ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পৃথিবীতে আসার আগেই এতিম: সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের নুর আলমের মৃত্যু

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫
  • / 1224

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা নুর আলম খান (৩৫) ছয় ভাইয়ের মধ্যে ছিলেন সবচেয়ে ছোট। অল্প বয়সেই বাবাকে হারানোয় লেখাপড়ায় বেশি এগোতে পারেননি। সংসারের ঘানি টানতে কিশোর বয়সেই জীবিকার সন্ধানে নেমে পড়েন। প্রায় দেড় যুগ ধরে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালালেও অভাব-অনটন পিছু ছাড়েনি। অবশেষে স্ত্রী, দুই সন্তান ও অনাগত সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ধার-দেনায় গড়ে ওঠা স্বপ্ন

নুর আলম আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ৩-৪ লাখ টাকা ধার করে ২০২৪ সালের শেষ দিকে সৌদি আরব যান। উদ্দেশ্য ছিল— একটু ভালো আয় করে সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানো। তবে ভাগ্য যে এতটা নিষ্ঠুর হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা এবং মৃত্যু

বিদেশে যাওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায়, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি, সৌদি আরবের রিয়াদে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন নুর আলম। তাকে রিয়াদ ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তার জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে দুই পা কেটে ফেলেন। তবে দুর্ঘটনার মাত্র ২০ দিন পর, ১১ ফেব্রুয়ারি, মৃত্যুর সাথে লড়াই শেষে চিরবিদায় নেন তিনি।

তিন মাস পরে দেশে ফেরে লাশ

মৃত্যুর পর সৌদি হাসপাতালেই প্রায় তিন মাস পড়ে ছিল তার নিথর দেহ। অবশেষে নানা চেষ্টার পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ১৭ মে (শনিবার) ভোর ৫টার দিকে তার মরদেহ দেশে ফেরত আসে। সকাল ৯টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

নুর আলমের স্ত্রী বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার দুই সন্তানও রয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পর, সংসারের হাল ধরার মতো কেউ না থাকায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। বসতভিটা ছাড়া কোনো জমিজমাও নেই পরিবারটির।

প্রশাসনের আশ্বাস

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বালী জানান, লাশ দেশে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হয়েছে। পাশাপাশি নুর আলমের পরিবার যাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে সহায়তা পায়, সে উদ্যোগও নেওয়া হবে। প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

সারাংশ:
অভাব-অনটনের সংসারে আশার আলো জ্বালাতে গিয়ে প্রাণ হারাতে হলো ফরিদপুরের নুর আলমকে। সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে বিদেশ পাড়ি দিলেও জীবনের নির্মম পরিণতি হয়ে ওঠে তার জন্য। আজ তার পরিবার শুধুই এক নিঃসঙ্গ শোক নিয়ে ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় দিন গুনছে।

পৃথিবীতে আসার আগেই এতিম: সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের নুর আলমের মৃত্যু

আপডেট সময় : ১০:৫৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা নুর আলম খান (৩৫) ছয় ভাইয়ের মধ্যে ছিলেন সবচেয়ে ছোট। অল্প বয়সেই বাবাকে হারানোয় লেখাপড়ায় বেশি এগোতে পারেননি। সংসারের ঘানি টানতে কিশোর বয়সেই জীবিকার সন্ধানে নেমে পড়েন। প্রায় দেড় যুগ ধরে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালালেও অভাব-অনটন পিছু ছাড়েনি। অবশেষে স্ত্রী, দুই সন্তান ও অনাগত সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ধার-দেনায় গড়ে ওঠা স্বপ্ন

নুর আলম আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ৩-৪ লাখ টাকা ধার করে ২০২৪ সালের শেষ দিকে সৌদি আরব যান। উদ্দেশ্য ছিল— একটু ভালো আয় করে সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানো। তবে ভাগ্য যে এতটা নিষ্ঠুর হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা এবং মৃত্যু

বিদেশে যাওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায়, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি, সৌদি আরবের রিয়াদে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন নুর আলম। তাকে রিয়াদ ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তার জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে দুই পা কেটে ফেলেন। তবে দুর্ঘটনার মাত্র ২০ দিন পর, ১১ ফেব্রুয়ারি, মৃত্যুর সাথে লড়াই শেষে চিরবিদায় নেন তিনি।

তিন মাস পরে দেশে ফেরে লাশ

মৃত্যুর পর সৌদি হাসপাতালেই প্রায় তিন মাস পড়ে ছিল তার নিথর দেহ। অবশেষে নানা চেষ্টার পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ১৭ মে (শনিবার) ভোর ৫টার দিকে তার মরদেহ দেশে ফেরত আসে। সকাল ৯টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

নুর আলমের স্ত্রী বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার দুই সন্তানও রয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পর, সংসারের হাল ধরার মতো কেউ না থাকায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। বসতভিটা ছাড়া কোনো জমিজমাও নেই পরিবারটির।

প্রশাসনের আশ্বাস

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বালী জানান, লাশ দেশে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হয়েছে। পাশাপাশি নুর আলমের পরিবার যাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে সহায়তা পায়, সে উদ্যোগও নেওয়া হবে। প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

সারাংশ:
অভাব-অনটনের সংসারে আশার আলো জ্বালাতে গিয়ে প্রাণ হারাতে হলো ফরিদপুরের নুর আলমকে। সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে বিদেশ পাড়ি দিলেও জীবনের নির্মম পরিণতি হয়ে ওঠে তার জন্য। আজ তার পরিবার শুধুই এক নিঃসঙ্গ শোক নিয়ে ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় দিন গুনছে।