ফরিদপুরে সোনালী ব্যাংকে পেনশনের টাকা ঢুকে গায়েব, কর্মকর্তার দাবি: সমাধান হচ্ছে
- আপডেট সময় : ০৩:০৬:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ মে ২০২৫
- / 618
ফরিদপুরে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে পেনশনভোগী ৪৯ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী পেনশনের টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার পর তা আবার কেটে নেওয়ায় মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ইনচার্জ) শেখ আমির খসরু জানিয়েছেন, এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং ‘ডাবল এন্ট্রি’র কারণে এমনটি হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দুই এক দিনের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান হবে।
২৩ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন পেনশন, এবারই প্রথম ব্যত্যয়
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীদের একজন ফরিদপুর শহরের আলীপুর এলাকার বাসিন্দা, সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শাহজাহান (৮০)। ২০০২ সালের ৩১ জুলাই শরীয়তপুরের নড়িয়া সরকারি কলেজ থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি বার্তা ২৪-এ উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে কর্মরত।
গত ২৩ বছর ধরে ফরিদপুর সোনালী ব্যাংকের কর্পোরেট শাখায় তার একাউন্টে নিয়মিতভাবে পেনশন এবং উৎসব ভাতা জমা হয়ে আসছিল। কিন্তু এবারের ঘটনায় তিনি যেমন বিস্মিত হয়েছেন, তেমনি গভীর শঙ্কায়ও পড়েছেন।
মোবাইলে আসা বার্তায় ধাক্কা
গত ৪ মে সকালে মো. শাহজাহান তার মুঠোফোনে দুটি খুদে বার্তা (এসএমএস) পান। প্রথমটিতে লেখা ছিল, তার একাউন্টে এপ্রিল মাসের পেনশনের টাকা জমা হয়েছে। কিন্তু মাত্র কয়েক মিনিট পর আরেকটি বার্তায় দেখা যায়, একই পরিমাণ টাকা তার হিসাব থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন।
ব্যাংক থেকে মেলে না স্পষ্ট উত্তর
পরদিন ৫ মে তিনি ব্যাংকে যোগাযোগ করলে কোনো কর্মকর্তা তাকে বিষয়টির পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। পরে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি ৬ মে এক হাজার টাকা উত্তোলন করেন এবং একাউন্টের স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করেন। সেখানেও দেখা যায়, পেনশনের টাকা জমা হওয়ার পরপরই কেটে নেওয়া হয়েছে এবং তার পরে আর কোনো অর্থ জমা হয়নি।
ঈদের আগে দুশ্চিন্তায় অবসরপ্রাপ্তরা
এ ঘটনায় শুধু মো. শাহজাহান নয়, আরও ৪৯ জন পেনশনভোগী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ফরিদপুর সোনালী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এসব গ্রাহকের অনেকেই পুরো মাস চলে পেনশনের টাকা দিয়েই। সামনে ঈদুল আযহার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব থাকায় পেনশনের অর্থ না এলে ঈদের বোনাসও পাবেন না তারা। এতে করে তারা চরম উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রযুক্তিগত সমস্যা দাবি
ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শেখ আমির খসরু বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ডাবল এন্ট্রি’র কারণে এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আশা করছি আগামী দুই এক দিনের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।”





















