ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গভীর রাতে ৭৫০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলার চেষ্টা, বিজিবি-জনতার বাধায় পিছু হটে বিএসএফ

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ মে ২০২৫
  • / 281

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের সীমান্তে বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) প্রায় ৭৫০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে।

আটক ছিল ত্রিপুরা ও রাজস্থানে

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এদের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশি হলেও কিছু রোহিঙ্গাও রয়েছে। বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের মধ্যে ত্রিপুরায় আটক ৬০০ জনের বেশি এবং রাজস্থানে আটক ১৪৮ জন অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিজিবি ও জনতার প্রতিবাদে পিছু হটে বিএসএফ

বিএসএফের এমন তৎপরতার খবর পেয়েই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্ক অবস্থান নেয়। পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

সিঙ্গারবিল, বিষ্ণুপুর, নলঘরিয়া, মেরাসানী এবং নোয়াবাদী এলাকার মানুষ মসজিদের মাইকে ঘোষণা শুনে লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্ত এলাকায় জড়ো হয়। কেউ কেউ ফেসবুক লাইভে এসে এলাকাবাসীকে আহ্বান জানানোর পর কয়েকশ মানুষ জমায়েত হয়, যার ফলে বিএসএফ পিছু হটে।

প্রশাসনের বক্তব্য

সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাচ্চু মিয়া বলেন, “রাতেই স্থানীয়দের নিয়ে সীমান্তে যাই, তখনই বিএসএফ সরে যায়। এখন পরিস্থিতি শান্ত।”

আরেক ইউপি সদস্য মামুন চৌধুরী বলেন, “মাইকিং করে সবাইকে ডাকি, সবাই জড়ো হলে বিএসএফ পিছু হটে। তবে আসলে কতজনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না।”

পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে

বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাধনা ত্রিপুরা বলেন, “পুশইনের চেষ্টা জনগণ ও বিজিবির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিহত হয়েছে। সীমান্তে এখনও সতর্ক অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে।”

বিজিবির ২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহাম্মেদও জানান, “খবর পাওয়ার পর থেকেই বিজিবি সতর্ক ছিল, জনতাও সহযোগিতা করেছে। বর্তমানে সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

গভীর রাতে ৭৫০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলার চেষ্টা, বিজিবি-জনতার বাধায় পিছু হটে বিএসএফ

আপডেট সময় : ০৫:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ মে ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের সীমান্তে বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) প্রায় ৭৫০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে।

আটক ছিল ত্রিপুরা ও রাজস্থানে

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এদের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশি হলেও কিছু রোহিঙ্গাও রয়েছে। বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের মধ্যে ত্রিপুরায় আটক ৬০০ জনের বেশি এবং রাজস্থানে আটক ১৪৮ জন অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিজিবি ও জনতার প্রতিবাদে পিছু হটে বিএসএফ

বিএসএফের এমন তৎপরতার খবর পেয়েই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্ক অবস্থান নেয়। পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

সিঙ্গারবিল, বিষ্ণুপুর, নলঘরিয়া, মেরাসানী এবং নোয়াবাদী এলাকার মানুষ মসজিদের মাইকে ঘোষণা শুনে লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্ত এলাকায় জড়ো হয়। কেউ কেউ ফেসবুক লাইভে এসে এলাকাবাসীকে আহ্বান জানানোর পর কয়েকশ মানুষ জমায়েত হয়, যার ফলে বিএসএফ পিছু হটে।

প্রশাসনের বক্তব্য

সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাচ্চু মিয়া বলেন, “রাতেই স্থানীয়দের নিয়ে সীমান্তে যাই, তখনই বিএসএফ সরে যায়। এখন পরিস্থিতি শান্ত।”

আরেক ইউপি সদস্য মামুন চৌধুরী বলেন, “মাইকিং করে সবাইকে ডাকি, সবাই জড়ো হলে বিএসএফ পিছু হটে। তবে আসলে কতজনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না।”

পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে

বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাধনা ত্রিপুরা বলেন, “পুশইনের চেষ্টা জনগণ ও বিজিবির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিহত হয়েছে। সীমান্তে এখনও সতর্ক অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে।”

বিজিবির ২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহাম্মেদও জানান, “খবর পাওয়ার পর থেকেই বিজিবি সতর্ক ছিল, জনতাও সহযোগিতা করেছে। বর্তমানে সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”