ঢাকা ১২:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাঁচ দেশে মিলেছে বিপুল সম্পদ

শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের অর্থ পাচার: ৬৩৫ কোটি টাকার সন্ধান, আন্তর্জাতিক সম্পদ উদ্ধার উদ্যোগ

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৩৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ মার্চ ২০২৫
  • / 120

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে বড় ধরনের তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) জানায়, শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ১২৪ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৬৩৫ কোটি ১৪ লাখ টাকার সন্ধান মিলেছে। এছাড়া, তাদের ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, হংকং, এবং কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে বিপুল পরিমাণ সম্পদ পাওয়া গেছে। অর্থ পাচারের অপরাধে এই অভিযোগের তদন্ত চলছে।

বৈঠকে প্রকাশিত তথ্য ও কার্যক্রম

সোমবার, বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি ‘পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার, গৃহীত পদক্ষেপ ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক ছিল। সেখানে বিএফআইইউ থেকে জানানো হয় যে, শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তে ইতোমধ্যে চার্জশিট দাখিল হয়েছে। তাদের ৭ সদস্যের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

পাচারের অর্থ উদ্ধার ও আইনি উদ্যোগ

প্রেস সচিব শফিকুল আলম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’। তিনি আরও জানান, প্রায় ২০০টি আইনি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং ৩০টি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে, একটি বিশেষ আইন প্রণয়নের কাজ চলছে যা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জারি করা হবে। এছাড়া, একটি অ্যাসেট রিকভারি এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করা হবে।

অর্থ পাচার ও আন্তর্জাতিক প্রভাব

তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এসব অর্থ প্রধানত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, হংকং এবং অন্যান্য ট্যাক্সহেভেন দেশগুলোতে পাচার করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক আইনজীবী এবং ফান্ড ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পাচার ও শিক্ষা খাতে দুর্নীতি

একটি কেসে দেখা গেছে, বিদেশে পড়াশোনা করার নামে ৪০০-৫০০ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। এসব তথ্য প্রকাশ পেলে অর্থ পাচারের কিভাবে পরি চালিত হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

নতুন আইন ও শ্বেতপত্র প্রতিবেদন

শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যার মধ্যে ১৭ বিলিয়ন ডলার ব্যাংকিং সিস্টেমের মাধ্যমে পাচার হয়েছে। সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে, এই টাকা ফিরিয়ে আনা এবং দেশের মানুষের অর্থ রক্ষা করা।

শীর্ষক: “শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের অর্থ পাচার: ৬৩৫ কোটি টাকার সন্ধান, আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আওতায় সম্পদ উদ্ধার”

পাঁচ দেশে মিলেছে বিপুল সম্পদ

শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের অর্থ পাচার: ৬৩৫ কোটি টাকার সন্ধান, আন্তর্জাতিক সম্পদ উদ্ধার উদ্যোগ

আপডেট সময় : ১২:৩৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ মার্চ ২০২৫

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে বড় ধরনের তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) জানায়, শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ১২৪ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৬৩৫ কোটি ১৪ লাখ টাকার সন্ধান মিলেছে। এছাড়া, তাদের ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, হংকং, এবং কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে বিপুল পরিমাণ সম্পদ পাওয়া গেছে। অর্থ পাচারের অপরাধে এই অভিযোগের তদন্ত চলছে।

বৈঠকে প্রকাশিত তথ্য ও কার্যক্রম

সোমবার, বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি ‘পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার, গৃহীত পদক্ষেপ ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক ছিল। সেখানে বিএফআইইউ থেকে জানানো হয় যে, শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তে ইতোমধ্যে চার্জশিট দাখিল হয়েছে। তাদের ৭ সদস্যের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

পাচারের অর্থ উদ্ধার ও আইনি উদ্যোগ

প্রেস সচিব শফিকুল আলম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’। তিনি আরও জানান, প্রায় ২০০টি আইনি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং ৩০টি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে, একটি বিশেষ আইন প্রণয়নের কাজ চলছে যা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জারি করা হবে। এছাড়া, একটি অ্যাসেট রিকভারি এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করা হবে।

অর্থ পাচার ও আন্তর্জাতিক প্রভাব

তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এসব অর্থ প্রধানত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, হংকং এবং অন্যান্য ট্যাক্সহেভেন দেশগুলোতে পাচার করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক আইনজীবী এবং ফান্ড ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পাচার ও শিক্ষা খাতে দুর্নীতি

একটি কেসে দেখা গেছে, বিদেশে পড়াশোনা করার নামে ৪০০-৫০০ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। এসব তথ্য প্রকাশ পেলে অর্থ পাচারের কিভাবে পরি চালিত হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

নতুন আইন ও শ্বেতপত্র প্রতিবেদন

শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যার মধ্যে ১৭ বিলিয়ন ডলার ব্যাংকিং সিস্টেমের মাধ্যমে পাচার হয়েছে। সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে, এই টাকা ফিরিয়ে আনা এবং দেশের মানুষের অর্থ রক্ষা করা।

শীর্ষক: “শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের অর্থ পাচার: ৬৩৫ কোটি টাকার সন্ধান, আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আওতায় সম্পদ উদ্ধার”