ঢাকা ০৩:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসিনার দেশত্যাগের ছবি তোলা সেই বিমান কর্মকর্তার মরদেহ তুরাগে

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:১৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 75

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট—শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সেই মোড়ঘোরানো মুহূর্তের ছবি কে তুলেছিলেন? সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন ছিল, সেই ঐতিহাসিক দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দী করেছিলেন বিমানবাহিনীরই সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি। সেই চর্চিত ও রহস্যময় চরিত্রটিই এবার জীবনযুদ্ধের ইতি টানলেন এক নিথর দেহে! রাজধানীর তুরাগ নদের বিষণ্ণ জলধারা থেকে উদ্ধার করা হলো সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ।

টঙ্গীর তুরাগ নদ থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটের পাশ থেকে ভাসমান অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পুলিশ জানিয়েছে, বাহ্যিকভাবে তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ধারের সময় তাঁর নাক দিয়ে তাজা রক্ত গড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান বিস্তারিত সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছেন।

সুরতহাল প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে

নৌ পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিহতের উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। পরনে ছিল কালো রঙের ফুলহাতা কাবলি শার্ট ও সাদা ট্রাউজার। মাথার চুল কালো, মুখে ছোট ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল। চোখ ও মুখ বন্ধ থাকলেও নাক দিয়ে রক্তের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। মৃতদেহের দুই হাত মাথার সামনের দিকে বাঁকানো ও শক্ত মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে, এবং পেট ছিল ফোলা।

তবে তাঁর বুক, পিঠ, দুই পা ও যৌনাঙ্গে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের ক্ষত মেলেনি। লাশের পকেটে থাকা একটি সচল আইফোন এবং হাতের ঘড়ির সূত্র ধরে পুলিশ দ্রুত তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ছবি ও গুঞ্জনের নেপথ্য

মাত্র ২৮ বছর বয়সে প্রাণ হারানো তাহসিফ সাউরি রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে বাস করতেন, আর তাঁর পৈতৃক নিবাস খুলনার সোনাডাঙ্গায়। কিন্তু তাঁর সাধারণ পরিচয়ের আড়ালে ছড়িয়ে রয়েছে এক তীব্র রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক কৌতুহল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে করে ভারতে পাড়ি জমান, সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটির ছবি কে তুলেছিলেন—তা নিয়ে দেশে-বিদেশে তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। রাজপথ ও নেটদুনিয়ায় জোর গুঞ্জন রটেছিল, বিমানবাহিনীর তদানিন্তন কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরিই নাকি সেই চিরচেনা ছবিটি নিজের ফ্রেমবন্দী করেছিলেন। যদিও এই দাবির শতভাগ দাপ্তরিক সত্যতা কখনোই নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও তাহসিফের এই অকাল ও রহস্যময় প্রস্থান সেই পুরোনো গুঞ্জনকে নতুন করে উস্কে দিয়েছে।

হাসিনার দেশত্যাগের ছবি তোলা সেই বিমান কর্মকর্তার মরদেহ তুরাগে

আপডেট সময় : ০৫:১৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট—শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সেই মোড়ঘোরানো মুহূর্তের ছবি কে তুলেছিলেন? সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন ছিল, সেই ঐতিহাসিক দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দী করেছিলেন বিমানবাহিনীরই সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি। সেই চর্চিত ও রহস্যময় চরিত্রটিই এবার জীবনযুদ্ধের ইতি টানলেন এক নিথর দেহে! রাজধানীর তুরাগ নদের বিষণ্ণ জলধারা থেকে উদ্ধার করা হলো সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ।

টঙ্গীর তুরাগ নদ থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটের পাশ থেকে ভাসমান অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পুলিশ জানিয়েছে, বাহ্যিকভাবে তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ধারের সময় তাঁর নাক দিয়ে তাজা রক্ত গড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান বিস্তারিত সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছেন।

সুরতহাল প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে

নৌ পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিহতের উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। পরনে ছিল কালো রঙের ফুলহাতা কাবলি শার্ট ও সাদা ট্রাউজার। মাথার চুল কালো, মুখে ছোট ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল। চোখ ও মুখ বন্ধ থাকলেও নাক দিয়ে রক্তের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। মৃতদেহের দুই হাত মাথার সামনের দিকে বাঁকানো ও শক্ত মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে, এবং পেট ছিল ফোলা।

তবে তাঁর বুক, পিঠ, দুই পা ও যৌনাঙ্গে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের ক্ষত মেলেনি। লাশের পকেটে থাকা একটি সচল আইফোন এবং হাতের ঘড়ির সূত্র ধরে পুলিশ দ্রুত তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ছবি ও গুঞ্জনের নেপথ্য

মাত্র ২৮ বছর বয়সে প্রাণ হারানো তাহসিফ সাউরি রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে বাস করতেন, আর তাঁর পৈতৃক নিবাস খুলনার সোনাডাঙ্গায়। কিন্তু তাঁর সাধারণ পরিচয়ের আড়ালে ছড়িয়ে রয়েছে এক তীব্র রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক কৌতুহল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে করে ভারতে পাড়ি জমান, সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটির ছবি কে তুলেছিলেন—তা নিয়ে দেশে-বিদেশে তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। রাজপথ ও নেটদুনিয়ায় জোর গুঞ্জন রটেছিল, বিমানবাহিনীর তদানিন্তন কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরিই নাকি সেই চিরচেনা ছবিটি নিজের ফ্রেমবন্দী করেছিলেন। যদিও এই দাবির শতভাগ দাপ্তরিক সত্যতা কখনোই নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও তাহসিফের এই অকাল ও রহস্যময় প্রস্থান সেই পুরোনো গুঞ্জনকে নতুন করে উস্কে দিয়েছে।