ঢাকা ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে হতদরিদ্র নারীর ঘর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫
  • / 253

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জায়গা খালি করতে গিয়ে সামেলা বেগম (৪৫) নামের এক হতদরিদ্র নারীর ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই নেতা সুভাষ সাহা উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের বড়নগর গ্রামের বাসিন্দা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য।

থানায় অভিযোগ

রোববার (৬ এপ্রিল) দুপুরে সামেলা বেগম নিজে বাদী হয়ে সুভাষ সাহা (৬৮) এবং তার ম্যানেজার গোবিন্দ্র (৫৫)–সহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান।

কোথায় থাকতেন সামেলা?

সামেলা বেগম ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের শেলাহাটি গ্রামে রেলের জায়গায় দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বসবাস করছেন। টিনের ছাপড়া ঘরেই তিনি স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। বর্তমানে তিনি সাতৈর বাজারের একটি বেসরকারি ব্যাংকে রান্নার

আগুন দেওয়ার অভিযোগ

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সামেলা বেগমের বসবাসের জমি নিয়ে সুভাষ সাহা দীর্ঘদিন ধরে আগ্রহী ছিলেন। বারবার হুমকি দিয়ে আসছিলেন ঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্য। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে, যখন ঘরে কেউ ছিল না, তখন তার ঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

সরেজমিনে যা জানা গেল

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, সুভাষ সাহার নিজস্ব জমির পাশাপাশি তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু জমি লিজ নিয়েছেন। দক্ষিণ পাশে বেশ কিছু পরিবার তার কাছ থেকে জমি কিনে ঘর তুলেছে। উত্তরের রেলওয়ের জায়গায় সামেলা বেগমসহ তিনটি পরিবার থাকেন। পুরো এলাকায় প্রায় ২৯-৩৫টি পরিবার ভূমিহীন হয়ে সরকারি জমিতে বসবাস করছে।

সামেলার হৃদয়বিদারক বর্ণনা

সামেলা বেগম বলেন, “আমি তো দুই দিন ধরে রান্না করি না, তাহলে আগুন লাগবে কীভাবে? ওরাই আগুন দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ঈদের জন্য মানুষের কাছ থেকে আনা যাকাতের টাকা, চেয়ে আনা চাল—সব পুড়ে গেছে। এখন আমি একেবারে পথে বসে গেছি।”

প্রতিবেশীদের বক্তব্য

সামেলার মেয়ে সেলিনা বেগম জানান, সুভাষ সাহার লোকজন নিয়মিত হুমকি দিতেন তাদের ঘর ভাঙার জন্য। আগুন লাগার ঘটনায় তারাও সন্দেহ করছেন নেতার লোকজনের দিকেই।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিল বিশ্বাসও জানান, তার ঘর ভাঙার হুমকি আগেও দেওয়া হয়েছে সুভাষ সাহার পক্ষ থেকে।

অভিযুক্ত নেতার দাবি

সুভাষ সাহা দাবি করেন, “আমি ওই জায়গায় তাকে নিজেই টাকা দিয়ে ঘর তুলতে দিয়েছি। তাহলে আমি কেন আগুন লাগাবো? কিছু লোক আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ঘরে আগুন দিয়ে আমাকে ফাঁসাতে চায়।”
তিনি বলেন, “আমি ওসি সাহেবকে বলেছি—আসল ঘটনা বের করতে।”

 ইউপি সদস্যের বক্তব্য

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাবেক ইউপি সদস্য খরিলুর রহমান বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন লাগে। তিনি স্থানীয়দের নিয়ে গিয়ে আগুন নেভাতে সাহায্য করেন। তিনি বলেন, সামেলা বেগম ব্যক্তিগত জমিতে নয়, রেলের জমিতে থাকতেন।

পুলিশের বক্তব্য

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুরে হতদরিদ্র নারীর ঘর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ১২:০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জায়গা খালি করতে গিয়ে সামেলা বেগম (৪৫) নামের এক হতদরিদ্র নারীর ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই নেতা সুভাষ সাহা উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের বড়নগর গ্রামের বাসিন্দা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য।

থানায় অভিযোগ

রোববার (৬ এপ্রিল) দুপুরে সামেলা বেগম নিজে বাদী হয়ে সুভাষ সাহা (৬৮) এবং তার ম্যানেজার গোবিন্দ্র (৫৫)–সহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান।

কোথায় থাকতেন সামেলা?

সামেলা বেগম ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের শেলাহাটি গ্রামে রেলের জায়গায় দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বসবাস করছেন। টিনের ছাপড়া ঘরেই তিনি স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। বর্তমানে তিনি সাতৈর বাজারের একটি বেসরকারি ব্যাংকে রান্নার

আগুন দেওয়ার অভিযোগ

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সামেলা বেগমের বসবাসের জমি নিয়ে সুভাষ সাহা দীর্ঘদিন ধরে আগ্রহী ছিলেন। বারবার হুমকি দিয়ে আসছিলেন ঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্য। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে, যখন ঘরে কেউ ছিল না, তখন তার ঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

সরেজমিনে যা জানা গেল

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, সুভাষ সাহার নিজস্ব জমির পাশাপাশি তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু জমি লিজ নিয়েছেন। দক্ষিণ পাশে বেশ কিছু পরিবার তার কাছ থেকে জমি কিনে ঘর তুলেছে। উত্তরের রেলওয়ের জায়গায় সামেলা বেগমসহ তিনটি পরিবার থাকেন। পুরো এলাকায় প্রায় ২৯-৩৫টি পরিবার ভূমিহীন হয়ে সরকারি জমিতে বসবাস করছে।

সামেলার হৃদয়বিদারক বর্ণনা

সামেলা বেগম বলেন, “আমি তো দুই দিন ধরে রান্না করি না, তাহলে আগুন লাগবে কীভাবে? ওরাই আগুন দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ঈদের জন্য মানুষের কাছ থেকে আনা যাকাতের টাকা, চেয়ে আনা চাল—সব পুড়ে গেছে। এখন আমি একেবারে পথে বসে গেছি।”

প্রতিবেশীদের বক্তব্য

সামেলার মেয়ে সেলিনা বেগম জানান, সুভাষ সাহার লোকজন নিয়মিত হুমকি দিতেন তাদের ঘর ভাঙার জন্য। আগুন লাগার ঘটনায় তারাও সন্দেহ করছেন নেতার লোকজনের দিকেই।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিল বিশ্বাসও জানান, তার ঘর ভাঙার হুমকি আগেও দেওয়া হয়েছে সুভাষ সাহার পক্ষ থেকে।

অভিযুক্ত নেতার দাবি

সুভাষ সাহা দাবি করেন, “আমি ওই জায়গায় তাকে নিজেই টাকা দিয়ে ঘর তুলতে দিয়েছি। তাহলে আমি কেন আগুন লাগাবো? কিছু লোক আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ঘরে আগুন দিয়ে আমাকে ফাঁসাতে চায়।”
তিনি বলেন, “আমি ওসি সাহেবকে বলেছি—আসল ঘটনা বের করতে।”

 ইউপি সদস্যের বক্তব্য

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাবেক ইউপি সদস্য খরিলুর রহমান বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন লাগে। তিনি স্থানীয়দের নিয়ে গিয়ে আগুন নেভাতে সাহায্য করেন। তিনি বলেন, সামেলা বেগম ব্যক্তিগত জমিতে নয়, রেলের জমিতে থাকতেন।

পুলিশের বক্তব্য

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”