ঢাকা ১০:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে প্রধান শিক্ষক সংকট: ৫৫টি স্কুল চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:২৪:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫
  • / 414

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় ৭৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৫টিতেই নেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। এ কারণে এসব বিদ্যালয়ে যেমন প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে ঢিলেমি-তালে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানও।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় অবস্থিত মোট ৭৩টি বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১৮টিতে প্রধান শিক্ষক আছেন। বাকি ৫৫টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।

সংকটের কারণ ও প্রশাসনিক চাপ

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সূত্রে জানা গেছে, এই ৫৫টি শূন্য পদের মধ্যে ২৯টিতে সহকারী শিক্ষকরা ‘চলতি দায়িত্ব’ পালন করছেন এবং ২৬টিতে রয়েছেন ‘ভারপ্রাপ্ত’ প্রধান শিক্ষক। এর মধ্যে ৮টি পদে প্রধান শিক্ষকের পদমর্যাদা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে, যা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।

২০১৭ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ বন্ধ থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে সহকারী শিক্ষকদের ওপর। একাধারে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে গিয়ে তাদের ওপর চাপ বাড়ছে এবং এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার ওপর।

অভিভাবকদের ক্ষোভ ও কর্তৃপক্ষের আশ্বাস

প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক অভিভাবক। তারা মনে করেন, সুষ্ঠু শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, পদোন্নতি এবং নতুন নিয়োগ বন্ধ থাকায় এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে এবং শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে।” তবে মামলার জটিলতার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বলেও তিনি জানান।

ফরিদপুরে প্রধান শিক্ষক সংকট: ৫৫টি স্কুল চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে

আপডেট সময় : ০৮:২৪:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় ৭৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৫টিতেই নেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। এ কারণে এসব বিদ্যালয়ে যেমন প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে ঢিলেমি-তালে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানও।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় অবস্থিত মোট ৭৩টি বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১৮টিতে প্রধান শিক্ষক আছেন। বাকি ৫৫টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।

সংকটের কারণ ও প্রশাসনিক চাপ

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সূত্রে জানা গেছে, এই ৫৫টি শূন্য পদের মধ্যে ২৯টিতে সহকারী শিক্ষকরা ‘চলতি দায়িত্ব’ পালন করছেন এবং ২৬টিতে রয়েছেন ‘ভারপ্রাপ্ত’ প্রধান শিক্ষক। এর মধ্যে ৮টি পদে প্রধান শিক্ষকের পদমর্যাদা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে, যা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।

২০১৭ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ বন্ধ থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে সহকারী শিক্ষকদের ওপর। একাধারে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে গিয়ে তাদের ওপর চাপ বাড়ছে এবং এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার ওপর।

অভিভাবকদের ক্ষোভ ও কর্তৃপক্ষের আশ্বাস

প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক অভিভাবক। তারা মনে করেন, সুষ্ঠু শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, পদোন্নতি এবং নতুন নিয়োগ বন্ধ থাকায় এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে এবং শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে।” তবে মামলার জটিলতার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বলেও তিনি জানান।