ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝুলে গেল নির্বাচন, আ.লীগকে ফেরাতে পার্শ্ববর্তী দেশের গোয়েন্দা তৎপরতা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:০৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ মে ২০২৫
  • / 577

আওয়ামী লীগের ওপর কার্যক্রম নিষেধাজ্ঞার ফলে দলটির পুনরুত্থানের সম্ভাবনা কার্যত শূন্য বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, একটি পুরনো ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের সামাজিক সংকট তৈরি হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে সম্ভাব্য রক্তপাত কিংবা আপোষের সম্ভাবনা। এ নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে ঠেলে দিয়েছে অনিশ্চয়তার দিকে।

ক্ষমা না চাইলে ভবিষ্যৎ নেই: ড. আনোয়ার উল্লাহ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রাষ্ট্রদূত ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, যেসব অপরাধে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়েছে, সে জন্য দলটি জাতির কাছে ক্ষমা না চাইলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। নতুন প্রজন্ম রাজনৈতিক শুদ্ধতা চায়, তাদের কাছে পুরনো ধাঁচের রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞার পর যদি আওয়ামী লীগ সহিংস রাজনীতি বেছে নেয়, তবে তারা টিকে থাকতে পারবে না। পার্শ্ববর্তী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা বা সরকারি মহলে সমর্থন থাকলেও শেষ কথা বলে জনগণ। যদি নতুনভাবে ফিরে আসতে চায়, তবে দলটিকে গঠনমূলক পরিবর্তন আনতে হবে।

চাপের মুখে সিদ্ধান্ত, নয় জনতার প্রত্যাশা অনুযায়ী

ড. আনোয়ার উল্লাহ আরও জানান, সরকার আগেই আইন করে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারত। কিন্তু যা হয়েছে, তা চাপের ফল। তিনি মনে করেন, কোনো সিদ্ধান্ত যদি বিদেশি বা অভ্যন্তরীণ চাপ থেকে আসে, সেটি দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল দেয় না। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হলে সেটি হতে হবে জনগণের প্রত্যাশা ও আইনের ভিত্তিতে।

নিষেধাজ্ঞা ছিল সময়ের দাবি: গুলি চালানো অগ্রহণযোগ্য

আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা নিরীহ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে, যা কোনো সভ্য রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের দমননীতির ফলেই দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা এসেছে, যা অনিবার্য ছিল।

ড. দিলারা চৌধুরী: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা বিলুপ্ত হলো

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের একটি ঘোষণা ছিল, যা এখন বিলুপ্ত। ড. ইউনূসের মতো ব্যক্তিত্বও বলছেন, তাকে ছাত্র-জনতা ক্ষমতায় এনেছে। ফলে সরকার এখন ছাত্র-জনতার চাপেই নীতিমালা পাল্টাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই দাবি এখানেই থেমে থাকবে না। ছাত্র-জনতা সামনে গণপরিষদ গঠন, নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং সেকেন্ড রিপাবলিকের মতো দাবি তুলবে। রাজপথে আন্দোলন জোরালো হবে এবং তাতে রাজনৈতিক দলগুলোও সম্পৃক্ত হবে। এর ফলে আসন্ন নির্বাচন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

বিদেশি প্রভাব ও অর্থনৈতিক দুর্দশা

দিলারা চৌধুরী আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই নিষেধাজ্ঞা রক্তপাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যদিও সমঝোতার সুযোগও রয়েছে। তিনি বলেন, বিদেশি শক্তির প্রভাব এই সিদ্ধান্তে থাকতে পারে এবং বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে প্রয়োজন রাজনৈতিক সংলাপ। তিনি সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা আশা করছেন।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি আর টিকবে না: ড. কলিমুল্লাহ

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। তারা যদি গোপনে বা সহিংস পথে কিছু করতে চায়, তা আত্মঘাতী হবে।

তিনি মনে করেন, নতুন প্রজন্ম ছাড়া আর কোনো রাজনীতি এ দেশে টিকবে না। আওয়ামী লীগ যদি আবার সক্রিয় হতে চায়, তবে তাকে এই প্রজন্মকে পাশে নিতে হবে। তাদের ক্ষুব্ধ করে কিছু করা যাবে না।

ভোটব্যাংক থাকলেও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

ড. কলিমুল্লাহ জানান, আওয়ামী লীগের একটি বড় ভোটব্যাংক থাকলেও এর একাংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে, অন্য অংশ হয়তো ভিন্ন দলে যোগ দেবে। কেউ কেউ রাজপথে থাকার চেষ্টা করলেও তারা সফল হবে না। তাই দলটির ঘুরে দাঁড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।

সারাংশ:
আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কার্যক্রম দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি বড় মোড় এনেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে এবং দলটির সামনে পুনরায় প্রতিষ্ঠার কোনো সম্ভাবনা নেই। এর ফলে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে এবং সম্ভাব্য রক্তপাত কিংবা সমঝোতার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

ঝুলে গেল নির্বাচন, আ.লীগকে ফেরাতে পার্শ্ববর্তী দেশের গোয়েন্দা তৎপরতা

আপডেট সময় : ১২:০৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ মে ২০২৫

আওয়ামী লীগের ওপর কার্যক্রম নিষেধাজ্ঞার ফলে দলটির পুনরুত্থানের সম্ভাবনা কার্যত শূন্য বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, একটি পুরনো ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের সামাজিক সংকট তৈরি হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে সম্ভাব্য রক্তপাত কিংবা আপোষের সম্ভাবনা। এ নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে ঠেলে দিয়েছে অনিশ্চয়তার দিকে।

ক্ষমা না চাইলে ভবিষ্যৎ নেই: ড. আনোয়ার উল্লাহ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রাষ্ট্রদূত ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, যেসব অপরাধে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়েছে, সে জন্য দলটি জাতির কাছে ক্ষমা না চাইলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। নতুন প্রজন্ম রাজনৈতিক শুদ্ধতা চায়, তাদের কাছে পুরনো ধাঁচের রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞার পর যদি আওয়ামী লীগ সহিংস রাজনীতি বেছে নেয়, তবে তারা টিকে থাকতে পারবে না। পার্শ্ববর্তী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা বা সরকারি মহলে সমর্থন থাকলেও শেষ কথা বলে জনগণ। যদি নতুনভাবে ফিরে আসতে চায়, তবে দলটিকে গঠনমূলক পরিবর্তন আনতে হবে।

চাপের মুখে সিদ্ধান্ত, নয় জনতার প্রত্যাশা অনুযায়ী

ড. আনোয়ার উল্লাহ আরও জানান, সরকার আগেই আইন করে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারত। কিন্তু যা হয়েছে, তা চাপের ফল। তিনি মনে করেন, কোনো সিদ্ধান্ত যদি বিদেশি বা অভ্যন্তরীণ চাপ থেকে আসে, সেটি দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল দেয় না। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হলে সেটি হতে হবে জনগণের প্রত্যাশা ও আইনের ভিত্তিতে।

নিষেধাজ্ঞা ছিল সময়ের দাবি: গুলি চালানো অগ্রহণযোগ্য

আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা নিরীহ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে, যা কোনো সভ্য রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের দমননীতির ফলেই দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা এসেছে, যা অনিবার্য ছিল।

ড. দিলারা চৌধুরী: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা বিলুপ্ত হলো

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের একটি ঘোষণা ছিল, যা এখন বিলুপ্ত। ড. ইউনূসের মতো ব্যক্তিত্বও বলছেন, তাকে ছাত্র-জনতা ক্ষমতায় এনেছে। ফলে সরকার এখন ছাত্র-জনতার চাপেই নীতিমালা পাল্টাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই দাবি এখানেই থেমে থাকবে না। ছাত্র-জনতা সামনে গণপরিষদ গঠন, নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং সেকেন্ড রিপাবলিকের মতো দাবি তুলবে। রাজপথে আন্দোলন জোরালো হবে এবং তাতে রাজনৈতিক দলগুলোও সম্পৃক্ত হবে। এর ফলে আসন্ন নির্বাচন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

বিদেশি প্রভাব ও অর্থনৈতিক দুর্দশা

দিলারা চৌধুরী আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই নিষেধাজ্ঞা রক্তপাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যদিও সমঝোতার সুযোগও রয়েছে। তিনি বলেন, বিদেশি শক্তির প্রভাব এই সিদ্ধান্তে থাকতে পারে এবং বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে প্রয়োজন রাজনৈতিক সংলাপ। তিনি সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা আশা করছেন।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি আর টিকবে না: ড. কলিমুল্লাহ

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। তারা যদি গোপনে বা সহিংস পথে কিছু করতে চায়, তা আত্মঘাতী হবে।

তিনি মনে করেন, নতুন প্রজন্ম ছাড়া আর কোনো রাজনীতি এ দেশে টিকবে না। আওয়ামী লীগ যদি আবার সক্রিয় হতে চায়, তবে তাকে এই প্রজন্মকে পাশে নিতে হবে। তাদের ক্ষুব্ধ করে কিছু করা যাবে না।

ভোটব্যাংক থাকলেও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

ড. কলিমুল্লাহ জানান, আওয়ামী লীগের একটি বড় ভোটব্যাংক থাকলেও এর একাংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে, অন্য অংশ হয়তো ভিন্ন দলে যোগ দেবে। কেউ কেউ রাজপথে থাকার চেষ্টা করলেও তারা সফল হবে না। তাই দলটির ঘুরে দাঁড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।

সারাংশ:
আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কার্যক্রম দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি বড় মোড় এনেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে এবং দলটির সামনে পুনরায় প্রতিষ্ঠার কোনো সম্ভাবনা নেই। এর ফলে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে এবং সম্ভাব্য রক্তপাত কিংবা সমঝোতার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।