‘ইটের আঘাতে স্ত্রী-সন্তান খুন, স্বামীর ঝুলন্ত লাশ!’ নেপথ্যে কিসের অভিশাপ?
- আপডেট সময় : ০৬:১৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 110
মাঘ বা ভাদ্রের প্রচণ্ড ঘাম নয়, সেই ঘরের চার দেয়ালে তখন জমাট বেঁধে ছিল কেবলই গা শিউরে ওঠা রক্তের গন্ধ! ঘরের মেঝেতে নিথর পড়ে রয়েছেন কুড়ি বছরের এক তরুণী মা আর তাঁর মাত্র দেড় বছরের নিষ্পাপ কন্যাশিশু। পাশেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ইট রক্তে লাল। আর ঘরের কাঠের আড়ের সঙ্গে ঝুলে রয়েছেন ঘরেরই কর্তা—তিন মাস আগে বিদেশ থেকে ফেরা চার কুড়ির প্রৌঢ়ত্বের দোরগোড়ায় দাঁড়ানো এক পুরুষ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি গ্রাম থেকে একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মরদেহ উদ্ধারের পর পুরো এলাকায় নেমে এসেছে থমথমে নীরবতা ও গা ছমছমে আতঙ্ক।
নিহতরা হলেন—জান্নাকান্দি গ্রামের প্রবাসফেরত ইকরাম হোসেন (৪০), তাঁর স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা আক্তার (২০) এবং তাঁদের অবোধ দেড় বছরের কন্যাসন্তান আলীজা আক্তার।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক নির্জন প্রহরে কোনো এক উন্মাদনায় ইট দিয়ে সজোরে আঘাত করে স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা ও ফুটফুটে শিশু আলীজাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন ইকরাম। এরপর ঘরের আড় কিংবা ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে নিজের জীবনও শেষ করে দেন তিনি।
বিদেশ ফেরত স্বামীর হাতেই শেষ সংসার, নেপথ্যে রহস্য
স্থানীয় সূত্রে খবর, নিহত ইকরাম দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। মাত্র তিন মাস আগেই বিদেশ থেকে গ্রামের বাড়িতে ফেরেন তিনি। কিন্তু এমন কী মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন বা অদৃশ্য বিষাদ বাসা বেঁধেছিল যে, প্রবাস থেকে ফিরে নিজের হাতেই নিজের বুনে যাওয়া সংসার ছারখার করে দিলেন—তা ভেবেই পাড়ার প্রতিবেশীরা বাক্রুদ্ধ।
শনিবার সকালে পরিবারের লোকজন দীর্ঘ সময় সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের ভেতরে উঁকি দিলে দেখতে পান সেই বিভীষিকাময় দৃশ্য। সঙ্গে সঙ্গেই খবর দেওয়া হয় থানায়।
মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তস্নাত ঘর থেকে তিনজনের গলিত-নিথর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহরম আলী এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান—
“প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতে কোনো এক সময় ঘরের শক্ত ইট দিয়ে আঘাত করে প্রিয়াঙ্কা ও তাঁর দেড় বছরের সন্তানকে হত্যা করেন ইকরাম হোসেন। পরবর্তীতে তিনি নিজে সিলিং ফ্যান বা আড়ের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আত্মহত্যা করেন। পুলিশ আলামত সংগ্রহ করেছে এবং ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে।”











