মামলায় প্রধান আসামি লিয়াকত হোসেন মাস্টারসহ ২৫ জনের নাম, অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জন
ফরিদপুরে কৃষক দল নেতার হামলায় ভ্যানচালক নিহত, ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময় : ০৬:৩৭:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫
- / 795
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামে কোরবানির মাংস বিতরণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে হুমায়ূন কবীর (৪৮) নামের এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। নিহতের স্ত্রী শিউলী বেগম মঙ্গলবার (১০ জুন) রাতে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ময়না ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত হোসেন মাস্টারকে প্রধান আসামি করে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বুধবার (১১ জুন) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার পটভূমি:
গত ৮ জুন (শনিবার) ঈদুল আজহার দিন, হুমায়ূন কবীর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নবীর হোসেন চুন্নুর পক্ষ থেকে কোরবানির মাংস গ্রহণ করেন, যদিও তিনি এর আগে কৃষক দল নেতা লিয়াকতের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরদিন ৯ জুন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বানিয়ারী গ্রামের ছাকেনের চায়ের দোকানের সামনে হুমায়ূন কবীর ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় লিয়াকত মাস্টার ও তার অনুসারীরা। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ সংঘবদ্ধ হামলায় হুমায়ূনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। প্রথমে তাকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১০ জুন) সকাল ৮টার দিকে তিনি মারা যান।
নিহতের পরিচয় ও দাফন:
হুমায়ূন কবীর বানিয়ারী গ্রামের মৃত মালেক মোল্লার ছেলে। তিনি তিন কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। মঙ্গলবার বিকেলে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে গ্রামে আনা হয় এবং বাদ মাগরিব জানাজা শেষে খরসূতি গোরস্থানে দাফন করা হয়।
আহতদের অবস্থা:
এই হামলায় হুমায়ূনের বড় ভাই মোস্তফা মোল্লা (৫৮), মেয়ে বেনি বেগম (২৩) ও এক ভাগিনাও আহত হন। তারা বর্তমানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।
পুলিশের অবস্থান:
ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, ঘটনার পরপরই মামলাটি গ্রহণ করে অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।





















