অবৈধ বালু উত্তোলনে সারা দেশে যৌথ বাহিনীর কঠোর অভিযান আসছে
- আপডেট সময় : ১২:৪০:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫
- / 350
সারা দেশে অবৈধভাবে চলা বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা প্রশাসকদের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বর্তমানে দেশের প্রায় সব এলাকাতেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনা ঘটছে। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
ভার্চুয়াল সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
বুধবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় দেশের সকল বিভাগের কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপাররা অংশ নেন। এই সভায় আরও যুক্ত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
অভিযোগ নিষ্পত্তিতে জোর নির্দেশনা
সভায় জানানো হয়, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত জনগণের অভিযোগগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। একইসঙ্গে অভিযোগ গ্রহণের বিষয়টি অভিযোগকারীকেও জানানো বাধ্যতামূলক। এতে প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
নতুন বালুমহাল ঘোষণায় কড়াকড়ি
নতুন বালুমহাল ঘোষণার আগে অবশ্যই হাইড্রোগ্রাফিক জরিপসহ প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে ইজারা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরনো জরিপের ভিত্তিতে ইজারাকৃত বালুমহাল পুনরায় ইজারা দেওয়ার পূর্বে নতুন জরিপ করার কথা বলা হয়েছে।
সুনির্দিষ্ট সীমানা ও সময়নির্ধারিত উত্তোলন
ইজারাদারকে নির্ধারিত সীমানা বুঝিয়ে দিতে হবে এবং সেই সীমানার বাইরে বালু উত্তোলন রোধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সূর্যাস্তের পর বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
আঞ্চলিক সমন্বয় ও সরকারি কাজে ব্যবহারের নির্দেশ
একাধিক জেলার সংশ্লিষ্টতায় অবৈধ উত্তোলনের ঘটনা ঘটলে, সেই জেলাগুলোর প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে যৌথ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে উত্তোলিত ও জব্দকৃত বালু নিলামে না দিয়ে, প্রয়োজনে আদালতের অনুমতি নিয়ে সরকারি উন্নয়নকাজে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
ইজারার শর্ত ভঙ্গ করলে কেবল শ্রমিক নয়, ইজারাদারকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। জেলা পর্যায়ে কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তির কাঠামো গড়ে তোলার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। সভায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেছেন।

























