পহেলা বৈশাখ ঘিরে আকাশচুম্বী ইলিশের দাম, সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে পান্তা-ইলিশ
- আপডেট সময় : ০১:৩৬:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫
- / 225
ইলিশ মাছের জন্য চাষ করতে হয় না, উৎপাদন খরচও নেই। তারপরও বিগত কয়েক বছর ধরেই ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বিশেষ করে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন ‘পহেলা বৈশাখ’ এলে এই মাছ হয়ে ওঠে ব্যবসায়ীদের বিশেষ টার্গেট। এ সময় ইচ্ছামতো দাম হাঁকিয়ে মুনাফার প্রতিযোগিতায় নামেন বিক্রেতারা। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নববর্ষের আগের দুই দিন থেকেই খুচরা বাজারে ইলিশের দাম বাড়তি হারে চড়া হয়ে উঠেছে। বড় আকারের ইলিশের প্রতি কেজির দাম পৌঁছেছে সর্বোচ্চ ৩৫০০ টাকায়।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে পরিস্থিতি
শুক্রবার (১১ এপ্রিল) ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২৪০০ টাকায়। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকা। ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকায়। দেড় কেজি বা তারও বেশি ওজনের ইলিশের দাম উঠেছে ২৭০০ থেকে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত। এমনকি ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ থেকে ২৬০০ টাকায়।
চট্টগ্রামেও রুপালি ইলিশের দামে আগুন
চট্টগ্রাম ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে সেখানে ইলিশের দাম আরও বেশি। আধা কেজি ওজনের ইলিশের দাম হাঁকানো হচ্ছে কেজিপ্রতি ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত। এক কেজি বা তার চেয়ে বড় ইলিশের দাম ৩০০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতাদের দাবি ও ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া
রাজধানীর কাওরান বাজারের মাছ বিক্রেতা মো. শুক্কুর আলী জানান, প্রতিবছরই পহেলা বৈশাখে ইলিশের চাহিদা বাড়ে। এ সময় বড় আকারের অনেক ইলিশ হিমাগারে মজুত থাকে, যেগুলোই এখন বিক্রি হচ্ছে। আর ছোট আকারের যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো মূলত সাগরে ধরা মাছ।
একই বাজারে ইলিশ কিনতে আসা আরমান নামের এক ক্রেতা বলেন, “নববর্ষে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার একটা রীতির মতো হয়ে গেছে। তাই দেড় কেজি ওজনের দুটি ইলিশ কিনে বাড়ি যাচ্ছি। তবে গত বছরের তুলনায় দাম অনেক বেশি।”
অপর এক ক্রেতা, মো. জসিম বলেন, “বিক্রেতাদের কারসাজির কারণে ইলিশ এখন উচ্চবিত্তদের খাবারে পরিণত হয়েছে। ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এজন্য আমি ইলিশ না নিয়েই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।”
ইলিশ-পান্তা বৈশাখী সংস্কৃতির অংশ নয়?
এদিকে পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার চর্চা নিয়ে ভিন্নমত দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, “পহেলা বৈশাখে ইলিশ পাওয়ার কথা নয়। তবুও ঢাকায় এটি চালু করা হয়েছে। বাস্তবে এটি বাঙালি সংস্কৃতির অংশ নয়।”
শুধু মাছ নয়, রাজধানীর খুচরা বাজারে বিভিন্ন সবজির দামও বাড়তির দিকে। প্রতি কেজি ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, গাজর ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ টাকা, টমেটো ৪০-৫০ টাকা, কচুরলতি ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, বেগুন ৯০ টাকা, পেঁপে ও শিম ৬০ টাকা। কাঁচামরিচ ৮০ টাকা, শসা ৬০ এবং শজিনে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।
অন্যান্য মাছের দামেও চরম ঊর্ধ্বগতি
ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য মাছের দামও বেড়েছে। দেশি চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০-১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৭০০-৮৫০ টাকা। চাষের চিংড়ি ৬৫০-৭৫০ টাকা, টেংরা মাছ ৬০০-৭০০ টাকা, দেশি শিং ৮৫০-৯০০ টাকা, শোল ৮০০-৮৫০ টাকা, পুঁটি ৬০০-৮০০ টাকা। বড় রুই ৩৫০-৪০০ টাকা, মাঝারি রুই ৩০০-৩৫০ টাকা, পাঙাশ ও তেলাপিয়া ২০০-২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, পহেলা বৈশাখকে ঘিরে দেশের বাজারে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ ও সবজির দাম বেড়ে গেছে বহুগুণে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জন্য উৎসবের আনন্দ যেন বেড়ে যাওয়া দামে হারিয়ে যাচ্ছে।

























