ঢাকা ০৫:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৪৫:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / 147

রোববার ও সোমবার দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কুমিল্লার মুরাদনগর ও বরুড়ায় চারজন, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম ও মিঠামইনে তিনজন, নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও মদনে দুজন, সুনামগঞ্জের শাল্লায় একজন এবং চাঁদপুরের কচুয়ায় একজন রয়েছেন।

কুমিল্লায় ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে ও ধান কাটতে গিয়ে মৃত্যু

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় মাঠে ঘুড়ি ওড়ানোর সময় বজ্রপাতে দুই স্কুলছাত্র ফাহাদ হোসেন ও সায়মন হোসেন নিহত হয়। তারা বড়হরিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হালকা বৃষ্টির মধ্যে শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানোর সময় বজ্রপাত হয়। আহত তিনজনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
বরুড়া থানার ওসি নাজমুল হাসান জানান, আহত একজন চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে, মুরাদনগরের কোরবানপুর এলাকায় ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নিখিল দেবনাথ ও জুয়েল ভূঁইয়া নিহত হন। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয় বলে জানান বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান।

কিশোরগঞ্জের হাওরে ধান কাটার সময় প্রাণহানি

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে খয়েরপুর আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ইন্দ্রজিৎ দাস ও স্বাধীন মিয়া নিহত হন। সকাল থেকে আবহাওয়া খারাপ থাকলেও তারা হাওরে ছিলেন। সকাল পৌনে ১০টার দিকে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাদের।
অষ্টগ্রাম থানার ওসি রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

একই সময়ে মিঠামইনের শান্তিগঞ্জ হাওরে বাড়ির পাশে ধানের খড় শুকাতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন ফুলেছা বেগম। মিঠামইন থানার এসআই অর্পন বিশ্বাস তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সুনামগঞ্জে কলেজছাত্রের করুণ মৃত্যু

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার আটগাঁও গ্রামের কলেজছাত্র রিমন তালুকদার সকালে গরু চরাতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন। শাল্লা ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রিমন বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে যেতে পারেননি।
শাল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নেত্রকোনায় বজ্রাঘাতে শিক্ষক ও ছাত্রের মৃত্যু

নেত্রকোনার কলমাকান্দার ধনুন্দ গ্রামে রোববার রাতে বজ্রপাতে আহত হন মাদ্রাসাশিক্ষক দিদারুল ইসলাম। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাইযুল ওয়াসীমা নাহাত জানান, নিহত শিক্ষকের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে মদন উপজেলার তিয়োশ্রী গ্রামে সকালে মাদ্রাসাছাত্র মো. আরাফাত বজ্রপাতে মারা যায়। সে তিয়োশ্রী মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

চাঁদপুরে বজ্রপাতের শব্দে হৃদরোগে মৃত্যু

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার নাহারা গ্রামে বজ্রপাতের বিকট শব্দে বিশাখা রানী নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। জমি থেকে ধান তোলার সময় বজ্রপাতের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন।
কচুয়া থানার ওসি আজিজুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ১২:৪৫:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫

রোববার ও সোমবার দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কুমিল্লার মুরাদনগর ও বরুড়ায় চারজন, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম ও মিঠামইনে তিনজন, নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও মদনে দুজন, সুনামগঞ্জের শাল্লায় একজন এবং চাঁদপুরের কচুয়ায় একজন রয়েছেন।

কুমিল্লায় ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে ও ধান কাটতে গিয়ে মৃত্যু

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় মাঠে ঘুড়ি ওড়ানোর সময় বজ্রপাতে দুই স্কুলছাত্র ফাহাদ হোসেন ও সায়মন হোসেন নিহত হয়। তারা বড়হরিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হালকা বৃষ্টির মধ্যে শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানোর সময় বজ্রপাত হয়। আহত তিনজনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
বরুড়া থানার ওসি নাজমুল হাসান জানান, আহত একজন চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে, মুরাদনগরের কোরবানপুর এলাকায় ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নিখিল দেবনাথ ও জুয়েল ভূঁইয়া নিহত হন। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয় বলে জানান বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান।

কিশোরগঞ্জের হাওরে ধান কাটার সময় প্রাণহানি

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে খয়েরপুর আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ইন্দ্রজিৎ দাস ও স্বাধীন মিয়া নিহত হন। সকাল থেকে আবহাওয়া খারাপ থাকলেও তারা হাওরে ছিলেন। সকাল পৌনে ১০টার দিকে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাদের।
অষ্টগ্রাম থানার ওসি রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

একই সময়ে মিঠামইনের শান্তিগঞ্জ হাওরে বাড়ির পাশে ধানের খড় শুকাতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন ফুলেছা বেগম। মিঠামইন থানার এসআই অর্পন বিশ্বাস তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সুনামগঞ্জে কলেজছাত্রের করুণ মৃত্যু

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার আটগাঁও গ্রামের কলেজছাত্র রিমন তালুকদার সকালে গরু চরাতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন। শাল্লা ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রিমন বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে যেতে পারেননি।
শাল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নেত্রকোনায় বজ্রাঘাতে শিক্ষক ও ছাত্রের মৃত্যু

নেত্রকোনার কলমাকান্দার ধনুন্দ গ্রামে রোববার রাতে বজ্রপাতে আহত হন মাদ্রাসাশিক্ষক দিদারুল ইসলাম। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাইযুল ওয়াসীমা নাহাত জানান, নিহত শিক্ষকের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে মদন উপজেলার তিয়োশ্রী গ্রামে সকালে মাদ্রাসাছাত্র মো. আরাফাত বজ্রপাতে মারা যায়। সে তিয়োশ্রী মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

চাঁদপুরে বজ্রপাতের শব্দে হৃদরোগে মৃত্যু

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার নাহারা গ্রামে বজ্রপাতের বিকট শব্দে বিশাখা রানী নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। জমি থেকে ধান তোলার সময় বজ্রপাতের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন।
কচুয়া থানার ওসি আজিজুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।