ভালো-মন্দ খেয়ে নে, তোর সময় শেষ: বিএনপি নেতার বাড়িতে কাফনের কাপড়
- আপডেট সময় : ০৫:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
- / 284
সাতসকালে ঘুম থেকে উঠেই বাড়ির দেওয়ালে চোখ আটকে গিয়েছিল পরিবারের সদস্যদের। আর তাতেই রক্ত হিম হয়ে যাওয়ার জোগাড়! হালকা নীল রঙের একটা পলিথিনের প্যাকেট। ভেতরে পরিপাটি করে রাখা কাফনের কাপড়, আগরবাতি, গোলাপজলের বোতল আর তার সঙ্গে গুঁজে দেওয়া একটি চিরকুট—যা আদতে এক জ্বলজ্বলে মৃত্যুর পরোয়ানা। মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের বলিয়াপুর গ্রামে এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার বাড়িতে দুর্বৃত্তদের এমন ‘খুনে’ হুঁশিয়ারিতে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (৩ জুন) সকালে বলিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লস্কর আলীর বাড়ি থেকে এই সামগ্রীগুলো উদ্ধার করেছে মেহেরপুর থানা পুলিশ।
‘তোর মাথা গাছে ঝুলিয়ে রাখব!’
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বলিয়াপুর গ্রামের মৃত এজেল শেখের ছেলে লস্কর আলী দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বুধবার সকালে তাঁর বাড়ির সীমানা প্রাচীরের ওপর একটি রহস্যময় পলিথিন ব্যাগ দেখতে পান পরিবারের লোকজন। কৌতুহলবশত সেটি খুলতেই বেরিয়ে আসে মৃত্যুর যাবতীয় সরঞ্জাম।
সবচেয়ে ভয়ংকর ছিল প্যাকেটে থাকা সেই চিরকুটটি। সেখানে স্পষ্ট অক্ষরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে লেখা রয়েছে— ‘তুই ভালো মন্দ খেয়ে নে। তোর সময় শেষ। বটতলায় তোর মাথা গাছে ঝুলিয়ে রাখবো। তুইসহ তোর পাশে যারা থাকে কাউকে ছাড়বো না।’ একদম ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত পরিকল্পনায় যে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে, তা চিরকুটের ভাষা দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়।
তদন্তে পুলিশ, আতঙ্কে পরিবার:
ভয়ার্ত এই অভিজ্ঞতার পর লস্কর আলী নিজেই বলিয়াপুর পুলিশ ক্যাম্পে খবর দেন। সেখান থেকে পুলিশ এসে কাফনের কাপড় ও চিরকুটসহ বাকি জিনিসপত্র জব্দ করে নিয়ে যায়। লস্কর আলী জানান, “সকালে প্রাচীরের ওপর দুর্বৃত্তরা জীবননাশের হুমকি দিয়ে এই ব্যাগটি রেখে যায়। পুলিশকে জানানোর পর তারা এসে এগুলো উদ্ধার করেছে।”
রাজনৈতিক শত্রুতা নাকি ব্যক্তিগত কোনো বিরোধের জেরে এই কাণ্ড, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে প্রশাসন। মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সেখান থেকে কাফনের কাপড়সহ অন্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”


















