ফরিদপুর: মামার বাড়িতে আগুন! রাতের আঁধারে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ‘আলু পোড়া’
- আপডেট সময় : ০৮:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
- / 252
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় মধুমতি নদীর ভাঙনের কবলে পড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর মালামাল রাতের আঁধারে নামমাত্র মূল্যে ভাঙারির দোকানে বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এই সুযোগে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া ঘরগুলোর ঢেউটিন, লোহার অ্যাংগেল ও ইট ভ্যান ভর্তি করে বিক্রি করে দিচ্ছে প্রকল্পেরই কয়েকজন বাসিন্দা। এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
১৩ বছর পর ভাঙনের মুখে আশ্রয়ণ প্রকল্প
আলফাডাঙ্গার টগরবন্ধ ইউনিয়নের চাপুলিয়া গ্রামে মধুমতি নদীর তীর ঘেঁষে ২০১১-২০১২ অর্থ বছরে ১৩০টি পরিবারের জন্য এই আশ্রয়ণ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
নদীগর্ভে বিলীন: বসবাসের কয়েক বছরের মাথায় নদীভাঙন শুরু হয়। ২০২১ সাল থেকে ভাঙনের তীব্রতা বাড়লে গত তিন বছরেই কমপক্ষে ১০০টি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
বর্তমান অবস্থা: অবশিষ্ট ছিল একটি অফিস কক্ষসহ ৩০টি ঘর। চলতি বছর ভাঙনের কবলে পড়েছে অফিস কক্ষসহ আরও চারটি ঘর। ভাঙনঝুঁকিতে থাকা চারটি পরিবার ইতিমধ্যেই অন্যত্র চলে গেছে।
সরকারি মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ
স্থানান্তরিত হওয়া বা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া ঘরগুলোর মালামালই রাতের আঁধারে বিক্রি করে দিচ্ছে একটি চক্র।
অভিযুক্তরা: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, প্রকল্পের বাসিন্দা ইমরুল শেখ ইমুল, আরিফুল শেখ ও মুকুল শেখ রাতের আঁধারে ভ্যানে করে ঘরের ঢেউটিন ও লোহার অ্যাংগেল পাশের বোয়ালমারী উপজেলার সহস্রাইল বাজারের ভাঙারির দোকানে বিক্রি করে দিয়েছেন।
সরেজমিনে: সরেজমিনে দেখা গেছে, ইমরুল শেখ ও আরিফুল শেখের ঘরের সামনে বেশকিছু লোহার অ্যাংগেল ও ইটের স্তূপ রয়েছে, যা যেকোনো সময় বিক্রি হয়ে যেতে পারে।
জড়িতদের সাফাই ও পূর্বের ঘটনা
অভিযুক্তরা সরকারি মালামাল বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করলেও, ইমরুল শেখের পূর্বের অপরাধের তথ্য উঠে এসেছে।
ইমরুল শেখের বক্তব্য: ইমরুল শেখ দাবি করেন, তিনি অফিস ঘরের মালামাল খুলে এনেছেন নতুন করে ঘর করার জন্য। তবে তিনি স্বীকার করেন যে কয়েক বছর আগে একবার ১০ মণ লোহার মালামাল বিক্রি করার পর ইউএনও অফিস থেকে আটক হয়েছিলেন এবং পরে মালামাল ফেরত দিয়ে মুক্তি পান। তিনি দাবি করেন, এরপর আর কোনো সরকারি মালামাল বিক্রি করেননি।
আরিফুল শেখের স্ত্রীর বক্তব্য: আরিফুল শেখের স্ত্রী মর্জিনা বেগমও জানান, দেবরের ভাঙা ঘরের মালামাল তাঁরা রেখে দিয়েছেন এবং এগুলো বিক্রি করা হবে না।
প্রশাসনের উদ্যোগ
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) আবুল কালাম কালু বলেন, নদীভাঙনের সুযোগে কিছু লোক সরকারি মালামাল বিক্রি করে দিচ্ছে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল এই ঘটনাকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলি সরকারি সম্পত্তি। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”




















