ফরিদপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৫:০২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
- / 378
ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিগ্রিরচর ইউনিয়নের দিরাজতুল্লাহ মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করার অপরাধে স্বামী আসাদ ওরফে বাচ্চুকে (৪৩) মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন আদালত।
বুধবার (আজ) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের মাননীয় বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসাদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে পুলিশ প্রহরায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর রাতের কোনো এক সময় আসাদ তার স্ত্রী শান্তা (২২)-কে যৌতুকের জন্য শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করেন। এরপর লাশ ফেলে রেখে তিনি পালিয়ে যান।
নিহত শান্তার মা জরিনা বেগম ২৮ অক্টোবর ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি মামলায় উল্লেখ করেন, মৃত্যুর মাত্র তিন মাস আগে আসাদ তার মেয়েকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে শান্তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়।
পরবর্তীতে আসাদ দোষ স্বীকার করে পুনরায় শান্তাকে বিয়ে করেন এবং তারা ফরিদপুর সদর উপজেলার এমবিআই এগ্রো ফার্মে চাকরি নেন। সেখানেও যৌতুক নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলতে থাকে। এক পর্যায়ে ২৫ অক্টোবর রাতে শান্তাকে হত্যা করে পালিয়ে যান আসাদ।
২৬ অক্টোবর সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শান্তার মরদেহ উদ্ধার করে।
রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য
ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান, “আমরা রাষ্ট্রপক্ষ মামলার এই রায়ে সন্তুষ্ট। মামলাটিতে মোট ১০ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। আলামত এবং সাক্ষীদের জবানবন্দির মাধ্যমে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় দেন।”
তিনি আরও বলেন, “এই মামলাটি নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। এই রায়ের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”





















