ঢাকা ১০:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে বিএনপির সম্মেলনের মোটরসাইকেল বহরে পুলিশের হানা: গ্রেফতার ২

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৬:২৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
  • / 1110

ফরিদপুর-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার কামারখালী টোল ঘরের কাছ থেকে উপজেলা বিএনপির সম্মেলনগামী মোটরসাইকেল বহর থেকে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন, ২০২৫) সকালে এই ঘটনা ঘটে। উপস্থিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, পুলিশের অতর্কিত হামলায় দু’জন হ্যান্ডকাপের আঘাতে জখম হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন লাঠিপেটায় আহত হয়েছেন।

তবে, পুলিশ বলছে সেখানে মোটরসাইকেল বহরে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাদের দাবি, ডিবি পুলিশের উপর হামলা মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের সময় এলোপাথাড়ি দৌড়ঝাঁপের কারণে কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় ও মামলার বিবরণ

গ্রেপ্তারকৃত ওই দুই যুবক হলেন ডুমাইন ইউনিয়নের বিশ্বাসপাড়ার এস এম রাজন (৩২) ও মিল্টন বিশ্বাস (৩২)। এদের মধ্যে এস এম রাজন ডিবি পুলিশের উপর হামলা মামলার ২ নম্বর আসামি। তবে মিল্টন বিশ্বাস ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। জানা গেছে, মিল্টনের বড় ভাই কবিরুল বিশ্বাস ওই মামলার একজন এজাহারনামীয় আসামি।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জানুয়ারি ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের ডুমাইন বাজারে ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় মাছ বাজারে জুয়া খেলার অভিযোগে কতিপয় ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পাল্টা হামলায় ডিবি পুলিশের সদস্যরা আহত হন। এ ঘটনায় ২৩ জানুয়ারি ডিবির এসআই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ২৯ জনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৩০-৪০ জনের বিরুদ্ধে মধুখালী থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় এর আগে গত ২২ এপ্রিল শরিফুল শিকদার (৩২) ও রাজিব শেখ (৩৫) নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও পুলিশের ভিন্নমত

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে মধুখালীর মডেল স্কুল মাঠে উপজেলা বিএনপির সম্মেলনপূর্ব কর্মী সভায় যোগ দিতে ডুমাইন থেকে প্রায় অর্ধশত মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে যাচ্ছিলেন নেতাকর্মীরা। পথিমধ্যে কামারখালিতে তেলের পাম্পের সামনে পৌঁছালে ওই বহরের সামনে আওয়ামী লীগের কিছু লোক অবস্থান করলে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এ সময় বহরটি টোলঘরের সামনে কিছু সময় অবস্থান নেয়। এরপর বিবাদ মিটিয়ে আবার রওনা হলে সড়কের বিটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাদা পোশাকধারী সদস্যরা তাদের গতি রোধ করে।

উপস্থিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এ সময় সাদা পোশাকধারী সদস্যদের মাথায় দলীয় এক নেতার স্লোগান সম্বলিত টুপি ছিল। তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই মোটরসাইকেল বহরে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে জখম ও আহত করা হয়। এতে ডুমাইনের বিশ্বাস পাড়ার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য শহিদুল বিশ্বাসের মাথায় এবং আকাশ নামে আরেক যুবকের পিঠে কেটে গিয়ে রক্তাক্ত জখম হয়। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও লাঠিপেটায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দলীয় রাজনীতিতে গ্রুপিংয়ের কারণে এক পক্ষের ইন্ধনে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম নুরুজ্জামান বলেন, “সেখানে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং ডিবি পুলিশের উপর হামলা মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনার সময় দৌড়ঝাঁপের কারণে কেউ হয়তো সামান্য আহত হতে পারেন।”

ফরিদপুরে বিএনপির সম্মেলনের মোটরসাইকেল বহরে পুলিশের হানা: গ্রেফতার ২

আপডেট সময় : ০৬:২৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

ফরিদপুর-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার কামারখালী টোল ঘরের কাছ থেকে উপজেলা বিএনপির সম্মেলনগামী মোটরসাইকেল বহর থেকে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন, ২০২৫) সকালে এই ঘটনা ঘটে। উপস্থিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, পুলিশের অতর্কিত হামলায় দু’জন হ্যান্ডকাপের আঘাতে জখম হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন লাঠিপেটায় আহত হয়েছেন।

তবে, পুলিশ বলছে সেখানে মোটরসাইকেল বহরে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাদের দাবি, ডিবি পুলিশের উপর হামলা মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের সময় এলোপাথাড়ি দৌড়ঝাঁপের কারণে কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় ও মামলার বিবরণ

গ্রেপ্তারকৃত ওই দুই যুবক হলেন ডুমাইন ইউনিয়নের বিশ্বাসপাড়ার এস এম রাজন (৩২) ও মিল্টন বিশ্বাস (৩২)। এদের মধ্যে এস এম রাজন ডিবি পুলিশের উপর হামলা মামলার ২ নম্বর আসামি। তবে মিল্টন বিশ্বাস ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। জানা গেছে, মিল্টনের বড় ভাই কবিরুল বিশ্বাস ওই মামলার একজন এজাহারনামীয় আসামি।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জানুয়ারি ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের ডুমাইন বাজারে ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় মাছ বাজারে জুয়া খেলার অভিযোগে কতিপয় ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পাল্টা হামলায় ডিবি পুলিশের সদস্যরা আহত হন। এ ঘটনায় ২৩ জানুয়ারি ডিবির এসআই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ২৯ জনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৩০-৪০ জনের বিরুদ্ধে মধুখালী থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় এর আগে গত ২২ এপ্রিল শরিফুল শিকদার (৩২) ও রাজিব শেখ (৩৫) নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও পুলিশের ভিন্নমত

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে মধুখালীর মডেল স্কুল মাঠে উপজেলা বিএনপির সম্মেলনপূর্ব কর্মী সভায় যোগ দিতে ডুমাইন থেকে প্রায় অর্ধশত মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে যাচ্ছিলেন নেতাকর্মীরা। পথিমধ্যে কামারখালিতে তেলের পাম্পের সামনে পৌঁছালে ওই বহরের সামনে আওয়ামী লীগের কিছু লোক অবস্থান করলে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এ সময় বহরটি টোলঘরের সামনে কিছু সময় অবস্থান নেয়। এরপর বিবাদ মিটিয়ে আবার রওনা হলে সড়কের বিটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাদা পোশাকধারী সদস্যরা তাদের গতি রোধ করে।

উপস্থিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এ সময় সাদা পোশাকধারী সদস্যদের মাথায় দলীয় এক নেতার স্লোগান সম্বলিত টুপি ছিল। তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই মোটরসাইকেল বহরে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে জখম ও আহত করা হয়। এতে ডুমাইনের বিশ্বাস পাড়ার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য শহিদুল বিশ্বাসের মাথায় এবং আকাশ নামে আরেক যুবকের পিঠে কেটে গিয়ে রক্তাক্ত জখম হয়। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও লাঠিপেটায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দলীয় রাজনীতিতে গ্রুপিংয়ের কারণে এক পক্ষের ইন্ধনে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম নুরুজ্জামান বলেন, “সেখানে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং ডিবি পুলিশের উপর হামলা মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনার সময় দৌড়ঝাঁপের কারণে কেউ হয়তো সামান্য আহত হতে পারেন।”