ঢাকা ১২:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরকীয়ার দাম দেড় বছরের প্রাণ! মেয়েকে শ্বাসরোধে খুন করলো মা!

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ জুন ২০২৫
  • / 512

স্বামী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও এক অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন আয়েশা খাতুন। সেই সম্পর্কের টানে মাত্র দেড় মাস আগে নিজের ঘর ও স্বামী-সন্তান ছেড়ে চলে যান ভৈরব পৌর শহরের লক্ষ্মীপুর মধ্যপাড়া এলাকায়। সঙ্গে ছিল দেড় বছরের কন্যা নুসরাত। কিন্তু সেই সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত রক্তাক্ত পরিণতি ডেকে আনল।

ঘটনার ভয়ানক মোড়: শ্বাসরোধে শিশুকন্যাকে হত্যা

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশা খাতুন নিজের মেয়েকে গলা টিপে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর রোববার দুপুরে নিহত শিশুর দাদা আবুল কালাম বাদী হয়ে আয়েশা ও আলমগীরকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঈদের রাতে চিৎকার, তারপর সন্তানের মৃত্যু সংবাদ

ঈদের দিন সন্ধ্যায় হঠাৎ চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন আয়েশা। জানান, তার মেয়ে নিখোঁজ। পরে বাড়ির একটি কক্ষে মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ আয়েশা ও বাড়ির মালিক শাহীন কবীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

সংসার ভেঙে অবৈধ সম্পর্কে আবাস, ঘটনার পেছনের গল্প

জানা গেছে, ময়মনসিংহের ধুবাউড়া উপজেলার চন্দ্রগুনা গ্রামের মেয়ে আয়েশার সঙ্গে নরসিংদীর বেলাব থানার নিলক্ষীয়া গ্রামের ওমর ফারুকের বিয়ে হয়েছিল পাঁচ বছর আগে। তাদের দুই সন্তান—তিন বছরের ছেলে আলিফ ও দেড় বছরের মেয়ে নুসরাত। দুই বছর আগে ভৈরবে ফারুকের কর্মস্থলে আলমগীরের সঙ্গে পরিচয় হয় আয়েশার। পরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অবশেষে দেড় মাস আগে স্বামী-সন্তানকে ছেড়ে আলমগীরের সঙ্গে ভাড়া বাসায় উঠেন আয়েশা।

বাড়িওয়ালার বক্তব্য ও পুলিশের পদক্ষেপ

বাড়ির মালিক শাহীন কবীর বলেন, তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসায় ওঠেন এবং আলমগীর আয়েশাকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। আলমগীর স্থানীয় একটি জুতার ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন।

পুলিশ বলছে, আয়েশা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ: পূর্বপরিকল্পিত হত্যা

শিশুটির দাদা আবুল কালাম অভিযোগ করেন, আয়েশা তার ছেলের সংসার ভেঙে দিয়েছে। তাদের সন্দেহ, আয়েশা ও আলমগীর পরিকল্পিতভাবে শিশুকে হত্যা করেছে। এ হত্যাকাণ্ডে আয়েশার পরিবারেরও জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেন তিনি।

পরকীয়ার দাম দেড় বছরের প্রাণ! মেয়েকে শ্বাসরোধে খুন করলো মা!

আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ জুন ২০২৫

স্বামী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও এক অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন আয়েশা খাতুন। সেই সম্পর্কের টানে মাত্র দেড় মাস আগে নিজের ঘর ও স্বামী-সন্তান ছেড়ে চলে যান ভৈরব পৌর শহরের লক্ষ্মীপুর মধ্যপাড়া এলাকায়। সঙ্গে ছিল দেড় বছরের কন্যা নুসরাত। কিন্তু সেই সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত রক্তাক্ত পরিণতি ডেকে আনল।

ঘটনার ভয়ানক মোড়: শ্বাসরোধে শিশুকন্যাকে হত্যা

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশা খাতুন নিজের মেয়েকে গলা টিপে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর রোববার দুপুরে নিহত শিশুর দাদা আবুল কালাম বাদী হয়ে আয়েশা ও আলমগীরকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঈদের রাতে চিৎকার, তারপর সন্তানের মৃত্যু সংবাদ

ঈদের দিন সন্ধ্যায় হঠাৎ চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন আয়েশা। জানান, তার মেয়ে নিখোঁজ। পরে বাড়ির একটি কক্ষে মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ আয়েশা ও বাড়ির মালিক শাহীন কবীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

সংসার ভেঙে অবৈধ সম্পর্কে আবাস, ঘটনার পেছনের গল্প

জানা গেছে, ময়মনসিংহের ধুবাউড়া উপজেলার চন্দ্রগুনা গ্রামের মেয়ে আয়েশার সঙ্গে নরসিংদীর বেলাব থানার নিলক্ষীয়া গ্রামের ওমর ফারুকের বিয়ে হয়েছিল পাঁচ বছর আগে। তাদের দুই সন্তান—তিন বছরের ছেলে আলিফ ও দেড় বছরের মেয়ে নুসরাত। দুই বছর আগে ভৈরবে ফারুকের কর্মস্থলে আলমগীরের সঙ্গে পরিচয় হয় আয়েশার। পরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অবশেষে দেড় মাস আগে স্বামী-সন্তানকে ছেড়ে আলমগীরের সঙ্গে ভাড়া বাসায় উঠেন আয়েশা।

বাড়িওয়ালার বক্তব্য ও পুলিশের পদক্ষেপ

বাড়ির মালিক শাহীন কবীর বলেন, তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসায় ওঠেন এবং আলমগীর আয়েশাকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। আলমগীর স্থানীয় একটি জুতার ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন।

পুলিশ বলছে, আয়েশা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ: পূর্বপরিকল্পিত হত্যা

শিশুটির দাদা আবুল কালাম অভিযোগ করেন, আয়েশা তার ছেলের সংসার ভেঙে দিয়েছে। তাদের সন্দেহ, আয়েশা ও আলমগীর পরিকল্পিতভাবে শিশুকে হত্যা করেছে। এ হত্যাকাণ্ডে আয়েশার পরিবারেরও জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেন তিনি।