ঐতিহাসিক জিপিও ভবন ভাঙার পাঁয়তারা: সচিবালয়ের নামে দখলের চেষ্টা!
- আপডেট সময় : ১২:২১:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
- / 216
রাজধানীর ‘জিরোপয়েন্ট’ এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জিপিও (জেনারেল পোস্ট অফিস) ভবনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একাধিক শতাব্দী পুরনো এই স্থাপনাটি আবারও পড়েছে আমলাতান্ত্রিক লোভের কবলে। সচিবালয়ের সম্প্রসারণের অজুহাতে এই স্থাপনাটিকে ভেঙে ফেলার প্রস্তাব পাঠিয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
কর্মীদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও হতাশা
ভবন ভাঙার প্রস্তাব প্রকাশ্যে আসার পরপরই ডাক বিভাগের প্রায় ৪০ হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা নেমে এসেছে। তারা এই সিদ্ধান্তকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন। ভবনটিকে ‘পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করার সরকারি প্রচেষ্টা তাঁদের মতে সম্পূর্ণ মিথ্যা।
জিপিও ভবনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
ভারতীয় উপমহাদেশে ডাক সেবা শুরু হয় ১৮৫৪ সালে। এরপর ১৯৫৪ সালে ঢাকার সদরঘাটে প্রথম জিপিও ভবন গড়ে ওঠে, যা ১৯৬২ সালে বর্তমান গুলিস্তানস্থ স্থানে স্থানান্তরিত হয়। এই ভবনে এখনো ডাক বিভাগের ২৪টি অপারেশনাল ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখান থেকে সেবা নিচ্ছেন। এটি দেশের কেপিআই (Key Point Installation) তালিকাভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার একটি।
অতীতেও হয়েছিল দখলের অপচেষ্টা
জিপিও ভবনের জমি দখলের পেছনে আগেও নানা ষড়যন্ত্র হয়েছিল। শেখ হাসিনার সরকারের সময় বিতর্কিত মহাপরিচালক সুধাংশু শেখর ভদ্র এই ভবনের জমিতে উদ্যান তৈরির নামে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয় এবং সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় ডাক বিভাগের মতামতের দাবি
ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সম্মতি নেওয়া উচিত। ভবনটিকে ভেঙে ফেলার যে কোনো প্রচেষ্টা তারা দেশের ডাক সেবার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচনা করবেন।
চূড়ান্ত বার্তা
ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, জিপিও ভবন শুধুই একটি স্থাপনা নয়—এটি একটি অনুভব, একটি ঐতিহ্য এবং হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারীর আত্মার অংশ। তাই এই ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা অবিলম্বে বাতিল এবং ভবিষ্যতে এমন উদ্যোগ রোধে নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

























