ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাঠের বাইরে আসল তারকা:

সাম্বার ছন্দে স্পন্দিত ফরিদপুরের সুমাইয়ার ফুটবল আবেগ

খেলাধুলা ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৪:২৪:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • / 197

বিশ্বকাপ ফুটবলের মহোৎসব শুরু হতে আর মাত্র কিছুদিন বাকি। আর এই উৎসবকে ঘিরে বাঙালি ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। মাঠের লড়াইয়ে বিশ্বসেরা ফুটবলাররা বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে নামলেও, মাঠের বাইরে আসল প্রাণ কিন্তু কোটি কোটি ভক্তের নিখাদ ভালোবাসা। ফুটবলপ্রেমীদের সেই জমানো আবেগ আর গল্পগুলোকে তুলে ধরতেই ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ’-এর বিশেষ আয়োজন—’মাঠের বাইরে আসল তারকা’। আজ আমাদের এই আয়োজনের অতিথি ফরিদপুরের নিবেদিত ব্রাজিল সমর্থক সুমাইয়া।

পেশায় একজন স্টুডেন্ট কাউন্সেলর সুমাইয়ার ফুটবলের প্রতি আকর্ষণটা গড়ে উঠেছিল একদম ছোটবেলা থেকেই। তবে বিশ্ব ফুটবলের সফলতম দল ব্রাজিলের জাদুকরী খেলা দেখার পর থেকেই সেলেসাওদের হলুদ-সবুজ জার্সির প্রেমে পড়েন তিনি। বিশেষ করে ব্রাজিলের প্রাণভোমরা নেইমারের জাদুকরী ড্রিবলিং, অসাধারণ মাঠের দক্ষতা, অদম্য আত্মবিশ্বাস এবং দলের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা সুমাইয়াকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। পরবর্তীতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সমৃদ্ধ ফুটবল ইতিহাস জানার পর ব্রাজিলের প্রতি এই ভালোবাসা রূপ নেয় এক চিরন্তন ভালো লাগায়।

ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী খেলার শৈলী বা “জোগো বনিতো” (সুন্দর খেলা)-র মধ্যে সুমাইয়া খুঁজে পান ফুটবলের আসল সৌন্দর্য। তার মতে, “ব্রাজিলের খেলার মধ্যে রয়েছে এক অদ্ভুত আনন্দ, অনন্য সৃজনশীলতা, গতি আর শিল্পের ছোঁয়া। ব্রাজিলের খেলা দেখলে মনে হয় ফুটবল শুধু ৯০ মিনিটের কোনো ম্যাচ নয়, এটি একটি বিশুদ্ধ আবেগ এবং সংস্কৃতি।”

বাঙালি পরিবারে বিশ্বকাপ মানেই এক উৎসবের আমেজ। সুমাইয়ার পরিবার ও বন্ধুদের মাঝেও এর ব্যতিক্রম হয় না। বিশ্বকাপ এলে প্রিয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো, বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় আকাশছোঁয়া পতাকা টানানো, আর প্রিয়জনদের সাথে এক হয়ে টিভির সামনে বসে খেলা দেখার মাঝেই লুকিয়ে থাকে তার জীবনের অন্যতম সেরা আনন্দঘন স্মৃতিগুলো। ফুটবলের এই খেলায় জয়-পরাজয় থাকবেই, তবে সুমাইয়ার কাছে ব্রাজিলের প্রতি সমর্থনটা শর্তহীন। তিনি জানান, “ব্রাজিল হারলেও তাদের প্রতি এই সমর্থন ও ভালোবাসা কখনো কমে না, বরং আরও বাড়ে।”

এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হেক্সা (ষষ্ঠ শিরোপা) জয়ের মিশন নিয়ে বেশ আশাবাদী ফরিদপুরের এই সমর্থক। সুমাইয়া মনে করেন, এবারের আসরে দলের সাফল্যের পেছনে নেইমার, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, রাফিনিয়া এবং ব্রুনো গিমারায়েসের মতো তারকাদের পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রতিভা এবং দলের প্রতি দায়বদ্ধতা ব্রাজিলকে শিরোপার লড়াইয়ে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস তার।

মাঠের বাইরে সুমাইয়ার মতো এমন কোটি ভক্তের অফুরন্ত ভালোবাসাই ফুটবলকে করে তুলেছে অনন্য। সুমাইয়ার ফুটবল উন্মাদনা ও ব্রাজিলের প্রতি এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে। ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ’-এর পক্ষ থেকে সুমাইয়ার জন্য রইল অনেক শুভকামনা।

মাঠের বাইরে আসল তারকা:

সাম্বার ছন্দে স্পন্দিত ফরিদপুরের সুমাইয়ার ফুটবল আবেগ

আপডেট সময় : ০৪:২৪:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবলের মহোৎসব শুরু হতে আর মাত্র কিছুদিন বাকি। আর এই উৎসবকে ঘিরে বাঙালি ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। মাঠের লড়াইয়ে বিশ্বসেরা ফুটবলাররা বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে নামলেও, মাঠের বাইরে আসল প্রাণ কিন্তু কোটি কোটি ভক্তের নিখাদ ভালোবাসা। ফুটবলপ্রেমীদের সেই জমানো আবেগ আর গল্পগুলোকে তুলে ধরতেই ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ’-এর বিশেষ আয়োজন—’মাঠের বাইরে আসল তারকা’। আজ আমাদের এই আয়োজনের অতিথি ফরিদপুরের নিবেদিত ব্রাজিল সমর্থক সুমাইয়া।

পেশায় একজন স্টুডেন্ট কাউন্সেলর সুমাইয়ার ফুটবলের প্রতি আকর্ষণটা গড়ে উঠেছিল একদম ছোটবেলা থেকেই। তবে বিশ্ব ফুটবলের সফলতম দল ব্রাজিলের জাদুকরী খেলা দেখার পর থেকেই সেলেসাওদের হলুদ-সবুজ জার্সির প্রেমে পড়েন তিনি। বিশেষ করে ব্রাজিলের প্রাণভোমরা নেইমারের জাদুকরী ড্রিবলিং, অসাধারণ মাঠের দক্ষতা, অদম্য আত্মবিশ্বাস এবং দলের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা সুমাইয়াকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। পরবর্তীতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সমৃদ্ধ ফুটবল ইতিহাস জানার পর ব্রাজিলের প্রতি এই ভালোবাসা রূপ নেয় এক চিরন্তন ভালো লাগায়।

ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী খেলার শৈলী বা “জোগো বনিতো” (সুন্দর খেলা)-র মধ্যে সুমাইয়া খুঁজে পান ফুটবলের আসল সৌন্দর্য। তার মতে, “ব্রাজিলের খেলার মধ্যে রয়েছে এক অদ্ভুত আনন্দ, অনন্য সৃজনশীলতা, গতি আর শিল্পের ছোঁয়া। ব্রাজিলের খেলা দেখলে মনে হয় ফুটবল শুধু ৯০ মিনিটের কোনো ম্যাচ নয়, এটি একটি বিশুদ্ধ আবেগ এবং সংস্কৃতি।”

বাঙালি পরিবারে বিশ্বকাপ মানেই এক উৎসবের আমেজ। সুমাইয়ার পরিবার ও বন্ধুদের মাঝেও এর ব্যতিক্রম হয় না। বিশ্বকাপ এলে প্রিয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো, বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় আকাশছোঁয়া পতাকা টানানো, আর প্রিয়জনদের সাথে এক হয়ে টিভির সামনে বসে খেলা দেখার মাঝেই লুকিয়ে থাকে তার জীবনের অন্যতম সেরা আনন্দঘন স্মৃতিগুলো। ফুটবলের এই খেলায় জয়-পরাজয় থাকবেই, তবে সুমাইয়ার কাছে ব্রাজিলের প্রতি সমর্থনটা শর্তহীন। তিনি জানান, “ব্রাজিল হারলেও তাদের প্রতি এই সমর্থন ও ভালোবাসা কখনো কমে না, বরং আরও বাড়ে।”

এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হেক্সা (ষষ্ঠ শিরোপা) জয়ের মিশন নিয়ে বেশ আশাবাদী ফরিদপুরের এই সমর্থক। সুমাইয়া মনে করেন, এবারের আসরে দলের সাফল্যের পেছনে নেইমার, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, রাফিনিয়া এবং ব্রুনো গিমারায়েসের মতো তারকাদের পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রতিভা এবং দলের প্রতি দায়বদ্ধতা ব্রাজিলকে শিরোপার লড়াইয়ে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস তার।

মাঠের বাইরে সুমাইয়ার মতো এমন কোটি ভক্তের অফুরন্ত ভালোবাসাই ফুটবলকে করে তুলেছে অনন্য। সুমাইয়ার ফুটবল উন্মাদনা ও ব্রাজিলের প্রতি এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে। ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ’-এর পক্ষ থেকে সুমাইয়ার জন্য রইল অনেক শুভকামনা।