ঢাকা ০৪:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজেন্দ্র কলেজের পুকুর দখল করে পাকা স্থাপনা: কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৫০:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
  • / 652

ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের দৃষ্টিনন্দন পুকুরের একটি অংশ ভরাট করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। যদিও অভিযুক্তদের দাবি, তারা পৌরসভা থেকে লিজ নেওয়া জায়গায় নিয়ম মেনেই কাজ করছেন।

সরেজমিন চিত্র ও দখলের প্রস্তুতি

সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের পূর্বপাশে বীর মুক্তিযোদ্ধা নওফেল গেট সংলগ্ন পুকুরটির পাড়ে ইতোমধ্যে চারটি ঝুপড়ি ও টিনশেড দোকান তৈরি হয়েছে। বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট অংশে মাটি ফেলে ভরাট করা হয়েছে। সেখানে আরসিসি পিলার বসানোর জন্য অন্তত পাঁচটি বড় গর্ত খোঁড়া হয়েছে, যা একটি স্থায়ী পাকা ভবন নির্মাণের স্পষ্ট প্রস্তুতি।

অভিযুক্তদের পরিচয় ও লিজ বিতর্ক

২০১১ ও ২০১২ সালে সাবেক পৌর মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথুর স্বাক্ষরে এই জায়গাটি শাহীন তালুকদার ও মেহেদী হাসান শামীম তালুকদার নামে দুই ভাইকে লিজ দেওয়া হয়। বর্তমানে এই নির্মাণকাজের তদারকি করছেন মেহেদী হাসান শামীম তালুকদার, যিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক।

শামীম তালুকদার তার পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, “শাহীন তালুকদার একজন প্রতিবন্ধী এবং আমার প্রতিবেশী। ১২ বছর আগে তারা লিজ নিয়েছেন, আমি তাদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে ঘর তুলে দিচ্ছি। আমরা কলেজের কোনো জায়গা দখল করছি না, সবকিছু বৈধ কাগজেই হচ্ছে।”

অধ্যক্ষের অভিযোগ ও প্রশাসনের ভূমিকা

কলেজ অধ্যক্ষ এস এম আবদুল হালিম অভিযোগ করে বলেন, “পৌরসভার লিজের সীমানা ছাড়িয়ে তারা কলেজের জায়গা দখল করে পাকা স্থাপনা তুলছে। আমি ঈদের ছুটিতে গ্রামে থাকলেও বিষয়টি জেনেছি এবং পৌর প্রশাসককে জানিয়েছি। দখলকারীরা আমাকে ফোন করে বলেছে—বিগত ১৭ বছরে তারা কিছু করতে পারেনি, এখন তাদের একটু সুযোগ দিতে হবে। আমি শুনেছি এই দখলের পেছনে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় নেতারাও জড়িত।”

ফরিদপুর পৌর প্রশাসক (স্থানীয় সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক) মো. সোহরাব হোসেন এ বিষয়ে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর কাজ আপাতত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। লিজের কাগজগুলো যাচাই-বাছাই করার পর ঈদের পরে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজেন্দ্র কলেজের পুকুর দখল করে পাকা স্থাপনা: কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:৫০:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের দৃষ্টিনন্দন পুকুরের একটি অংশ ভরাট করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। যদিও অভিযুক্তদের দাবি, তারা পৌরসভা থেকে লিজ নেওয়া জায়গায় নিয়ম মেনেই কাজ করছেন।

সরেজমিন চিত্র ও দখলের প্রস্তুতি

সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের পূর্বপাশে বীর মুক্তিযোদ্ধা নওফেল গেট সংলগ্ন পুকুরটির পাড়ে ইতোমধ্যে চারটি ঝুপড়ি ও টিনশেড দোকান তৈরি হয়েছে। বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট অংশে মাটি ফেলে ভরাট করা হয়েছে। সেখানে আরসিসি পিলার বসানোর জন্য অন্তত পাঁচটি বড় গর্ত খোঁড়া হয়েছে, যা একটি স্থায়ী পাকা ভবন নির্মাণের স্পষ্ট প্রস্তুতি।

অভিযুক্তদের পরিচয় ও লিজ বিতর্ক

২০১১ ও ২০১২ সালে সাবেক পৌর মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথুর স্বাক্ষরে এই জায়গাটি শাহীন তালুকদার ও মেহেদী হাসান শামীম তালুকদার নামে দুই ভাইকে লিজ দেওয়া হয়। বর্তমানে এই নির্মাণকাজের তদারকি করছেন মেহেদী হাসান শামীম তালুকদার, যিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক।

শামীম তালুকদার তার পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, “শাহীন তালুকদার একজন প্রতিবন্ধী এবং আমার প্রতিবেশী। ১২ বছর আগে তারা লিজ নিয়েছেন, আমি তাদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে ঘর তুলে দিচ্ছি। আমরা কলেজের কোনো জায়গা দখল করছি না, সবকিছু বৈধ কাগজেই হচ্ছে।”

অধ্যক্ষের অভিযোগ ও প্রশাসনের ভূমিকা

কলেজ অধ্যক্ষ এস এম আবদুল হালিম অভিযোগ করে বলেন, “পৌরসভার লিজের সীমানা ছাড়িয়ে তারা কলেজের জায়গা দখল করে পাকা স্থাপনা তুলছে। আমি ঈদের ছুটিতে গ্রামে থাকলেও বিষয়টি জেনেছি এবং পৌর প্রশাসককে জানিয়েছি। দখলকারীরা আমাকে ফোন করে বলেছে—বিগত ১৭ বছরে তারা কিছু করতে পারেনি, এখন তাদের একটু সুযোগ দিতে হবে। আমি শুনেছি এই দখলের পেছনে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় নেতারাও জড়িত।”

ফরিদপুর পৌর প্রশাসক (স্থানীয় সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক) মো. সোহরাব হোসেন এ বিষয়ে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর কাজ আপাতত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। লিজের কাগজগুলো যাচাই-বাছাই করার পর ঈদের পরে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।