ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলেজ পরিচালনা নিয়ে বিএনপির দুপক্ষে সংঘর্ষ, ছাত্রদল নেতা নিহত, আহত ১০

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫
  • / 202

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে চাতল বাঘহাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধে আশিক খাঁ (২২) নামে এক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের দুই কর্মকর্তাসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকের এ ঘটনায় স্কুল পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুল ও আব্দুল হান্নান নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত ও আহতদের পরিচয়:

নিহত আশিক উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের চাতল গ্রামের মো. আরব আলী খাঁর পুত্র ও মুমুরদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। আহতরা হলেন- ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সহকারী কলেজ পরিদর্শক মো. লোকমান মুন্সী, বোর্ডের সেকশন অফিসার মো. আহাদ খান, চাতল বাঘহাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হেমায়েত হোসেন, মো. রঞ্জন খাঁ, মুমুরদিয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি মুহিউদ্দিন সরকার, ছাত্রদল নেতা রাজিব। নিহত আশিকের স্বজন ও ছাত্রদলের সমর্থকরা লাশ নিয়ে খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে কটিয়াদী উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

 ঘটনার সূত্রপাত ও সংঘর্ষ:

জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির এডহক কমিটি গঠনের জন্য সভাপতি হিসেবে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক নুরুজ্জামান চন্দনের নাম প্রস্তাব করায় কলেজের সাবেক সভাপতি আলী হায়দার বাবুল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা বোর্ডের সহকারী কলেজ পরিদর্শক মো. লোকমান মুন্সী ও সেকশন অফিসার আহাদ খানের নেতৃত্বে একটি তদন্ত টিম শনিবার প্রতিষ্ঠানে আসেন। মমুরদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন সাবেরী ও কটিয়াদী মডেল থানার ওসির (তদন্ত) উপস্থিতে স্কুল মাঠে তদন্তের কাজ শুরু করার পর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নুরুজ্জামান চন্দন ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি আলী হায়দার বাবুল, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আশিকুজ্জামান নজরুলের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির পর সংঘর্ষ হয়। এতে আশিক খাঁ নামে একজন নিহত ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের দুজন কর্মকর্তা, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও পুলিশের পদক্ষেপ:

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সহকারী কলেজ পরিদর্শক মো. লোকমান মুন্সী বলেন, একটি অভিযোগের বিষয়ে আমরা প্রতিষ্ঠানটিতে তদন্ত করার সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে আমি এবং আমার সঙ্গে থাকা বোর্ডের সেকশন অফিসার আহাদ খান আহত হয়েছি। কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. হাবিবুল্লাহ খান জানান, চাতল বাঘহাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের তদন্তের সময় দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষে আশিক নামে একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

কলেজ পরিচালনা নিয়ে বিএনপির দুপক্ষে সংঘর্ষ, ছাত্রদল নেতা নিহত, আহত ১০

আপডেট সময় : ১১:৩৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে চাতল বাঘহাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধে আশিক খাঁ (২২) নামে এক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের দুই কর্মকর্তাসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকের এ ঘটনায় স্কুল পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুল ও আব্দুল হান্নান নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত ও আহতদের পরিচয়:

নিহত আশিক উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের চাতল গ্রামের মো. আরব আলী খাঁর পুত্র ও মুমুরদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। আহতরা হলেন- ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সহকারী কলেজ পরিদর্শক মো. লোকমান মুন্সী, বোর্ডের সেকশন অফিসার মো. আহাদ খান, চাতল বাঘহাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হেমায়েত হোসেন, মো. রঞ্জন খাঁ, মুমুরদিয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি মুহিউদ্দিন সরকার, ছাত্রদল নেতা রাজিব। নিহত আশিকের স্বজন ও ছাত্রদলের সমর্থকরা লাশ নিয়ে খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে কটিয়াদী উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

 ঘটনার সূত্রপাত ও সংঘর্ষ:

জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির এডহক কমিটি গঠনের জন্য সভাপতি হিসেবে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক নুরুজ্জামান চন্দনের নাম প্রস্তাব করায় কলেজের সাবেক সভাপতি আলী হায়দার বাবুল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা বোর্ডের সহকারী কলেজ পরিদর্শক মো. লোকমান মুন্সী ও সেকশন অফিসার আহাদ খানের নেতৃত্বে একটি তদন্ত টিম শনিবার প্রতিষ্ঠানে আসেন। মমুরদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন সাবেরী ও কটিয়াদী মডেল থানার ওসির (তদন্ত) উপস্থিতে স্কুল মাঠে তদন্তের কাজ শুরু করার পর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নুরুজ্জামান চন্দন ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি আলী হায়দার বাবুল, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আশিকুজ্জামান নজরুলের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির পর সংঘর্ষ হয়। এতে আশিক খাঁ নামে একজন নিহত ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের দুজন কর্মকর্তা, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও পুলিশের পদক্ষেপ:

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সহকারী কলেজ পরিদর্শক মো. লোকমান মুন্সী বলেন, একটি অভিযোগের বিষয়ে আমরা প্রতিষ্ঠানটিতে তদন্ত করার সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে আমি এবং আমার সঙ্গে থাকা বোর্ডের সেকশন অফিসার আহাদ খান আহত হয়েছি। কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. হাবিবুল্লাহ খান জানান, চাতল বাঘহাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের তদন্তের সময় দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষে আশিক নামে একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।