আইনের আশ্রয় নিলে প্রাণ শেষ: নগরকান্দায় প্রবাসীর ঘরে হুমকি ও লুটের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৮:৫৬:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- / 127
স্বামী প্রবাসের মাটিতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রক্ত পানি করছেন পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে। আর ঠিক সেই সুযোগেই দেশের মাটিতে প্রবাসীর বসতঘরে চলল বেপরোয়া তাণ্ডব! শুধু লকার ভেঙে সোনার চেইন আর নগদ টাকাই নয়, রেহাই পেল না গৃহপালিত রাজহাঁসটিও! শেষমেশ গৃহবধূকে ভিটেমাটি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে দেওয়া হলো চরম প্রাণনাশের হুমকি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার জুঙ্গুরদী গ্রামে ঘটে যাওয়া এই অমানবিক ও বিতর্কিত ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ সাবিনা বেগম (৩৮)।
ভুক্তভোগী সাবিনা বেগমের স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে (কাতারে) কর্মরত। পরিবারের দাবি, তাঁদের বসতবাড়ির জমি ও মালিকানা নিয়ে স্থানীয় স্বজনদের সাথেই দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ চলছিল।
হামলা, লুটপাট ও হুমকি: অভিযোগের বিবরণ
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে সাবিনা বেগম উল্লেখ করেন, গত ১ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে তিনি নিজ ঘরে একা অবস্থান করছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী ও আত্মীয় পাপিয়া খানম (৫৩) এবং মুন্নি খানম (৪০)-এর নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল আচমকা তাঁর ঘরে প্রবেশ করে।
অভিযোগ মতে, ঘরে ঢুকে পুরো বসতঘর লণ্ডভণ্ড করে হামলাকারীরা। একপর্যায়ে ঘরের স্টিলের লকার ভেঙে প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন (যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা), নগদ অর্থ এবং সাবিনার আদরের একটি রাজহাঁসসহ প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।
শুধু মালামাল লুটেই ক্ষান্ত হয়নি অভিযুক্তরা; সাবিনা বেগমকে চরম গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভিটেমাটি থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা নিয়ে পুলিশ বা আইনের আশ্রয় নিলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জমির ইতিহাস ও দেরিতে ডায়েরির কারণ
অভিযোগে সাবিনা বেগম জমিটির ভৌগোলিক ও আইনি ইতিহাস তুলে ধরে জানান—বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভূমিহীন বন্দোবস্ত কবুলিয়াতের মাধ্যমে ১৯৯৩ সাল থেকে ৯৯ বছরের জন্য তাঁর শ্বশুর ওই জমি ভোগদখলের অধিকার পান। পরবর্তীতে বিভিন্ন আইনি দলিলের মাধ্যমে পরিবারটি সেখানে বসতঘর নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছে।
ঘটনার পর প্রবাসী স্বামীকে বিষয়টি জানানো এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে দরবার-শালিসের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করায় থানায় অভিযোগ জানাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী। তিনি অবিলম্বে নগরকান্দা থানা পুলিশের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
‘পুরোটাই ভাবির সাজানো নাটক!’ বিবাদীর জোরালো পাল্টা দাবি
তবে ভাবি সাবিনা বেগমের আনা সমস্ত অভিযোগ এক বাক্যে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত বিবাদী পাপিয়া আক্তার। তাঁর দাবি, এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ঘটনা।
পাপিয়া আক্তার পাল্টা তোপ দেগে বলেন—
“সাবিনা আমার আপন ভাইয়ের স্ত্রী (ভাবি)। উনি যে জমিতে ও যে ঘরে বাস করছেন, তা সম্পূর্ণ আমার জমি এবং আমার তৈরি করা ঘর। আমাকে সমাজে মানহানি করা ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য উনি এসব মিথ্যা চুরির নাটক সাজিয়েছেন।”
নগরকান্দা থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার পেছনের সত্যতা যাচাই ও জমি জমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











