ঢাকা ০৩:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শামিম দারিয়ার হুঁশিয়ারিতে অচল কোটালীপাড়া: সড়ক অবরোধে পুলিশ অসহায়!

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:৩১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
  • / 361

গোপালগঞ্জ, ১৬ জুলাই, ২০২৫ – জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ‘জুলাই পদযাত্রা’ ঠেকাতে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় সড়ক অবরোধ করেছে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে উপজেলার অবদার হাট এলাকায় পয়সারহাট-গোপালগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখে তারা, যার ফলে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই দিনে গোপালগঞ্জ সদরে ইউএনও’র গাড়িবহর ও পুলিশের গাড়িতে হামলার ঘটনার পর কোটালীপাড়ার এই সড়ক অবরোধ নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

সড়ক অবরোধ ও অবস্থান

আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ ফেলে রেখেছে এবং লাঠিসোঠা নিয়ে অবস্থান নিয়েছে। তাদের এই কঠোর অবস্থানের কারণে গোপালগঞ্জ-পয়সারহাট সড়কের উভয় দিকে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

ছাত্রলীগের হুঁশিয়ারি: ‘একবিন্দু ছাড় দেব না!’

নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামিম দারিয়া এই অবরোধের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “গোপালগঞ্জের মাটিতে কোনো ক্রমেই এনসিপির সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। আমাদের গায়ে একবিন্দু রক্ত থাকতে তারা কোটালীপাড়ার উপর দিয়ে গোপালগঞ্জ যেতে পারবে না।”

পুলিশ প্রশাসনের প্রতি বার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমাদের ভাই। আপনাদের সাথে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। অবৈধ ইউনুস সরকারের কোনো এজেন্ডা যদি আপনারা বাস্তবায়ন করতে যান তাহলে আপনাদের আমরা একবিন্দু ছাড় দিব না।” তার এই বক্তব্য সরকারের প্রতি একটি প্রচ্ছন্ন হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রস্তুতি

কোটালীপাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গাজী খসরু জানান, তারা ধারণা করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বরিশাল থেকে গৌরনদী হয়ে কোটালীপাড়ার উপর দিয়ে গোপালগঞ্জ যেতে পারেন। সে কারণেই তারা কোটালীপাড়ায় অবস্থান নিয়েছেন।

পুলিশের অসহায়ত্ব: ‘পর্যাপ্ত ফোর্স নেই’

কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমরা আজকের এই প্রতিরোধে বাধা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা পুলিশের বাধাকে উপেক্ষা করে সড়কটি অবরোধ করে রেখেছে। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যেহেতু আমাদের পর্যাপ্ত ফোর্স নেই আমরা তাদেরকে প্রতিরোধ করতে গেলে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে তারা সড়কের শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছে।” পুলিশের এই অসহায়ত্ব ও পর্যাপ্ত ফোর্সের অভাবের বিষয়টি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে নির্দেশ করছে।

গোপালগঞ্জে একের পর এক এই ধরনের সহিংস ঘটনা কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কর্মসূচির জেরে স্থানীয় পর্যায়ে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

শামিম দারিয়ার হুঁশিয়ারিতে অচল কোটালীপাড়া: সড়ক অবরোধে পুলিশ অসহায়!

আপডেট সময় : ০১:৩১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

গোপালগঞ্জ, ১৬ জুলাই, ২০২৫ – জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ‘জুলাই পদযাত্রা’ ঠেকাতে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় সড়ক অবরোধ করেছে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে উপজেলার অবদার হাট এলাকায় পয়সারহাট-গোপালগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখে তারা, যার ফলে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই দিনে গোপালগঞ্জ সদরে ইউএনও’র গাড়িবহর ও পুলিশের গাড়িতে হামলার ঘটনার পর কোটালীপাড়ার এই সড়ক অবরোধ নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

সড়ক অবরোধ ও অবস্থান

আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ ফেলে রেখেছে এবং লাঠিসোঠা নিয়ে অবস্থান নিয়েছে। তাদের এই কঠোর অবস্থানের কারণে গোপালগঞ্জ-পয়সারহাট সড়কের উভয় দিকে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

ছাত্রলীগের হুঁশিয়ারি: ‘একবিন্দু ছাড় দেব না!’

নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামিম দারিয়া এই অবরোধের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “গোপালগঞ্জের মাটিতে কোনো ক্রমেই এনসিপির সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। আমাদের গায়ে একবিন্দু রক্ত থাকতে তারা কোটালীপাড়ার উপর দিয়ে গোপালগঞ্জ যেতে পারবে না।”

পুলিশ প্রশাসনের প্রতি বার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমাদের ভাই। আপনাদের সাথে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। অবৈধ ইউনুস সরকারের কোনো এজেন্ডা যদি আপনারা বাস্তবায়ন করতে যান তাহলে আপনাদের আমরা একবিন্দু ছাড় দিব না।” তার এই বক্তব্য সরকারের প্রতি একটি প্রচ্ছন্ন হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রস্তুতি

কোটালীপাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গাজী খসরু জানান, তারা ধারণা করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বরিশাল থেকে গৌরনদী হয়ে কোটালীপাড়ার উপর দিয়ে গোপালগঞ্জ যেতে পারেন। সে কারণেই তারা কোটালীপাড়ায় অবস্থান নিয়েছেন।

পুলিশের অসহায়ত্ব: ‘পর্যাপ্ত ফোর্স নেই’

কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমরা আজকের এই প্রতিরোধে বাধা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা পুলিশের বাধাকে উপেক্ষা করে সড়কটি অবরোধ করে রেখেছে। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যেহেতু আমাদের পর্যাপ্ত ফোর্স নেই আমরা তাদেরকে প্রতিরোধ করতে গেলে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে তারা সড়কের শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছে।” পুলিশের এই অসহায়ত্ব ও পর্যাপ্ত ফোর্সের অভাবের বিষয়টি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে নির্দেশ করছে।

গোপালগঞ্জে একের পর এক এই ধরনের সহিংস ঘটনা কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কর্মসূচির জেরে স্থানীয় পর্যায়ে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।