দেশকে ভালোবাসলে আ.লীগ নেতারা পালিয়ে যেত না: ফরিদপুরে কর্মী সম্মেলনে জামায়াত আমির
- আপডেট সময় : ০৯:০০:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৪
- / 229
আ.লীগ দেশকে ভালোবাসলে তারা পালিয়ে যেত না উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের নেতৃবৃন্দ দেশকে ভালোবাসেন বলেই ২০০৮ সালের লগি-বৈঠার নৃশংস তাণ্ডবের পরেও পালিয়ে যান নাই। বরং জামায়াতের নেতা মীর কাশিম আলী আমেরিকা থেকে দেশে এসে হাসিমুখে শাহাদত বরণ করেছেন।
তার বন্ধুরা পরামর্শ দিয়েছিলেন, আপনি দেশে আসলে আপনার সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করা হবে। জবাবে তিনি বলেছিলেন, যদি আমার মৃত্যুও হয় তবু আমি দেশে ফিরে যাবো। এরপর মীর কাশেম আলী, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল শহিদ আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল শহিদ আব্দুল কাদের মোল্যাসহ অন্যান্যদের নিষ্ঠুরভাবে বিচারিক আদালতে খুন করা হয়।
রোববার বিকেলে ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজের শহর শাখার মাঠে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যেভাবে আমাদের দলের নেতৃবৃন্দকে বিচারিক আদালতে হত্যা করা হয়েছে, এভাবে অন্য কোনো দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে হত্যা করা হয়নি। আমরা এ খুনের বিচার চাই।
তিনি আওয়ামী লীগের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তারা নেতাকর্মীদের বলতো- অপরাধ কর, দুর্নীতি কর সমস্যা নাই, কিন্তু ক্ষমতায় থাকতে হবে। ক্ষমতায় না থাকতে পারলে ক্ষমতা হারানোর দুদিনের মধ্যে পাঁচ লাখ মানুষ খুন হবে। ৫ আগস্টের পরে কি সেই খুন হয়েছে? হয়নি কারণ, আওয়ামী লীগের মতো এ দেশের মানুষ দ্বায়িত্ব জ্ঞানহীন নয়। তারা বলতো, এই দেশ তাদের আর আমরা ভাড়াটিয়া। তারা বলতেন- এই দেশকে ৪১ সাল পর্যন্ত লিজ নিয়েছেন। পাঁচ বছর পর জনগণ রায় দেবেন সেই ব্যবস্থাও তারা রাখেনি।
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার হিংস্র তাণ্ডবের কাছে বাংলাদেশ পথ হারিয়েছিলো। ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় সেদিন ৪৫ জন বনি আদমকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছিলো। লাশের পর সেদিন বিকৃত নৃত্য করা হয়েছিলো। মানুষের বুকের পাজর ভেঙে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানবতার বুক ভেঙে দেওয়া হয়েছিলো।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ এ দেশের আলেম-ওলামা, কোরআনের মোফাসসেরসহ সাধারণ মানুষকে খুন করেছে। অনেক লড়াই সংগ্রামের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আল্লাহতায়ালা আমাদের কলিজার টুকরা সন্তানরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে পথ হারানো দেশকে মানুষের হাতে তুলে দিয়েছেন। আল্লাহতায়ালা একটি ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমাদের এই সন্তানদের জন্য আমরা গর্বিত। আমাদের সব ভালবাসা তাদের জন্য, আমাদের শ্রদ্ধা তাদের জন্য, আমাদের কৃতজ্ঞতা তাদের জন্য। আমরা তাদেরকে স্যালুট জানাই। আমাদের ছেলেদের স্লোগান ছিল, ‘বুকের মধ্যে দারুণ ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর’। আমাদের সন্তানদের সেই বুক চিতিয়ে গুলি খাওয়ার কথা আমরা কোনোদিন ভুলে যেতে পারবো না।
জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মদ বদরুউদ্দিনের সভাপতিত্বে এই কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় শাখার সহকারী সেক্রটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।




















