ইফতারে প্রধান অতিথিকে বরণ করা নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১
- আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫
- / 187
রাজশাহীর তানোরে বিএনপির ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথিকে বরণ করা নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত জানেউল (৫০) মারা গেছেন। রামেক হাসপাতালে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় বুধবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার পাঁচন্দর ইউপির কৃঞ্চপুর মোড়ে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।
ওই সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের অনন্ত ৪ জন আহত হয়েছেন। আহত বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন। নিহত জানেউল বিএনপি কর্মী ও সাবেক চেয়ারম্যান মমিনুল হক মমিনের আপন ভাই। বাড়ি উপজেলার পাঁচন্দর ইউপির কৈচা মাহানপুর গ্রামে।
এ ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ছোট ভাই রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন।
চেয়ারম্যান মমিনুল হকের অনুসারী সাবেক ছাত্রদলের সভাপতি এমএ মালেক জানান, সরকার ও দলীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা মজিবুর প্রভাব খাটিয়ে একাই সবকিছু নিয়ে নেয়। কিন্তু মমিনকে কোন পাত্তাই দেয় প্রভাষক মজিবর রহমান। মমিন গ্রুপের লোকজন কৃঞ্চপুর আদর্শ মহিলা কলেজে ইফতারে উপস্থিত হওয়ার জন্য কৃষ্ণপুর মোড়ে প্রধান অতিথিকে বরণ করে মঞ্চে নিয়ে যেতে চান। এ সময় মজিবুর রহমান ও তার সাঙ্গোপাঙ্গ নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতেই গুরুতর আহত হন সাবেক চেয়ারম্যান মমিন ও তার ভাই জানেউল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার কৃঞ্চপুর মোড়ে আশামাত্রই কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই মারপিট শুরু হয়। মোড়ে যখন মারপিট চলছে তখন ইফতারের মঞ্চে উপজেলার শীর্ষ নেতারা বসে ছিলেন। বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মতিনের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে প্রভাষক মুজিবর রহমান অতীতে সব ধরনের সরকারি সুবিধা ভোগ করেছেন বলে নেতাকর্মীদের দাবি। মূলত এমন ধারণা থেকে উভয় গ্রুপের মধ্যে এক প্রকার উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তারই ধারাবাহিকতায় সংঘর্ষ ধাওয়া পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তানোর থানার ওসি আফজাল হোসেন। তানোর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখেরুজ্জামান হান্নান বলেন, “কৃষ্ণপুর মহিলা কলেজ মাঠে ইফতারের স্থান ছিল। প্রধান অতিথি মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিনকে কৃঞ্চপুর মোড় থেকে স্লোগান দিয়ে ইফতারের মঞ্চে নিয়ে যেতে চায় মমিনের লোকজন; কিন্তু প্রভাষক মজিবুর বাধা দেয়। এটা নিয়েই মারপিট হয়। এখন পরিবেশ শান্ত আছে। নিহতের লাশ দাফনের পর উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে ঘটনা মীমাংসা করা হবে।”
তানোর থানার ওসি আফজাল হোসেন বলেন, “বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে একজন রামেক হাসপাতালে মারা গেছেন। ঘটনার দিন পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এখন পরিবেশ শান্ত আছে। তবে কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।





















