ঢাকা ১১:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫
  • / 242

ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এক হৃদয়বিদারক হত্যা মামলায় স্বামী নুর আলম ওরফে হুমায়ুন (৩৪)-কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৭ মে) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি নুর আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার পেছনের নির্মম বাস্তবতা

নুর আলম ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গোপালদী গ্রামের মো. শহীদ শেখের ছেলে। নিহত গৃহবধূর বাড়ি একই উপজেলার দয়ারামপুর গ্রামে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর রাত পৌনে ১টার দিকে যৌতুকের দাবিতে নুর আলম তার স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। হত্যার পর তিনি প্রচার চালান যে তার স্ত্রী বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন।

পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশি পদক্ষেপ

নিহতের বাবা কুতুব উদ্দিন মোল্লা পরদিন, অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাদের কিছু জানায়নি। ২৪ অক্টোবর সকাল ৬টার দিকে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে তারা মেয়ের মৃত্যুর খবর পান।

পরিবারের সদস্যরা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে কাউকেই না পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

সাক্ষ্য-প্রমাণে প্রমাণিত হয় অপরাধ

ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান, মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় প্রদান করেন।

সংক্ষেপে:
ফরিদপুরের মধুখালীতে যৌতুকের কারণে স্ত্রীর জীবন কেড়ে নিয়েছিল তারই স্বামী। বছর পাঁচেক পর আদালতের রায়ে মিললো ন্যায়বিচার—যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলো ঘাতক।

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫

ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এক হৃদয়বিদারক হত্যা মামলায় স্বামী নুর আলম ওরফে হুমায়ুন (৩৪)-কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৭ মে) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি নুর আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার পেছনের নির্মম বাস্তবতা

নুর আলম ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গোপালদী গ্রামের মো. শহীদ শেখের ছেলে। নিহত গৃহবধূর বাড়ি একই উপজেলার দয়ারামপুর গ্রামে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর রাত পৌনে ১টার দিকে যৌতুকের দাবিতে নুর আলম তার স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। হত্যার পর তিনি প্রচার চালান যে তার স্ত্রী বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন।

পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশি পদক্ষেপ

নিহতের বাবা কুতুব উদ্দিন মোল্লা পরদিন, অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাদের কিছু জানায়নি। ২৪ অক্টোবর সকাল ৬টার দিকে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে তারা মেয়ের মৃত্যুর খবর পান।

পরিবারের সদস্যরা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে কাউকেই না পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

সাক্ষ্য-প্রমাণে প্রমাণিত হয় অপরাধ

ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান, মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় প্রদান করেন।

সংক্ষেপে:
ফরিদপুরের মধুখালীতে যৌতুকের কারণে স্ত্রীর জীবন কেড়ে নিয়েছিল তারই স্বামী। বছর পাঁচেক পর আদালতের রায়ে মিললো ন্যায়বিচার—যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলো ঘাতক।