেন, “আমি প্রার্থী হলে নাসির ভাইয়ের রোষানলে পড়ে খুন হয়ে যেতে পারি।… মানুষের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে আমি ফরিদপুর-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছি। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।”
এ বিষয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।





















