রাজস্ব যুদ্ধের আগুন: এনবিআর বিলুপ্তিতে আগারগাঁওয়ে ফুঁসে উঠলো শত শত কর্মকর্তা!
- আপডেট সময় : ০২:১৩:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫
- / 412
আয়কর ও কাস্টমস ক্যাডার কর্মকর্তাদের মতামত উপেক্ষা করে বহুল আলোচিত ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ’ সোমবার রাতে সংশোধন ছাড়াই জারি করা হয়েছে। এতে রাজস্ব নীতি বিভাগের কার্যপরিধিতে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রশাসনিক পদগুলোতে অ্যাডমিন ক্যাডারের পাশাপাশি আয়কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কর-ক্যাডারের সন্তোষ প্রকাশ
গেজেট প্রকাশের পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আয়কর ও কাস্টমস কর্মকর্তা যুগান্তরকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান, এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে তাদের অধিকাংশ দাবি বাস্তবায়িত হয়েছে। তাদের মতে, একটি ইতিবাচক দিক হলো, কর ক্যাডার কর্মকর্তারা কর ক্যাডারদের অধীনেই এবং শুল্ক ক্যাডার কর্মকর্তারা শুল্ক ক্যাডারদের অধীনেই পরিচালিত হবেন।
অধ্যাদেশের পরিবর্তনসমূহ
অধ্যাদেশের খসড়া পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাজস্ব নীতি বিভাগ এখন কর আইন প্রয়োগ ও কর আদায়ের পরিস্থিতি “মূল্যায়ন” করবে, যেখানে পূর্বে “পরিবীক্ষণ” শব্দটি ব্যবহৃত ছিল। রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগে প্রশাসনিক অনুবিভাগের বিভিন্ন পদ অ্যাডমিন ক্যাডার ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মরত কর্মচারীদের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।
নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনবল রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগে ন্যস্ত করা হবে, এবং প্রয়োজনীয় জনবল রাজস্ব নীতি বিভাগে পদায়ন করা যাবে। একইসঙ্গে, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত হয়ে তার জনবল রাজস্ব নীতি বিভাগে স্থানান্তর করা হবে।
এনবিআর বিলুপ্তির প্রতিবাদে আন্দোলন
এনবিআর বিলুপ্তির প্রতিবাদে সোমবার দিনব্যাপী আগারগাঁও রাজস্ব ভবনে বিক্ষোভ করেছেন প্রায় পাঁচ শতাধিক আয়কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং ঢাকার বিভিন্ন কর অঞ্চল, কাস্টমস হাউস ও ভ্যাট কমিশনারেটে কর্মরত তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দফায় দফায় বৈঠক করেন বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, ফলে কার্যত রাজস্ব আদায় কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে।
অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আজ মঙ্গলবার বিকাল ৩টা থেকে রাজস্ব ভবনের সামনে বিসিএস আয়কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তা, নন-ক্যাডার কর্মকর্তা এবং তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সমন্বয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
কর্মকর্তাদের অভিযোগ
আয়কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশের নিজস্ব রাজস্ব আদায়কারী সংস্থা রয়েছে। অথচ বাংলাদেশে কোনো সমীক্ষা ছাড়াই এনবিআর বিলুপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
তারা দাবি করেন, একটি বিশেষ ক্যাডার নিজস্ব আধিপত্য বজায় রাখতে একতরফাভাবে খসড়া অধ্যাদেশ তৈরি করেছে। এতে কাস্টমস ও আয়কর ক্যাডারের মতামত তো উপেক্ষিতই, এমনকি অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা শ্বেতপত্র কমিটি কিংবা এনবিআর সংস্কারবিষয়ক পরামর্শক কমিটির সুপারিশও আমলে নেওয়া হয়নি।
পূর্বের অভিযোগ ও শঙ্কা
এর আগে কাস্টমস ও আয়কর ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অধ্যাদেশের খসড়ায় তাদের মতামত প্রতিফলিত হয়নি। বিভাগ দুটিতে কাস্টমস ও আয়কর ক্যাডারের জন্য পদ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না রেখে রাজস্ব সংক্রান্ত কাজে অভিজ্ঞতা নেই এমন কর্মকর্তাদের পদায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে রাজস্ব প্রশাসনের দক্ষতা, গতিশীলতা ও কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে। পাশাপাশি, এনবিআরে কর্মরত দুটি ক্যাডারের কাজের ক্ষেত্র ও পদোন্নতির সুযোগও সংকুচিত হবে।

























