গাজীপুরে জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা পুলিশের মামলায় সাংবাদিক গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ০৭:২০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৩
- / 150
গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার কাপাসিয়া সংবাদদাতা অধ্যাপক শামসুল হুদা লিটনকে জামায়াত-শিবিরের সাথে নাশকতামূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার কাপাসিয়া থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত সাংবাদিক শামসুল হুদা লিটনের পরিবার জানায়, তার নামে কোন মামলা নেই এবং সে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নয়। কোন মামলা অথবা কি কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা তার পরিবার জানে না। শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা পেশা ছাড়া তার অন্য কোন পেশা নেই।
অপর দিকে সাংবাদিক শামসুল হুদা লিটন গ্রেপ্তারের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তার মুক্তি দাবি করেন। কাপাসিয়া থানা পুলিশ জানায়, জামায়াত-শিবিরের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কাপাসিয়া থানায় জামাত-শিবিরের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পুলিশবাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার পুলিশ ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সাংবাদিক অধ্যাপক শামসুল হুদা লিটনকে আদালতে পাঠালে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণর নির্দেশ প্রদান করেন।
সাংবাদিক লিটনের স্ত্রী মোসলেমা খাতুন জানান, বুধবার বিকেল ৩টায় বাড়ির উদ্দেশে কলেজ থেকে বের হওয়ার পরই কাপাসিয়া থানার সাদা পোশাকধারী পুলিশ কোনো মামলা বা গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই লিটককে আটক করে নিয়ে যায়। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত না হওয়া সত্বেও তাকে একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে। লিটনের বিরুদ্ধে কোনো মামলাও নেই জানিয়ে স্ত্রী মোসলেমা আরো জানান, যে মামলায় লিটনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে ওই মামলার এজাহারেও লিটনের নাম নেই।
এদিকে এ ব্যাপারে কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আবু বকর মিয়া বলেন, গত অক্টোবরে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে কাপাসিয়া থানায় করা একটি মামলার (নম্বর-১০) তদন্তে লিটনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। ফলে ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে সাংবাদিক লিটন আলোচিত মামলার এজাহার নামীয় আসামি নন বলে স্বীকার করেন থানার ওসি।
পুলিশের দায়ের করা ওই মামলার আরজিতে বলা হয়, ‘গত ৫ অক্টোবর রাত ৮টায় বড়হড় পূর্বপাড়া ঈদ গাঁ মাঠের সামনে জামায়াত-শিবিরের কতিপয় লোকজন রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করা, জনমনে ভয়ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার উদ্দেশে বর্তমান সরকার বিরোধী কার্যকলাপসহ ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড করার জন্য একত্রে মিলিত হয়ে নাশকতামূলক কর্মকান্ড সংঘটনের গোপন পরিকল্পনা করছে’ এমন সংবাদ পেয়ে সেখানে অভিযান পরিচালনাকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালিয়ে যায়।’ এ সময় হাদিউল ইসলাম বাদল নামের একজন আসামিকে গ্রেফতার ও জামায়াতের রিপার্টবইসহ পাঁচটি বই জব্ধ করা হয়।




















