ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা ধর্ষণের পর হত্যা করে চাচাতো ভাই,নাটক সাজান চাচা

রাশেদুল হাসান কাজল, ফরিদপুর:
  • আপডেট সময় : ১২:২৭:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪
  • / 181

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার একটি মহল্লায় গত শুক্রবার(২৮ জুন) ধর্ষণের পর হত্যা করে পাটখেতে এক কিশোরীর(১৫) মরদেহ ফেলে যাওয়ার ঘটনার জট খুলেছে।প্রেস বিফ্রিংয়ে পুলিশ দাবী করেছে এ ঘটনা ঘটিয়েছে একই মহল্লার বাসিন্দা ওই কিশোরীর চাচাতো ভাই এক কিশোর (১৬)।পুলিশ পরদিন(২৯ জুন) তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠিয়েছে।

আজ সোমবার(১ জুলাই) বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম নিজ কার্যালয়ে প্রেস বিফ্রিং করে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,গত ২৮ জুন বিকাল ৫ টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার একটি মহল্লায় ওই কিশোরী বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে যায়। ঐসময়ে তার চাচাতো ভাই(১৬) পুকুর পাড়ে গিয়ে ওই কিশোরীকে মোবাইলে পর্ণ ছবি দেখানোর লোভ দেখিয়ে ফুসলিয়ে পুকুরের পাশে থাকা পাটখেতে নিয়ে যায়।সেখানে পর্ণ ছবি দেখানোর পর তাকে ধর্ষণ করে ওই কিশোর।এরপর এ কথা কাউকে বলতে নিষেধ করে সে।

পুলিশ সুপার মোর্শেদ আলম জানান,ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর ওই কিশোরী তার চাচাতো ভাইকে জানায়,তাকে ধর্ষণের কথা সে বাড়িতে বাবা-মাকে বলে দেবে।ওই কিশোর বারবার তাকে এ কথা বলতে নিষেধ করে।কিন্তু কথা না শোনায় কিশোরীর পড়নের ওড়না দিয়ে কিশোরীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পাশের রেললাইন ধরে বাড়িতে চলে আসে ওই কিশোর।

পুলিশ সুপার জানান,এমন একটি পাশবিক ঘটনা ঘটিয়ে বাড়িতে এসে ওই কিশোর এ ঘটনা তার বাবা টুকু মাতুব্বরকে(৫০) জানায়।টুকু মাতুব্বর নিজের ছেলেকে তখন গালমন্দ করেন।এরপর ছেলেকে বাচাতে নাটক সাজান তিনি।ঘটনাকে অন্যদিকে প্রবাহিত করতে ধান খেত দেখতে যাওয়ার কথা বলে টুকু মাতুব্বর বিকেল ৫ টার দিকে ঘটনাস্থলে যান।এরপর সেখান থেকে দৌঁড়ে ওই কিশোরীর বাড়িতে এসে তার মাকে জানান,তোমার মেয়ের লাশ পাটক্ষেতের মধ্যে পড়ে আছে।এরপর ওই কিশোরীর স্বজনরা গিয়ে এ অবস্থা দেখে পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশ সুপার জানান,এ ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।এ ঘটনায় ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে ২৯ জুন অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে ওইদিনই অভিযুক্ত কিশোরকে তার বাড়ি থেকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভাঙ্গা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক(এসআই) খালিদ মাহমুদ বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ওই কিশোর ঘটনার দায় স্বীকার করে ফরিদপুরের ২ নং আমলী আদালতের বিচারক মারুফ হাসানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এরপর তাকে যশোরের  কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা ধর্ষণের পর হত্যা করে চাচাতো ভাই,নাটক সাজান চাচা

আপডেট সময় : ১২:২৭:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার একটি মহল্লায় গত শুক্রবার(২৮ জুন) ধর্ষণের পর হত্যা করে পাটখেতে এক কিশোরীর(১৫) মরদেহ ফেলে যাওয়ার ঘটনার জট খুলেছে।প্রেস বিফ্রিংয়ে পুলিশ দাবী করেছে এ ঘটনা ঘটিয়েছে একই মহল্লার বাসিন্দা ওই কিশোরীর চাচাতো ভাই এক কিশোর (১৬)।পুলিশ পরদিন(২৯ জুন) তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠিয়েছে।

আজ সোমবার(১ জুলাই) বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম নিজ কার্যালয়ে প্রেস বিফ্রিং করে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,গত ২৮ জুন বিকাল ৫ টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার একটি মহল্লায় ওই কিশোরী বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে যায়। ঐসময়ে তার চাচাতো ভাই(১৬) পুকুর পাড়ে গিয়ে ওই কিশোরীকে মোবাইলে পর্ণ ছবি দেখানোর লোভ দেখিয়ে ফুসলিয়ে পুকুরের পাশে থাকা পাটখেতে নিয়ে যায়।সেখানে পর্ণ ছবি দেখানোর পর তাকে ধর্ষণ করে ওই কিশোর।এরপর এ কথা কাউকে বলতে নিষেধ করে সে।

পুলিশ সুপার মোর্শেদ আলম জানান,ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর ওই কিশোরী তার চাচাতো ভাইকে জানায়,তাকে ধর্ষণের কথা সে বাড়িতে বাবা-মাকে বলে দেবে।ওই কিশোর বারবার তাকে এ কথা বলতে নিষেধ করে।কিন্তু কথা না শোনায় কিশোরীর পড়নের ওড়না দিয়ে কিশোরীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পাশের রেললাইন ধরে বাড়িতে চলে আসে ওই কিশোর।

পুলিশ সুপার জানান,এমন একটি পাশবিক ঘটনা ঘটিয়ে বাড়িতে এসে ওই কিশোর এ ঘটনা তার বাবা টুকু মাতুব্বরকে(৫০) জানায়।টুকু মাতুব্বর নিজের ছেলেকে তখন গালমন্দ করেন।এরপর ছেলেকে বাচাতে নাটক সাজান তিনি।ঘটনাকে অন্যদিকে প্রবাহিত করতে ধান খেত দেখতে যাওয়ার কথা বলে টুকু মাতুব্বর বিকেল ৫ টার দিকে ঘটনাস্থলে যান।এরপর সেখান থেকে দৌঁড়ে ওই কিশোরীর বাড়িতে এসে তার মাকে জানান,তোমার মেয়ের লাশ পাটক্ষেতের মধ্যে পড়ে আছে।এরপর ওই কিশোরীর স্বজনরা গিয়ে এ অবস্থা দেখে পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশ সুপার জানান,এ ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।এ ঘটনায় ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে ২৯ জুন অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে ওইদিনই অভিযুক্ত কিশোরকে তার বাড়ি থেকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভাঙ্গা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক(এসআই) খালিদ মাহমুদ বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ওই কিশোর ঘটনার দায় স্বীকার করে ফরিদপুরের ২ নং আমলী আদালতের বিচারক মারুফ হাসানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এরপর তাকে যশোরের  কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।