ঢাকা ০৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হত্যার দায় স্বীকার করে জাসদ গণবাহিনীর বিবৃতি

ঝিনাইদহে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ৩, চরমপন্থীদের দায় স্বীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক ঝিনাইদহ
  • আপডেট সময় : ১১:৫৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 257

ঝিনাইদহের শৈলকূপায় ত্রিবেনী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর শ্মশান ঘাট এলাকায় শুক্রবার রাতে তিনজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির কথিত সামরিক কমান্ডার হানিফ।

পুলিশ রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। নিহতদের মাথায় গুলির চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলে দুইটি মোটরসাইকেল ও হেলমেট পড়ে ছিল।

নিহতদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন হরিণাকুন্ডু উপজেলার আহাদনগর গ্রামের রাহাজ উদ্দীনের ছেলে হানিফ আলী (৫২) ও তার শ্যালক শ্রীরামপুর গ্রামের উম্মাদ আলীর ছেলে লিটন (৩৫)। নিহত অন্য ব্যক্তির নাম রাইসুল ইসলাম।

শৈলকূপা থানার ওসি মাসুম খান খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত হানিফ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। হরিণাকুন্ডু উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের আব্দুর রহমান হত্যা মামলায় তার ফাঁসি আদেশ হয়। পরে রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমায় তিনি এলাকায় ফিরে আসেন এবং মৎস্যজীবী লীগের উপজেলা কমিটির সহ-সভাপতি নিযুক্ত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কায়েতপাড়া বাওড়ে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হানিফ সম্প্রতি ওই বাওড়ে মাছ ধরার চেষ্টা করেন।

হরিণাকুন্ডুর সাধারণ মানুষ জানায়, হানিফ শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে। ইজাল মাস্টারকে হত্যার পর তার মাথা কেটে ফুটবল খেলেছিল।

এদিকে, জাসদ গণবাহিনীর জনৈক কালু পরিচয় দিয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। এক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় তারা জানায়, “পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি নামধারী কুখ্যাত ডাকাত বাহিনীর শীর্ষ নেতা হানিফ তার দুই সহযোগীসহ জাসদ গণবাহিনীর সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন।”

দীর্ঘদিন পর চরমপন্থীদের গুলির লড়াই ও দায় স্বীকারের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, একই স্থানে ২০০৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ৫ জনকে হত্যা করেছিল সন্ত্রাসীরা। সেই মামলায় দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

ট্যাগস :

হত্যার দায় স্বীকার করে জাসদ গণবাহিনীর বিবৃতি

ঝিনাইদহে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ৩, চরমপন্থীদের দায় স্বীকার

আপডেট সময় : ১১:৫৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ঝিনাইদহের শৈলকূপায় ত্রিবেনী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর শ্মশান ঘাট এলাকায় শুক্রবার রাতে তিনজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির কথিত সামরিক কমান্ডার হানিফ।

পুলিশ রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। নিহতদের মাথায় গুলির চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলে দুইটি মোটরসাইকেল ও হেলমেট পড়ে ছিল।

নিহতদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন হরিণাকুন্ডু উপজেলার আহাদনগর গ্রামের রাহাজ উদ্দীনের ছেলে হানিফ আলী (৫২) ও তার শ্যালক শ্রীরামপুর গ্রামের উম্মাদ আলীর ছেলে লিটন (৩৫)। নিহত অন্য ব্যক্তির নাম রাইসুল ইসলাম।

শৈলকূপা থানার ওসি মাসুম খান খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত হানিফ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। হরিণাকুন্ডু উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের আব্দুর রহমান হত্যা মামলায় তার ফাঁসি আদেশ হয়। পরে রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমায় তিনি এলাকায় ফিরে আসেন এবং মৎস্যজীবী লীগের উপজেলা কমিটির সহ-সভাপতি নিযুক্ত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কায়েতপাড়া বাওড়ে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হানিফ সম্প্রতি ওই বাওড়ে মাছ ধরার চেষ্টা করেন।

হরিণাকুন্ডুর সাধারণ মানুষ জানায়, হানিফ শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে। ইজাল মাস্টারকে হত্যার পর তার মাথা কেটে ফুটবল খেলেছিল।

এদিকে, জাসদ গণবাহিনীর জনৈক কালু পরিচয় দিয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। এক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় তারা জানায়, “পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি নামধারী কুখ্যাত ডাকাত বাহিনীর শীর্ষ নেতা হানিফ তার দুই সহযোগীসহ জাসদ গণবাহিনীর সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন।”

দীর্ঘদিন পর চরমপন্থীদের গুলির লড়াই ও দায় স্বীকারের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, একই স্থানে ২০০৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ৫ জনকে হত্যা করেছিল সন্ত্রাসীরা। সেই মামলায় দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।