ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদা না দিলেই মামলার আসামি! বাদ যায় না ১১ বছরের শিশুও, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

গাজীপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:০২:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫
  • / 473

গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক স্বপন ওরফে জিএস স্বপনের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্য নিয়ে। এক সময় ছাত্রনেতা হলেও বর্তমানে কোনো দলীয় পদে নেই স্বপন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে তিনি রাজনৈতিক সুযোগ নিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করছেন।

দলীয় পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও মামলার ভয় দেখানো

স্থানীয়রা জানায়, স্বপনের টার্গেট ব্যবসায়ী, বাড়িওয়ালা, শিক্ষক এমনকি দলীয় সহকর্মীরাও। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে তিনি সংশ্লিষ্টদের নাম ভুয়া মামলায় যুক্ত করছেন। অভিযোগ রয়েছে, টঙ্গী পূর্ব থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা ও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

স্কুলশিক্ষক থেকে ব্যবসায়ী, বাদ যায়নি কেউই

টঙ্গী ও গাজীপুরের অন্তত ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন—স্বপন তাদের কাছে চাঁদা দাবি করেন এবং না দিলে মামলায় আসামি করেন। একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ব্যবসায়ীও। কেউ কেউ জানান, ২০-৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় তাদের নাম ঢুকেছে মামলার তালিকায়।

রাজনৈতিক সহকর্মীদেরও ছাড় দেননি স্বপন

বিএনপির স্থানীয় নেতা মুরাদ হোসেন বকুল অভিযোগ করেছেন, তার কাছে চাঁদা চেয়ে না পেয়ে স্বপন তাকে মামলায় ফাঁসিয়েছেন। অথচ মামলার বাদী শিলা আক্তার বলেন, “এই বিষয়ে স্বপন ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন।” টঙ্গী পূর্ব বিএনপির সভাপতি জানান, স্বপন বহু আগে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। এখন তিনি কার আশ্রয়ে এসব করছেন, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

আইফোন না দেওয়াতেও মামলায় নাম

ঠিকাদার কবির হোসেন অভিযোগ করেন, একটি অনুষ্ঠান থেকে স্বপন তার আইফোন ও টাকা নিয়ে যান। পরে ফেরত দিলেও নতুন ফোন না দেওয়ায় তাকে মামলায় ১৫৬ নম্বর আসামি করা হয়। এই সংক্রান্ত একটি ভয়েস রেকর্ড সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

১১ বছরের শিশুও আসামি!

চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীর ১১ বছরের ছেলে সাদ মোল্লাকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, এক সালিশ বৈঠকে স্বপনকে ‘চোর’ বলা হয়েছিল, যার জেরে শিশুসহ পুরো পরিবারকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

বাদীরাও চেনেন না আসামিদের

বিভিন্ন মামলায় আসামিদের চেনেন কি না—জানতে চাইলে বাদীরা বলেন, “স্বপন ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন।” এমনকি এক মামলায় বাদী মো. আসান উল্লাহ স্পষ্ট বলেন, মামলার নামগুলো স্বপন দিয়েছেন এবং তিনি এতগুলো নাম জানতেনই না।

স্বপনের বক্তব্য ও পুলিশের অবস্থান

অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বপন বলেন, তিনি কাউকে মামলায় জড়াননি এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিশনার নিশ্চিত করেছেন—স্বপনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির দুটি মামলা রয়েছে এবং তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

সারসংক্ষেপ

গাজীপুরে সাবেক বিএনপি নেতা জিয়াউল হক স্বপনের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠে এসেছে চাঁদা না দিলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর। শিশু, শিক্ষক, ব্যবসায়ী এমনকি রাজনৈতিক সহকর্মীরাও তার নির্মম কৌশলের শিকার। মামলার বাদীরাও অনেক সময় জানেন না কার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। প্রশাসন ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে, তবে সাধারণ মানুষ এখনো তার হাত থেকে মুক্তি চায়।

চাঁদা না দিলেই মামলার আসামি! বাদ যায় না ১১ বছরের শিশুও, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

আপডেট সময় : ০৬:০২:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক স্বপন ওরফে জিএস স্বপনের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্য নিয়ে। এক সময় ছাত্রনেতা হলেও বর্তমানে কোনো দলীয় পদে নেই স্বপন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে তিনি রাজনৈতিক সুযোগ নিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করছেন।

দলীয় পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও মামলার ভয় দেখানো

স্থানীয়রা জানায়, স্বপনের টার্গেট ব্যবসায়ী, বাড়িওয়ালা, শিক্ষক এমনকি দলীয় সহকর্মীরাও। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে তিনি সংশ্লিষ্টদের নাম ভুয়া মামলায় যুক্ত করছেন। অভিযোগ রয়েছে, টঙ্গী পূর্ব থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা ও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

স্কুলশিক্ষক থেকে ব্যবসায়ী, বাদ যায়নি কেউই

টঙ্গী ও গাজীপুরের অন্তত ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন—স্বপন তাদের কাছে চাঁদা দাবি করেন এবং না দিলে মামলায় আসামি করেন। একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ব্যবসায়ীও। কেউ কেউ জানান, ২০-৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় তাদের নাম ঢুকেছে মামলার তালিকায়।

রাজনৈতিক সহকর্মীদেরও ছাড় দেননি স্বপন

বিএনপির স্থানীয় নেতা মুরাদ হোসেন বকুল অভিযোগ করেছেন, তার কাছে চাঁদা চেয়ে না পেয়ে স্বপন তাকে মামলায় ফাঁসিয়েছেন। অথচ মামলার বাদী শিলা আক্তার বলেন, “এই বিষয়ে স্বপন ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন।” টঙ্গী পূর্ব বিএনপির সভাপতি জানান, স্বপন বহু আগে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। এখন তিনি কার আশ্রয়ে এসব করছেন, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

আইফোন না দেওয়াতেও মামলায় নাম

ঠিকাদার কবির হোসেন অভিযোগ করেন, একটি অনুষ্ঠান থেকে স্বপন তার আইফোন ও টাকা নিয়ে যান। পরে ফেরত দিলেও নতুন ফোন না দেওয়ায় তাকে মামলায় ১৫৬ নম্বর আসামি করা হয়। এই সংক্রান্ত একটি ভয়েস রেকর্ড সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

১১ বছরের শিশুও আসামি!

চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীর ১১ বছরের ছেলে সাদ মোল্লাকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, এক সালিশ বৈঠকে স্বপনকে ‘চোর’ বলা হয়েছিল, যার জেরে শিশুসহ পুরো পরিবারকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

বাদীরাও চেনেন না আসামিদের

বিভিন্ন মামলায় আসামিদের চেনেন কি না—জানতে চাইলে বাদীরা বলেন, “স্বপন ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন।” এমনকি এক মামলায় বাদী মো. আসান উল্লাহ স্পষ্ট বলেন, মামলার নামগুলো স্বপন দিয়েছেন এবং তিনি এতগুলো নাম জানতেনই না।

স্বপনের বক্তব্য ও পুলিশের অবস্থান

অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বপন বলেন, তিনি কাউকে মামলায় জড়াননি এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিশনার নিশ্চিত করেছেন—স্বপনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির দুটি মামলা রয়েছে এবং তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

সারসংক্ষেপ

গাজীপুরে সাবেক বিএনপি নেতা জিয়াউল হক স্বপনের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠে এসেছে চাঁদা না দিলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর। শিশু, শিক্ষক, ব্যবসায়ী এমনকি রাজনৈতিক সহকর্মীরাও তার নির্মম কৌশলের শিকার। মামলার বাদীরাও অনেক সময় জানেন না কার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। প্রশাসন ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে, তবে সাধারণ মানুষ এখনো তার হাত থেকে মুক্তি চায়।