ঢাকা ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভিপি নুরের ‘ট্রাক’ যখন খাদে: পটুয়াখালীতে বিএনপির গণবিদ্রোহ

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৫৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 539

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমে চরম প্রতিকূলতার মুখে পড়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। বিএনপি জোটের সমর্থন নিয়ে ‘ট্রাক’ প্রতীক পেলেও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশে পাচ্ছেন না তিনি। পরিবর্তে দুই উপজেলার বিএনপির সিংহভাগ নেতাকর্মী দলের কেন্দ্রীয় পদত্যাগী ও বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন।

বিদ্রোহী মামুনের শক্ত অবস্থান:

দীর্ঘ তিন দশক ধরে এলাকায় বিএনপিকে সংগঠিত করা হাসান মামুনকে কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন না দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তৃণমূল কর্মীরা। ৩০ ডিসেম্বর তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রায় সব পদধারী নেতা বর্তমানে মামুনের ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করছেন। ফলে ভোটের মাঠে নুরের চেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর পাল্লাই ভারী হচ্ছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

নুরের হুঁশিয়ারি ও বিএনপির অনড় তৃণমূল:

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিএনপিকে অফিশিয়ালি নালিশ জানানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভিপি নুর। তিনি অভিযোগ করেন, হাসান মামুন নিজের লোকজন দিয়ে কমিটি করায় তারা দলীয় সিদ্ধান্তের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে বড় করে দেখছেন। তবে নুরের এই হুঁশিয়ারিকে পাত্তা দিচ্ছেন না স্থানীয় নেতারা। দশমিনা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “হাসান মামুনের জন্য বহিষ্কৃত হতে হলে হবো, কিন্তু তাকে ছেড়ে যাব না।” অন্যদিকে, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “২০১৮ সালে গোলাম মাওলা রনিকে ভাড়া করে এনে খেসারত দিয়েছি, এবার আর সেই ভুল করবো না।”

ভোটের সমীকরণ:

বিশ্লেষকরা বলছেন, পৈত্রিক এলাকায় নুরকে লড়তে হচ্ছে চতুর্মুখী চাপে। জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন এবং ভিপি নুরের বাড়ি একই উপজেলায় হওয়ায় ভোট তিন ভাগে ভাগ হতে পারে। অন্যদিকে, দশমিনা উপজেলার একমাত্র প্রার্থী হিসেবে হাসান মামুন একক আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছেন। তৃণমূল বিএনপির প্রকাশ্য বিদ্রোহে ভিপি নুরের নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভিপি নুরের ‘ট্রাক’ যখন খাদে: পটুয়াখালীতে বিএনপির গণবিদ্রোহ

আপডেট সময় : ০২:৫৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমে চরম প্রতিকূলতার মুখে পড়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। বিএনপি জোটের সমর্থন নিয়ে ‘ট্রাক’ প্রতীক পেলেও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশে পাচ্ছেন না তিনি। পরিবর্তে দুই উপজেলার বিএনপির সিংহভাগ নেতাকর্মী দলের কেন্দ্রীয় পদত্যাগী ও বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন।

বিদ্রোহী মামুনের শক্ত অবস্থান:

দীর্ঘ তিন দশক ধরে এলাকায় বিএনপিকে সংগঠিত করা হাসান মামুনকে কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন না দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তৃণমূল কর্মীরা। ৩০ ডিসেম্বর তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রায় সব পদধারী নেতা বর্তমানে মামুনের ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করছেন। ফলে ভোটের মাঠে নুরের চেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর পাল্লাই ভারী হচ্ছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

নুরের হুঁশিয়ারি ও বিএনপির অনড় তৃণমূল:

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিএনপিকে অফিশিয়ালি নালিশ জানানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভিপি নুর। তিনি অভিযোগ করেন, হাসান মামুন নিজের লোকজন দিয়ে কমিটি করায় তারা দলীয় সিদ্ধান্তের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে বড় করে দেখছেন। তবে নুরের এই হুঁশিয়ারিকে পাত্তা দিচ্ছেন না স্থানীয় নেতারা। দশমিনা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “হাসান মামুনের জন্য বহিষ্কৃত হতে হলে হবো, কিন্তু তাকে ছেড়ে যাব না।” অন্যদিকে, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “২০১৮ সালে গোলাম মাওলা রনিকে ভাড়া করে এনে খেসারত দিয়েছি, এবার আর সেই ভুল করবো না।”

ভোটের সমীকরণ:

বিশ্লেষকরা বলছেন, পৈত্রিক এলাকায় নুরকে লড়তে হচ্ছে চতুর্মুখী চাপে। জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন এবং ভিপি নুরের বাড়ি একই উপজেলায় হওয়ায় ভোট তিন ভাগে ভাগ হতে পারে। অন্যদিকে, দশমিনা উপজেলার একমাত্র প্রার্থী হিসেবে হাসান মামুন একক আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছেন। তৃণমূল বিএনপির প্রকাশ্য বিদ্রোহে ভিপি নুরের নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।