ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মারুফ কামালকে বলেছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক

জামায়াতকে ধ্বংস করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:৩৬:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫
  • / 273

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আর নেই। রোববার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন এই প্রখ্যাত আইনজীবী।

শোক প্রকাশ ও স্মৃতিচারণ করলেন মারুফ কামাল খান

ব্যারিস্টার রাজ্জাকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান। রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি রাজ্জাককে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।

মারুফ কামাল লিখেছেন, “তার নাম অনেক আগে থেকেই শুনতাম। তবে পরিচয় হয়েছিল ২০০৯ সালে, যখন আমি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করতাম। গুলশানে ম্যাডাম জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রায়ই আসতেন রাজ্জাক সাহেব। তিনি তখন জামায়াতে ইসলামীর আলোচিত নেতা এবং উচ্চ আদালতের একজন খ্যাতনামা আইনজীবী ছিলেন। জামায়াত তখন বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল।”

ব্যক্তিত্ব ও শিষ্টাচারে অনন্য ছিলেন রাজ্জাক

“স্যুট-টাই পরা, সুবেশধারী, দীর্ঘদেহী ও ঋজু গঠনের মানুষ ব্যারিস্টার রাজ্জাক অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে, স্পষ্ট উচ্চারণে এবং পরিপূর্ণ গুছিয়ে কথা বলতেন। তাকে দেখে আমার কাছে মনে হতো, তিনি একজন নিরহংকার ও ভদ্রলোক। তার বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত কণ্ঠস্বর এখনো কানে বাজে।”

বিশ্বাস, সম্মান ও একটি ব্যক্তিগত আলাপ

মারুফ কামাল আরও লিখেছেন, “আমার সঙ্গে তার খুব বেশি কথা হতো না। কিন্তু কেন তিনি আমাকে পছন্দ করতেন বা বিশ্বাস করতেন, জানি না। একদিন তিনি আমাকে তার ল’ চেম্বারে আমন্ত্রণ জানালেন। বললেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ চান আমার কাছে। আমি গিয়েছিলাম। তিনি অনাড়ম্বরভাবে কিছু স্ন্যাক্স দিয়ে দুপুরের খাবারের আয়োজন করেছিলেন।”

“আমাকে অবাক করে দিয়ে তিনি বললেন, ‘আপনার বুদ্ধিমত্তা ও সুবিবেচনাকে আমি শ্রদ্ধা করি। তাই খুব গুরুতর একটি বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই।’”

জামায়াত নিয়ে গোপন আলোচনা ও ভবিষ্যদ্বাণী

সেদিন রাজ্জাক বলেছিলেন, “বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলন, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংস করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি আওয়ামী লীগ সরকারের একক সিদ্ধান্ত নয়, বরং মূলত একটি ইন্ডিয়ান এজেন্ডা। এই এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে বিরূপ ভূমিকার দায়ে অভিযুক্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ বলা চলে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট মূল্যায়নের সঙ্গে একমত না হলেও, কাউকে অবিচারের শিকার হতে দেখতেও পারি না।”

দলের সঙ্গে মতবিরোধ ও রাজনীতির মঞ্চ থেকে সরে যাওয়া

পরবর্তীতে জামায়াত রাজ্জাকের মতের সঙ্গে একমত হয়নি এবং তিনিও দলকে বোঝাতে পারেননি। মারুফ কামাল জানান, “রাজ্জাক সাহেব মনে করতেন, জামায়াত নেতারা পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারছেন না এবং এক অনিবার্য কুরবানির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত কোনো ফল না হলেও তিনি অভিযুক্ত নেতাদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে যান। কিন্তু এক সময় নিজেই বিপন্ন হয়ে দেশত্যাগ করেন।”

দলের সঙ্গে মতানৈক্যের কারণে তিনি নতুন দল গঠনের উদ্যোগ নেন, কিন্তু তার ভগ্নস্বাস্থ্য ও হতাশা তাকে আর এগোতে দেয়নি। পরবর্তীতে তিনি এবি পার্টির নেতৃত্বে আসেননি।

মৃত্যুর আগে দেশে ফেরা ও বিদায়

মারুফ কামাল বলেন, “হাসিনার ফ্যাসিস্ট রেজিমের পতনের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। মনে হয়, দেশের এই মুক্ত পরিবেশ যেন কেবল আব্দুর রাজ্জাকের মতো ভূমিপুত্রের স্বদেশের মাটিতে মৃত্যুবরণের সুযোগ দেওয়ার জন্যই সৃষ্টি হয়েছিল।”

শেষে তিনি বলেন, “তার পারলৌকিক মুক্তির জন্য আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করি।”

মারুফ কামালকে বলেছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক

জামায়াতকে ধ্বংস করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত

আপডেট সময় : ১০:৩৬:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আর নেই। রোববার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন এই প্রখ্যাত আইনজীবী।

শোক প্রকাশ ও স্মৃতিচারণ করলেন মারুফ কামাল খান

ব্যারিস্টার রাজ্জাকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান। রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি রাজ্জাককে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।

মারুফ কামাল লিখেছেন, “তার নাম অনেক আগে থেকেই শুনতাম। তবে পরিচয় হয়েছিল ২০০৯ সালে, যখন আমি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করতাম। গুলশানে ম্যাডাম জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রায়ই আসতেন রাজ্জাক সাহেব। তিনি তখন জামায়াতে ইসলামীর আলোচিত নেতা এবং উচ্চ আদালতের একজন খ্যাতনামা আইনজীবী ছিলেন। জামায়াত তখন বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল।”

ব্যক্তিত্ব ও শিষ্টাচারে অনন্য ছিলেন রাজ্জাক

“স্যুট-টাই পরা, সুবেশধারী, দীর্ঘদেহী ও ঋজু গঠনের মানুষ ব্যারিস্টার রাজ্জাক অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে, স্পষ্ট উচ্চারণে এবং পরিপূর্ণ গুছিয়ে কথা বলতেন। তাকে দেখে আমার কাছে মনে হতো, তিনি একজন নিরহংকার ও ভদ্রলোক। তার বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত কণ্ঠস্বর এখনো কানে বাজে।”

বিশ্বাস, সম্মান ও একটি ব্যক্তিগত আলাপ

মারুফ কামাল আরও লিখেছেন, “আমার সঙ্গে তার খুব বেশি কথা হতো না। কিন্তু কেন তিনি আমাকে পছন্দ করতেন বা বিশ্বাস করতেন, জানি না। একদিন তিনি আমাকে তার ল’ চেম্বারে আমন্ত্রণ জানালেন। বললেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ চান আমার কাছে। আমি গিয়েছিলাম। তিনি অনাড়ম্বরভাবে কিছু স্ন্যাক্স দিয়ে দুপুরের খাবারের আয়োজন করেছিলেন।”

“আমাকে অবাক করে দিয়ে তিনি বললেন, ‘আপনার বুদ্ধিমত্তা ও সুবিবেচনাকে আমি শ্রদ্ধা করি। তাই খুব গুরুতর একটি বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই।’”

জামায়াত নিয়ে গোপন আলোচনা ও ভবিষ্যদ্বাণী

সেদিন রাজ্জাক বলেছিলেন, “বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলন, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংস করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি আওয়ামী লীগ সরকারের একক সিদ্ধান্ত নয়, বরং মূলত একটি ইন্ডিয়ান এজেন্ডা। এই এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে বিরূপ ভূমিকার দায়ে অভিযুক্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ বলা চলে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট মূল্যায়নের সঙ্গে একমত না হলেও, কাউকে অবিচারের শিকার হতে দেখতেও পারি না।”

দলের সঙ্গে মতবিরোধ ও রাজনীতির মঞ্চ থেকে সরে যাওয়া

পরবর্তীতে জামায়াত রাজ্জাকের মতের সঙ্গে একমত হয়নি এবং তিনিও দলকে বোঝাতে পারেননি। মারুফ কামাল জানান, “রাজ্জাক সাহেব মনে করতেন, জামায়াত নেতারা পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারছেন না এবং এক অনিবার্য কুরবানির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত কোনো ফল না হলেও তিনি অভিযুক্ত নেতাদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে যান। কিন্তু এক সময় নিজেই বিপন্ন হয়ে দেশত্যাগ করেন।”

দলের সঙ্গে মতানৈক্যের কারণে তিনি নতুন দল গঠনের উদ্যোগ নেন, কিন্তু তার ভগ্নস্বাস্থ্য ও হতাশা তাকে আর এগোতে দেয়নি। পরবর্তীতে তিনি এবি পার্টির নেতৃত্বে আসেননি।

মৃত্যুর আগে দেশে ফেরা ও বিদায়

মারুফ কামাল বলেন, “হাসিনার ফ্যাসিস্ট রেজিমের পতনের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। মনে হয়, দেশের এই মুক্ত পরিবেশ যেন কেবল আব্দুর রাজ্জাকের মতো ভূমিপুত্রের স্বদেশের মাটিতে মৃত্যুবরণের সুযোগ দেওয়ার জন্যই সৃষ্টি হয়েছিল।”

শেষে তিনি বলেন, “তার পারলৌকিক মুক্তির জন্য আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করি।”