ঢাকা ০৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরকীয়া’ বিতর্কে ইসলামি বক্তা আবু ত্বহা আদনান: স্ত্রীর অভিযোগ প্রত্যাহার

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
  • / 487

রংপুরের জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাঁর স্ত্রী সাবিকুন্নাহার সারাহ ফেসবুক পোস্টে আদনানের বিরুদ্ধে পরকীয়া ও পুরনো প্রেমিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন। যদিও কিছুক্ষণ পরই তিনি সেই পোস্টটি মুছে দেন এবং পরে সম্পূর্ণ অভিযোগ প্রত্যাহার করে স্বামীর কাছে ক্ষমা চান।

এদিকে, এই অভিযোগ ওঠার পরপরই আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান দাবি করেন যে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন চুরি হয়ে গেছে। এই পাল্টাপাল্টি ঘটনা আদনানের ভক্ত ও সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আবু ত্বহা আদনানের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মূল অভিযোগ
ঘটনার সূত্রপাত হয় সাবিকুন্নাহার সারাহর একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে। যদিও সেই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়েছে, সেখানে তিনি গুরুতর কিছু অভিযোগ তুলেছিলেন:

পরকীয়ার অভিযোগ: সারাহ দাবি করেন, আদনান তাঁর কলেজের প্রাক্তন প্রেমিকা জারিন জেবিন, যিনি বর্তমানে একজন বিমানবালা, তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তাঁরা নিয়মিত চ্যাট, ফোন কল এবং লং ড্রাইভের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন।

প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ: তিনি আরও অভিযোগ করেন যে আদনানের প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন কোর্সের আড়ালে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার আয়োজন করছে।

মানসিক চাপ: সাবিকুন নাহার বলেন, এই বিষয়গুলো তাঁকে মানসিকভাবে অস্থির করে তুলেছে, যার ফলে তিনি অনলাইনে ক্লাস স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন।

আদনানের দাবি: মোবাইল ফোন চুরি
স্ত্রীর বিতর্কিত পোস্ট আসার কিছুক্ষণ পরেই আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান ফেসবুকের মাধ্যমে ভিন্ন দাবি করেন:

তিনি জানান, আজ সকালে আনুমানিক ৫টার দিকে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে গেছে।

তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন, বিভ্রান্তিকর তথ্য বা তাঁর ব্যক্তিগত নম্বর অথবা পরিচালিত পেজ থেকে পাঠানো কোনো বার্তা বা তথ্যের মাধ্যমে যেন কেউ বিভ্রান্ত না হন।

অভিযোগ প্রত্যাহার: ‘হিংসুকদের ভুল তথ্য’
এই বিতর্কের নাটকীয় মোড় আসে যখন সাবিকুন নাহার কিছুক্ষণ পর তাঁর পূর্বের সমস্ত দাবি প্রত্যাহার করে নেন।

ক্ষমা প্রার্থনা ও কারণ: তিনি আরেকটি ফেসবুক পোস্টে জানান, ‘হিংসুক ও বিরোধীরা’ তাঁদের সুচিন্তিত এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য তাঁকে কিছু ভুল তথ্য দিয়েছিল, যার সত্যতা যাচাইয়ে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

স্বামীর প্রতি বিশ্বাস: সারাহ আল্লাহ এবং তাঁর স্বামী আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনানের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, যাকে তিনি তাঁর কাজ, চিন্তা ও উদ্দেশ্যের দিক থেকে পবিত্র বলে বর্ণনা করেছেন।

জনমনে প্রশ্ন ও বক্তার পরিচিতি
এই পুরো ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—মোবাইল যদি সত্যিই চুরি হয়, তবে তাঁর স্ত্রীর ফেসবুক আইডি কিভাবে সেই চোরের হাতে গেল? এবং কেনই বা এমন বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেওয়া হলো?

উল্লেখ্য, রংপুরের তরুণ ইসলামি বক্তা আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান ২০১৭ সালে ইউটিউবে বক্তৃতা শুরু করে দ্রুত জনপ্রিয়তা পান। কিয়ামতের আলামত, দাজ্জাল, সামাজিক সমস্যা এবং মুসলিম সমাজের চ্যালেঞ্জ তাঁর আলোচনার বিষয়বস্তু। তিনি দর্শন বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন।

২০২৩ সালের জুনে, তাঁর আট দিনের রহস্যজনক নিখোঁজ এবং পরে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসার ঘটনা তাঁর পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

পরকীয়া’ বিতর্কে ইসলামি বক্তা আবু ত্বহা আদনান: স্ত্রীর অভিযোগ প্রত্যাহার

আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

রংপুরের জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাঁর স্ত্রী সাবিকুন্নাহার সারাহ ফেসবুক পোস্টে আদনানের বিরুদ্ধে পরকীয়া ও পুরনো প্রেমিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন। যদিও কিছুক্ষণ পরই তিনি সেই পোস্টটি মুছে দেন এবং পরে সম্পূর্ণ অভিযোগ প্রত্যাহার করে স্বামীর কাছে ক্ষমা চান।

এদিকে, এই অভিযোগ ওঠার পরপরই আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান দাবি করেন যে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন চুরি হয়ে গেছে। এই পাল্টাপাল্টি ঘটনা আদনানের ভক্ত ও সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আবু ত্বহা আদনানের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মূল অভিযোগ
ঘটনার সূত্রপাত হয় সাবিকুন্নাহার সারাহর একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে। যদিও সেই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়েছে, সেখানে তিনি গুরুতর কিছু অভিযোগ তুলেছিলেন:

পরকীয়ার অভিযোগ: সারাহ দাবি করেন, আদনান তাঁর কলেজের প্রাক্তন প্রেমিকা জারিন জেবিন, যিনি বর্তমানে একজন বিমানবালা, তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তাঁরা নিয়মিত চ্যাট, ফোন কল এবং লং ড্রাইভের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন।

প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ: তিনি আরও অভিযোগ করেন যে আদনানের প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন কোর্সের আড়ালে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার আয়োজন করছে।

মানসিক চাপ: সাবিকুন নাহার বলেন, এই বিষয়গুলো তাঁকে মানসিকভাবে অস্থির করে তুলেছে, যার ফলে তিনি অনলাইনে ক্লাস স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন।

আদনানের দাবি: মোবাইল ফোন চুরি
স্ত্রীর বিতর্কিত পোস্ট আসার কিছুক্ষণ পরেই আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান ফেসবুকের মাধ্যমে ভিন্ন দাবি করেন:

তিনি জানান, আজ সকালে আনুমানিক ৫টার দিকে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে গেছে।

তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন, বিভ্রান্তিকর তথ্য বা তাঁর ব্যক্তিগত নম্বর অথবা পরিচালিত পেজ থেকে পাঠানো কোনো বার্তা বা তথ্যের মাধ্যমে যেন কেউ বিভ্রান্ত না হন।

অভিযোগ প্রত্যাহার: ‘হিংসুকদের ভুল তথ্য’
এই বিতর্কের নাটকীয় মোড় আসে যখন সাবিকুন নাহার কিছুক্ষণ পর তাঁর পূর্বের সমস্ত দাবি প্রত্যাহার করে নেন।

ক্ষমা প্রার্থনা ও কারণ: তিনি আরেকটি ফেসবুক পোস্টে জানান, ‘হিংসুক ও বিরোধীরা’ তাঁদের সুচিন্তিত এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য তাঁকে কিছু ভুল তথ্য দিয়েছিল, যার সত্যতা যাচাইয়ে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

স্বামীর প্রতি বিশ্বাস: সারাহ আল্লাহ এবং তাঁর স্বামী আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনানের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, যাকে তিনি তাঁর কাজ, চিন্তা ও উদ্দেশ্যের দিক থেকে পবিত্র বলে বর্ণনা করেছেন।

জনমনে প্রশ্ন ও বক্তার পরিচিতি
এই পুরো ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—মোবাইল যদি সত্যিই চুরি হয়, তবে তাঁর স্ত্রীর ফেসবুক আইডি কিভাবে সেই চোরের হাতে গেল? এবং কেনই বা এমন বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেওয়া হলো?

উল্লেখ্য, রংপুরের তরুণ ইসলামি বক্তা আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান ২০১৭ সালে ইউটিউবে বক্তৃতা শুরু করে দ্রুত জনপ্রিয়তা পান। কিয়ামতের আলামত, দাজ্জাল, সামাজিক সমস্যা এবং মুসলিম সমাজের চ্যালেঞ্জ তাঁর আলোচনার বিষয়বস্তু। তিনি দর্শন বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন।

২০২৩ সালের জুনে, তাঁর আট দিনের রহস্যজনক নিখোঁজ এবং পরে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসার ঘটনা তাঁর পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেয়।