ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাসের মাত্র ৮০ টাকায় জীবন বদল: ফরিদপুরে আলো ছড়াচ্ছে স্বপ্নছোঁয়া ফাউন্ডেশন

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৫:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 149

আমাদের চারপাশের সমাজে বহু মানুষ অর্থাভাব ও প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে কেবল বেঁচে থাকে; বুকভরা সুন্দর স্বপ্নগুলোকে জীবন্ত রাখার সুযোগ তাদের হয় না। এই স্বপ্নহীন জীবনগুলোতে একটু আশার আলো জ্বালানোর এক পবিত্র তাগিদ থেকেই জন্ম হয়েছিল একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের—যার নাম ‘স্বপ্নছোঁয়া’ ফাউন্ডেশন।

প্রথাগত দান-খয়রাতের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে স্থায়ী ও টেকসই সামাজিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে তরুণদের গড়া এই সংগঠনটি আজ ফরিদপুর তথা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থার এক বিশাল প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

যেভাবে শুরু হয়েছিল স্বপ্নছোঁয়ার এই পথচলা

করোনা মহামারীর ভয়াল সেই দিনগুলোতে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষের চরম দুর্দশা খুব কাছ থেকে অবলোকন করেছিলেন বরিশাল ক্যাডেট কলেজের এক্স ক্যাডেট এবং ফরিদপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী খালিদ মাহমুদ সাজিদ। মানুষের জন্য বড় পরিসরে এবং স্থায়ী কিছু করার তীব্র তাগিদ থেকেই তিনি তাঁর মা এবং বন্ধু তামিম আহমেদ সিয়ামের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। ঠিক সেই সময়ে কূঁড়েঘর ব্যান্ডের ভোকালিস্ট তাসরিফ খানের নিয়মিত মানবিক অনুষ্ঠান ‘ইচ্ছেপূরণ’ দেখে সাজিদের স্বপ্নের ডালপালা আরও বিস্তৃত হতে শুরু করে।

পরবর্তীতে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে মা-বাবা ও বন্ধু সিয়ামকে যুক্ত করার পর, তিনি বন্ধু পাবনার সন্তান রাগিব সরকার অঙ্কনের কাছে এই মানবিক দাওয়াত নিয়ে যান। এভাবেই সবকিছুর মেলবন্ধনে ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে স্বপ্নছোঁয়া ফাউন্ডেশন।

বর্তমানে সংগঠনটির স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন ডাঃ মোশাররফ হোসেন এবং ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা খালিদ মাহমুদ সাজিদ। এছাড়া কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় ছাত্র শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির ফরিদপুর বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো হিমেল খাঁন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী, তরুণ উদ্যোক্তা এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত এই কাফেলা আজ সামাজিক পরিবর্তনের এক শক্তিশালী চালিকাশক্তি।

মাঠপর্যায়ের মানবিক কর্মকাণ্ড: ত্রাণ থেকে শিক্ষাবৃত্তি

এখন পর্যন্ত বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডোনেশন বা অনুদান না পেলেও, সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও নিজেদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় মাঠপর্যায়ে তাক লাগানোর মতো কাজ করে চলেছে স্বপ্নছোঁয়া ফাউন্ডেশন।

বন্যাদুর্গতদের পাশে: ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৯ লাখ ২১ হাজার ৪০ টাকা সংগ্রহ করে বন্যাদুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার, নৌকা এবং পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হয়। পাশাপাশি ফেনী ও লক্ষ্মীপুরে ২১ জনের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠিয়ে উদ্ধার কাজে অংশ নেয় সংগঠনটি।

রমজানের ইফতার ও ঈদ আনন্দ: ২০২৩ সাল থেকে শুরু করে প্রতি রমজানে ধারাবাহিকভায়ে ইফতার ও সাহরি বিতরণ করছে সংগঠনটি। ২০২৩ সালে ১০৬ প্যাকেট, ২০২৪ সালে ১৮৪ প্যাকেট, ২০২৫ সালে ৬৪৯ প্যাকেট এবং চলতি ২০২৬ সালে ৭১০ প্যাকেট ইফতার ও সাহরি বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ঈদ ও দুর্গাপূজায় অসহায় পরিবারগুলোকে প্যাকেজ উপহার দেওয়া এবং কোরবানি ঈদে অসচ্ছল শিশুদের নতুন জামার স্বপ্ন পূরণ করা হয়েছে।

চিকিৎসা ও রক্তদান সেবা: অদ্যাবধি ১৩ জন রোগীকে জরুরি রক্তদান করা হয়েছে। বিশেষ করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুর্ঘটনায় শিকার এক ব্যক্তির পা এবং এক কিশোরের দাঁতের অপারেশনসহ তাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহন করেছে স্বপ্নছোঁয়া ফাউন্ডেশন।

শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম: অর্থাভাবের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা যেন থমকে না যায়, সেজন্য বর্তমানে সাতজন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর স্থায়ী শিক্ষাবৃত্তির সমস্ত খরচ (স্কুল-কোচিংয়ের বেতন, টিউশন ফি, বই-খাতা ও স্কুলড্রেস) বহন করছে এই সংগঠন। এছাড়া শীতকালে অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

সদস্য সংগ্রহ ও সরকারি অনুমোদনের লড়াই

সংগঠনের মূল চালিকাশক্তি হলো সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র সঞ্চয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি মাসে সদস্যপ্রতি অন্তত ৮০ টাকা চাঁদার বিধান রাখা হয়েছে, যাতে সমাজের বিত্তবানদের পাশাপাশি একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত বা শিক্ষার্থীও এই মহৎ কাজের অংশীদার হতে পারেন। বর্তমানে সারা দেশে ১২৭ জন সক্রিয় সদস্য এই স্বপ্নযাত্রার সঙ্গে যুক্ত আছেন।

সংগঠনকে আরও সুদৃঢ় ও আইনগত ভিত্তি দিতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রধান কার্যালয় সংলগ্ন নগরকান্দা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে সরকারি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও দাপ্তরিক খামখেয়ালির কারণে এখনও কাঙ্ক্ষিত ছাড়পত্র বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাওয়া যায়নি। তবুও তরুণেরা দমে যাননি; সরকারি স্বীকৃতি পেলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আরও ব্যাপক সাড়া পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা।

আগামী ৫ বছরের লক্ষ্য ও ‘একটি পরিবার, একটি স্থায়ী আলো’ প্রকল্প

‘স্বপ্নছোঁয়া’ ফাউন্ডেশনকে কোনো সাময়িক ত্রাণ বিতরণকারী সংস্থায় আটকে রাখতে চান না এর উদ্যোক্তারা। আগামী ৫ বছরের মধ্যে সংগঠনটিকে শুধু ফরিদপুর নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের প্রতিটি কোণায় একটি ‘আশার বাতিঘর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তাঁরা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামী দিনে ‘একটি পরিবার, একটি স্থায়ী আলো’ শীর্ষক মেগা প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। যার মাধ্যমে কোনো অসহায় পরিবারকে কেবল একবেলার খাবার না দিয়ে, রিকশা, সেলাই মেশিন বা ক্ষুদ্র ব্যবসার মূলধন দিয়ে চিরতরে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা হবে। এছাড়া মেধাবীদের জন্য ‘স্বপ্নদীপ্ত শিক্ষাবৃত্তি’ এবং জরুরি চিকিৎসায় ‘জরুরি মানবিক তহবিল’ গঠনের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

পরিবর্তনের সারথি হতে আপনার আমন্ত্রণ

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবর্তন একা আসে না; এর জন্য দলবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। মাসের সামান্য ৮০ টাকা বা একবেলার চায়ের খরচ বাঁচানো অর্থ কোনো নিঃস্ব পরিবারের শেষ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠতে পারে।

দেশের যেকোনো প্রান্তের সচেতন নাগরিক, তরুণ সমাজ ও মানবিক মানুষ ইচ্ছে করলেই স্বপ্নছোঁয়া পরিবারের অংশ হতে পারেন। সংগঠনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ অথবা সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে যে কেউ এই স্বপ্নযাত্রার সারথি হতে পারবেন।

যোগাযোগের নম্বর: ০১৭২৭-২০৯১৫২ / ০১৭১২-৯৮৯৬৫৩ (WhatsApp উপলব্ধ)

ইমেইল: swapnochowafoundation23@gmail.com

মাসের মাত্র ৮০ টাকায় জীবন বদল: ফরিদপুরে আলো ছড়াচ্ছে স্বপ্নছোঁয়া ফাউন্ডেশন

আপডেট সময় : ০৭:৩৫:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

আমাদের চারপাশের সমাজে বহু মানুষ অর্থাভাব ও প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে কেবল বেঁচে থাকে; বুকভরা সুন্দর স্বপ্নগুলোকে জীবন্ত রাখার সুযোগ তাদের হয় না। এই স্বপ্নহীন জীবনগুলোতে একটু আশার আলো জ্বালানোর এক পবিত্র তাগিদ থেকেই জন্ম হয়েছিল একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের—যার নাম ‘স্বপ্নছোঁয়া’ ফাউন্ডেশন।

প্রথাগত দান-খয়রাতের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে স্থায়ী ও টেকসই সামাজিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে তরুণদের গড়া এই সংগঠনটি আজ ফরিদপুর তথা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থার এক বিশাল প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

যেভাবে শুরু হয়েছিল স্বপ্নছোঁয়ার এই পথচলা

করোনা মহামারীর ভয়াল সেই দিনগুলোতে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষের চরম দুর্দশা খুব কাছ থেকে অবলোকন করেছিলেন বরিশাল ক্যাডেট কলেজের এক্স ক্যাডেট এবং ফরিদপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী খালিদ মাহমুদ সাজিদ। মানুষের জন্য বড় পরিসরে এবং স্থায়ী কিছু করার তীব্র তাগিদ থেকেই তিনি তাঁর মা এবং বন্ধু তামিম আহমেদ সিয়ামের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। ঠিক সেই সময়ে কূঁড়েঘর ব্যান্ডের ভোকালিস্ট তাসরিফ খানের নিয়মিত মানবিক অনুষ্ঠান ‘ইচ্ছেপূরণ’ দেখে সাজিদের স্বপ্নের ডালপালা আরও বিস্তৃত হতে শুরু করে।

পরবর্তীতে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে মা-বাবা ও বন্ধু সিয়ামকে যুক্ত করার পর, তিনি বন্ধু পাবনার সন্তান রাগিব সরকার অঙ্কনের কাছে এই মানবিক দাওয়াত নিয়ে যান। এভাবেই সবকিছুর মেলবন্ধনে ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে স্বপ্নছোঁয়া ফাউন্ডেশন।

বর্তমানে সংগঠনটির স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন ডাঃ মোশাররফ হোসেন এবং ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা খালিদ মাহমুদ সাজিদ। এছাড়া কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় ছাত্র শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির ফরিদপুর বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো হিমেল খাঁন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী, তরুণ উদ্যোক্তা এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত এই কাফেলা আজ সামাজিক পরিবর্তনের এক শক্তিশালী চালিকাশক্তি।

মাঠপর্যায়ের মানবিক কর্মকাণ্ড: ত্রাণ থেকে শিক্ষাবৃত্তি

এখন পর্যন্ত বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডোনেশন বা অনুদান না পেলেও, সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও নিজেদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় মাঠপর্যায়ে তাক লাগানোর মতো কাজ করে চলেছে স্বপ্নছোঁয়া ফাউন্ডেশন।

বন্যাদুর্গতদের পাশে: ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৯ লাখ ২১ হাজার ৪০ টাকা সংগ্রহ করে বন্যাদুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার, নৌকা এবং পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হয়। পাশাপাশি ফেনী ও লক্ষ্মীপুরে ২১ জনের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠিয়ে উদ্ধার কাজে অংশ নেয় সংগঠনটি।

রমজানের ইফতার ও ঈদ আনন্দ: ২০২৩ সাল থেকে শুরু করে প্রতি রমজানে ধারাবাহিকভায়ে ইফতার ও সাহরি বিতরণ করছে সংগঠনটি। ২০২৩ সালে ১০৬ প্যাকেট, ২০২৪ সালে ১৮৪ প্যাকেট, ২০২৫ সালে ৬৪৯ প্যাকেট এবং চলতি ২০২৬ সালে ৭১০ প্যাকেট ইফতার ও সাহরি বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ঈদ ও দুর্গাপূজায় অসহায় পরিবারগুলোকে প্যাকেজ উপহার দেওয়া এবং কোরবানি ঈদে অসচ্ছল শিশুদের নতুন জামার স্বপ্ন পূরণ করা হয়েছে।

চিকিৎসা ও রক্তদান সেবা: অদ্যাবধি ১৩ জন রোগীকে জরুরি রক্তদান করা হয়েছে। বিশেষ করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুর্ঘটনায় শিকার এক ব্যক্তির পা এবং এক কিশোরের দাঁতের অপারেশনসহ তাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহন করেছে স্বপ্নছোঁয়া ফাউন্ডেশন।

শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম: অর্থাভাবের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা যেন থমকে না যায়, সেজন্য বর্তমানে সাতজন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর স্থায়ী শিক্ষাবৃত্তির সমস্ত খরচ (স্কুল-কোচিংয়ের বেতন, টিউশন ফি, বই-খাতা ও স্কুলড্রেস) বহন করছে এই সংগঠন। এছাড়া শীতকালে অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

সদস্য সংগ্রহ ও সরকারি অনুমোদনের লড়াই

সংগঠনের মূল চালিকাশক্তি হলো সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র সঞ্চয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি মাসে সদস্যপ্রতি অন্তত ৮০ টাকা চাঁদার বিধান রাখা হয়েছে, যাতে সমাজের বিত্তবানদের পাশাপাশি একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত বা শিক্ষার্থীও এই মহৎ কাজের অংশীদার হতে পারেন। বর্তমানে সারা দেশে ১২৭ জন সক্রিয় সদস্য এই স্বপ্নযাত্রার সঙ্গে যুক্ত আছেন।

সংগঠনকে আরও সুদৃঢ় ও আইনগত ভিত্তি দিতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রধান কার্যালয় সংলগ্ন নগরকান্দা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে সরকারি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও দাপ্তরিক খামখেয়ালির কারণে এখনও কাঙ্ক্ষিত ছাড়পত্র বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাওয়া যায়নি। তবুও তরুণেরা দমে যাননি; সরকারি স্বীকৃতি পেলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আরও ব্যাপক সাড়া পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা।

আগামী ৫ বছরের লক্ষ্য ও ‘একটি পরিবার, একটি স্থায়ী আলো’ প্রকল্প

‘স্বপ্নছোঁয়া’ ফাউন্ডেশনকে কোনো সাময়িক ত্রাণ বিতরণকারী সংস্থায় আটকে রাখতে চান না এর উদ্যোক্তারা। আগামী ৫ বছরের মধ্যে সংগঠনটিকে শুধু ফরিদপুর নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের প্রতিটি কোণায় একটি ‘আশার বাতিঘর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তাঁরা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামী দিনে ‘একটি পরিবার, একটি স্থায়ী আলো’ শীর্ষক মেগা প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। যার মাধ্যমে কোনো অসহায় পরিবারকে কেবল একবেলার খাবার না দিয়ে, রিকশা, সেলাই মেশিন বা ক্ষুদ্র ব্যবসার মূলধন দিয়ে চিরতরে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা হবে। এছাড়া মেধাবীদের জন্য ‘স্বপ্নদীপ্ত শিক্ষাবৃত্তি’ এবং জরুরি চিকিৎসায় ‘জরুরি মানবিক তহবিল’ গঠনের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

পরিবর্তনের সারথি হতে আপনার আমন্ত্রণ

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবর্তন একা আসে না; এর জন্য দলবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। মাসের সামান্য ৮০ টাকা বা একবেলার চায়ের খরচ বাঁচানো অর্থ কোনো নিঃস্ব পরিবারের শেষ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠতে পারে।

দেশের যেকোনো প্রান্তের সচেতন নাগরিক, তরুণ সমাজ ও মানবিক মানুষ ইচ্ছে করলেই স্বপ্নছোঁয়া পরিবারের অংশ হতে পারেন। সংগঠনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ অথবা সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে যে কেউ এই স্বপ্নযাত্রার সারথি হতে পারবেন।

যোগাযোগের নম্বর: ০১৭২৭-২০৯১৫২ / ০১৭১২-৯৮৯৬৫৩ (WhatsApp উপলব্ধ)

ইমেইল: swapnochowafoundation23@gmail.com