ঢাকা ১২:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে দিল জনতা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৪:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 716

ধর্মীয় রীতি ভঙ্গের অভিযোগে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে কবর থেকে এক ব্যক্তির লাশ তুলে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

ঘটনার সূত্রপাত

গোয়ালন্দ পৌরসভার নুরুল হক, যিনি ‘নুরুল পাগল’ নামে পরিচিত ছিলেন, আশির দশকের শেষ দিকে নিজ বাড়িতে একটি ‘দরবার শরিফ’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিজেকে ‘পীর’ হিসেবে দাবি করতেন। গত ২৩ আগস্ট বার্ধক্যজনিত কারণে তার মৃত্যু হলে রাতে তাকে মাটি থেকে কয়েক ফুট উঁচু একটি বিশেষ বেদিতে দাফন করা হয়।

এই ধরনের দাফন ইসলামবিরোধী দাবি করে স্থানীয় আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। এর প্রতিবাদে ‘ইমাম-আকিদা রক্ষা কমিটি’ নামে একটি সংগঠন গঠিত হয়। তারা সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের কাছে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান দাবি করে। তবে সমাধান না হওয়ায় শুক্রবার বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় কমিটি, যার ফলে এই সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

ক্ষুব্ধ জনতা ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

শুক্রবার দুপুরের পর বিক্ষুব্ধ জনতা নুরুল হকের কবর থেকে তার লাশ উত্তোলন করে। এরপর তারা লাশটি পদ্মার মোড়ে নিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। উত্তেজিত জনতা এসময় পুলিশের দুটি পিকআপ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি ভাঙচুর করে।

খবর পেয়ে দ্রুত রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরীফ আল রাজীব বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ তৎপরতা দেখায়।

কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে দিল জনতা

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ধর্মীয় রীতি ভঙ্গের অভিযোগে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে কবর থেকে এক ব্যক্তির লাশ তুলে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

ঘটনার সূত্রপাত

গোয়ালন্দ পৌরসভার নুরুল হক, যিনি ‘নুরুল পাগল’ নামে পরিচিত ছিলেন, আশির দশকের শেষ দিকে নিজ বাড়িতে একটি ‘দরবার শরিফ’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিজেকে ‘পীর’ হিসেবে দাবি করতেন। গত ২৩ আগস্ট বার্ধক্যজনিত কারণে তার মৃত্যু হলে রাতে তাকে মাটি থেকে কয়েক ফুট উঁচু একটি বিশেষ বেদিতে দাফন করা হয়।

এই ধরনের দাফন ইসলামবিরোধী দাবি করে স্থানীয় আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। এর প্রতিবাদে ‘ইমাম-আকিদা রক্ষা কমিটি’ নামে একটি সংগঠন গঠিত হয়। তারা সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের কাছে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান দাবি করে। তবে সমাধান না হওয়ায় শুক্রবার বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় কমিটি, যার ফলে এই সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

ক্ষুব্ধ জনতা ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

শুক্রবার দুপুরের পর বিক্ষুব্ধ জনতা নুরুল হকের কবর থেকে তার লাশ উত্তোলন করে। এরপর তারা লাশটি পদ্মার মোড়ে নিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। উত্তেজিত জনতা এসময় পুলিশের দুটি পিকআপ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি ভাঙচুর করে।

খবর পেয়ে দ্রুত রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরীফ আল রাজীব বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ তৎপরতা দেখায়।