ঢাকা ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর কোর্ট চত্বর থেকে ফরিদ খান অপহরণ , মুক্তিপণ দাবি ৩ লাখ টাকা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০২:১৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫
  • / 940

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের রামখণ্ড গ্রামের বাসিন্দা ফরিদ খান একজন কৃষক। কৃষিকাজ করেই তিনি তার জীবিকা নির্বাহ করেন।

১ মে দুপুরে কাগজপত্র নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন

গত ১ মে (বৃহস্পতিবার) সকালে তিনি যথারীতি ঘুম থেকে উঠে জমিতে কাজ করতে যান। দুপুরে জমিজমা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে তিনি বাড়ি থেকে দুপুর ২টার দিকে রওনা হন। এর আগে তিনি কানাইপুর বাজারের একটি ফটোকপির দোকানে যান এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফটোকপি করেন। এরপর ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

সন্ধ্যার পর থেকেই নিখোঁজ, মোবাইলও বন্ধ

সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও ফরিদ খান বাড়ি ফিরে আসেননি। এতে পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। তারা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান। ফরিদ খানের স্ত্রী জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তিনি বলেন, মামলার কাগজপত্র নিয়ে যাচ্ছেন, যেগুলো তিনি আগে দেখে নিয়েছেন।

গভীর রাতেও ফিরেননি, থানায় সাধারণ ডায়েরি

রাত ১১টা পেরিয়ে গেলেও ফরিদ খানের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতেও খোঁজ নিয়ে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন তার স্ত্রী কোতোয়ালি থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গরিব হওয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

মুক্তিপণের দাবি, ফোন রিসিভ করে হুমকি

পরবর্তীতে হঠাৎ করেই ফরিদ খানের মোবাইল ফোন খোলা পাওয়া যায়। তবে ফোন রিসিভ করেন একজন অচেনা ব্যক্তি। তিনি জানান, ফরিদ খানকে ফিরে পেতে হলে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। টাকা না দিলে ফরিদ খানকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ফোনটি আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মামলার জেরেই অপহরণ, পরিবারের সন্দেহ

ফরিদ খানের পরিবার জানায়, তার নামে ১৫ বিঘা জমি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। তাদের ধারণা, এই মামলার বিরোধ থেকেই ফরিদ খান অপহরণের শিকার হয়েছেন।

পুনরায় ফোন, মুক্তিপণের দাবিই পুনরাবৃত্তি

গতকাল সন্ধ্যায় আবার ফোনটি খোলা পাওয়া গেলে পরিবারের সদস্যরা আবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। অপহরণকারীরা একই দাবি করে—৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ। পরিবার থেকে জানানো হয়, তারা টাকা দিতে রাজি আছেন, কিন্তু কোথায় ও কিভাবে দিতে হবে তা জানতে চাইলে অপহরণকারীরা কোনো উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেয়।

পুলিশ উদ্ধার তৎপরতায়, পরিবারের আহ্বান

ফরিদ খানের পরিবার কোতোয়ালি থানায় গিয়ে বিষয়টি জানায়। পুলিশ জানান, তারা উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবার দ্রুত ফরিদ খানকে উদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছে এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছে।

ফরিদপুর কোর্ট চত্বর থেকে ফরিদ খান অপহরণ , মুক্তিপণ দাবি ৩ লাখ টাকা

আপডেট সময় : ০২:১৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের রামখণ্ড গ্রামের বাসিন্দা ফরিদ খান একজন কৃষক। কৃষিকাজ করেই তিনি তার জীবিকা নির্বাহ করেন।

১ মে দুপুরে কাগজপত্র নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন

গত ১ মে (বৃহস্পতিবার) সকালে তিনি যথারীতি ঘুম থেকে উঠে জমিতে কাজ করতে যান। দুপুরে জমিজমা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে তিনি বাড়ি থেকে দুপুর ২টার দিকে রওনা হন। এর আগে তিনি কানাইপুর বাজারের একটি ফটোকপির দোকানে যান এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফটোকপি করেন। এরপর ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

সন্ধ্যার পর থেকেই নিখোঁজ, মোবাইলও বন্ধ

সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও ফরিদ খান বাড়ি ফিরে আসেননি। এতে পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। তারা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান। ফরিদ খানের স্ত্রী জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তিনি বলেন, মামলার কাগজপত্র নিয়ে যাচ্ছেন, যেগুলো তিনি আগে দেখে নিয়েছেন।

গভীর রাতেও ফিরেননি, থানায় সাধারণ ডায়েরি

রাত ১১টা পেরিয়ে গেলেও ফরিদ খানের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতেও খোঁজ নিয়ে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন তার স্ত্রী কোতোয়ালি থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গরিব হওয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

মুক্তিপণের দাবি, ফোন রিসিভ করে হুমকি

পরবর্তীতে হঠাৎ করেই ফরিদ খানের মোবাইল ফোন খোলা পাওয়া যায়। তবে ফোন রিসিভ করেন একজন অচেনা ব্যক্তি। তিনি জানান, ফরিদ খানকে ফিরে পেতে হলে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। টাকা না দিলে ফরিদ খানকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ফোনটি আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মামলার জেরেই অপহরণ, পরিবারের সন্দেহ

ফরিদ খানের পরিবার জানায়, তার নামে ১৫ বিঘা জমি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। তাদের ধারণা, এই মামলার বিরোধ থেকেই ফরিদ খান অপহরণের শিকার হয়েছেন।

পুনরায় ফোন, মুক্তিপণের দাবিই পুনরাবৃত্তি

গতকাল সন্ধ্যায় আবার ফোনটি খোলা পাওয়া গেলে পরিবারের সদস্যরা আবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। অপহরণকারীরা একই দাবি করে—৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ। পরিবার থেকে জানানো হয়, তারা টাকা দিতে রাজি আছেন, কিন্তু কোথায় ও কিভাবে দিতে হবে তা জানতে চাইলে অপহরণকারীরা কোনো উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেয়।

পুলিশ উদ্ধার তৎপরতায়, পরিবারের আহ্বান

ফরিদ খানের পরিবার কোতোয়ালি থানায় গিয়ে বিষয়টি জানায়। পুলিশ জানান, তারা উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবার দ্রুত ফরিদ খানকে উদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছে এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছে।