ফরিদপুরে সরবরাহ করা হচ্ছে চাহিদার অর্ধেকরও কম বিদ্যুৎ
- আপডেট সময় : ১০:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
- / 57
তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে সারা দেশের মতো ফরিদপুর অঞ্চলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় শহর ও গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
চাহিদা ও সরবরাহের বিশাল ব্যবধান:
ফরিদপুর বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রতিদিন কমপক্ষে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে, যা পিক আওয়ারে ৬৭ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। তবে বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৬ মেগাওয়াট। শুধুমাত্র ফরিদপুর শহরের ৫ মেগাওয়াট চাহিদা সামাল দিতে কর্তৃপক্ষকে গড়ে ৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং রাখতে হচ্ছে। এর ফলে শহরের বাইরের এলাকাগুলোতে দিনে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র:
জ্বালানি সংকটের প্রভাবে ফরিদপুরের ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ খুলনা বিভাগের ১০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬টিই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ওজোপাডিকো-র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের প্রায় ৩৬টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বর্তমানে জ্বালানি অভাবে বন্ধ। বিশেষ করে খুলনা অঞ্চলের বন্ধ হওয়া ৬টি কেন্দ্র চালু না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট থেকে উত্তরণের কোনো সহজ পথ নেই।
হুমকিতে শিল্প উৎপাদন:
মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে ফরিদপুরের আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও বৃহৎ শিল্পকারখানাগুলো অচল হয়ে পড়ছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে জেলার অনেক উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানা চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ দাবি করেছে, সংকটের মধ্যেও শিল্পকারখানাগুলোকে সচল রাখতে তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ওজোপাডিকোর বক্তব্য:
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ফরিদপুর সার্কেলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ফুয়েল সাপ্লাই স্বাভাবিক করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া এই লোডশেডিং কমানো সম্ভব নয়। আজ বুধবার বর্তমান সংকট নিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে আলাপকালে এসব তথ্য উঠে আসে।



















