ঢাকা ০২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে রেস্তোরাঁয় ধর্ষণ: গ্রেপ্তার হাসিব চৌধুরী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • / 1753

সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপ, তারপর প্রেমের নামে গভীর বিশ্বাস অর্জন। কিন্তু সেই বিশ্বাসের আড়ালেই যে ওত পেতে ছিল এক ভয়ংকর ‘সাইবার-শিকারী’, তা হয়তো ঘুণাক্ষরেও টের পাননি ফরিদপুরের ওই তরুণী। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রেস্তোরাঁয় নিয়ে ধর্ষণ এবং সেই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও তুলে ১০ লক্ষ টাকা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল মূল খলনায়ক। ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামি হাসিব চৌধুরী (২১)-কে রাজধানীর লালবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১০।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ৮টা ৫ মিনিটে গোপন সূত্রের খবর ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির নিখুঁত মেলবন্ধনে ঢাকার পলাশীর মোড় এলাকায় এক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাকে পাকড়াও করা হয়।

রেস্তোরাঁয় লালসা, মোবাইলে গোপন ক্যামেরা:

র‍্যাবের সদর দফতর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘটনার যে হাড়হিম করা বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা আধুনিক সমাজব্যবস্থার এক অন্ধকার দিককে তুলে ধরে। জানা গেছে, ফেসবুকের হাত ধরে হাসিবের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল ওই ভুক্তভোগী তরুণীর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পর্ক প্রেমের রূপ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ফরিদপুরের চরকমলাপুর এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে ওই তরুণীকে ডেকে নেয় হাসিব। সেখানে বিয়ের টোপ দিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। শুধু তাই নয়, পাশবিক লালসা চরিতার্থ করার পাশাপাশি নিজের মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখে হাসিব।

১০ লাখের ডিমান্ড নোট ও ইন্টারনেটে ভিডিও ফাঁস:

ধর্ষণের পর শুরু হয় আসল নারকীয় খেলা। সেই গোপন ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তরুণীর কাছে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে হাসিব। কিন্তু ভুক্তভোগী তরুণী সেই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে এবং মোটা অঙ্কের টাকা দিতে অস্বীকার করেন। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে লম্পট হাসিব বিভিন্ন পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটে ওই গোপন ভিডিও ও ছবি আপলোড করে দেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই চরম অপমানের পর আর মুখ বুজে থাকেননি তরুণী। তিনি নিজেই বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি কড়া মামলা ঠুকে দেন।

র‍্যাবের নজরদারি ও পলাশীর মোড়ে যবনিকা:

মামলা দায়েরের পর থেকেই তদন্তকারী কর্মকর্তারা আসামির খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছিলেন। একপর্যায়ে আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য এলিট ফোর্স র‍্যাব-১০ এর সহযোগিতা চাওয়া হয়। র‍্যাবের গোয়েন্দারা হাসিবের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেন। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে পলাশীর মোড়ে তার আত্মগোপন পর্বের অবসান ঘটে।

গ্রেপ্তারের সময় হাসিবের কাছ থেকে অপরাধের মূল হাতিয়ার ২টি স্মার্টফোন, ২টি পরিচয়পত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের ৪টি এটিএম কার্ড এবং একটি ইলেকট্রিক ভ্যাপ (Vape) উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসিব স্বীকার করেছে যে, মামলার পর থেকে সে আইনি চোখ এড়াতে বিভিন্ন এলাকায় রূপ বদলে আত্মগোপন করেছিল। র‍্যাব জানিয়েছে, ধৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সাইবারভিত্তিক অপরাধ দমনে এই ধরনের কঠোর অভিযান জারি থাকবে।

ফরিদপুরে রেস্তোরাঁয় ধর্ষণ: গ্রেপ্তার হাসিব চৌধুরী

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপ, তারপর প্রেমের নামে গভীর বিশ্বাস অর্জন। কিন্তু সেই বিশ্বাসের আড়ালেই যে ওত পেতে ছিল এক ভয়ংকর ‘সাইবার-শিকারী’, তা হয়তো ঘুণাক্ষরেও টের পাননি ফরিদপুরের ওই তরুণী। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রেস্তোরাঁয় নিয়ে ধর্ষণ এবং সেই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও তুলে ১০ লক্ষ টাকা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল মূল খলনায়ক। ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামি হাসিব চৌধুরী (২১)-কে রাজধানীর লালবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১০।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ৮টা ৫ মিনিটে গোপন সূত্রের খবর ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির নিখুঁত মেলবন্ধনে ঢাকার পলাশীর মোড় এলাকায় এক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাকে পাকড়াও করা হয়।

রেস্তোরাঁয় লালসা, মোবাইলে গোপন ক্যামেরা:

র‍্যাবের সদর দফতর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘটনার যে হাড়হিম করা বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা আধুনিক সমাজব্যবস্থার এক অন্ধকার দিককে তুলে ধরে। জানা গেছে, ফেসবুকের হাত ধরে হাসিবের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল ওই ভুক্তভোগী তরুণীর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পর্ক প্রেমের রূপ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ফরিদপুরের চরকমলাপুর এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে ওই তরুণীকে ডেকে নেয় হাসিব। সেখানে বিয়ের টোপ দিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। শুধু তাই নয়, পাশবিক লালসা চরিতার্থ করার পাশাপাশি নিজের মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখে হাসিব।

১০ লাখের ডিমান্ড নোট ও ইন্টারনেটে ভিডিও ফাঁস:

ধর্ষণের পর শুরু হয় আসল নারকীয় খেলা। সেই গোপন ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তরুণীর কাছে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে হাসিব। কিন্তু ভুক্তভোগী তরুণী সেই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে এবং মোটা অঙ্কের টাকা দিতে অস্বীকার করেন। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে লম্পট হাসিব বিভিন্ন পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটে ওই গোপন ভিডিও ও ছবি আপলোড করে দেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই চরম অপমানের পর আর মুখ বুজে থাকেননি তরুণী। তিনি নিজেই বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি কড়া মামলা ঠুকে দেন।

র‍্যাবের নজরদারি ও পলাশীর মোড়ে যবনিকা:

মামলা দায়েরের পর থেকেই তদন্তকারী কর্মকর্তারা আসামির খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছিলেন। একপর্যায়ে আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য এলিট ফোর্স র‍্যাব-১০ এর সহযোগিতা চাওয়া হয়। র‍্যাবের গোয়েন্দারা হাসিবের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেন। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে পলাশীর মোড়ে তার আত্মগোপন পর্বের অবসান ঘটে।

গ্রেপ্তারের সময় হাসিবের কাছ থেকে অপরাধের মূল হাতিয়ার ২টি স্মার্টফোন, ২টি পরিচয়পত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের ৪টি এটিএম কার্ড এবং একটি ইলেকট্রিক ভ্যাপ (Vape) উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসিব স্বীকার করেছে যে, মামলার পর থেকে সে আইনি চোখ এড়াতে বিভিন্ন এলাকায় রূপ বদলে আত্মগোপন করেছিল। র‍্যাব জানিয়েছে, ধৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সাইবারভিত্তিক অপরাধ দমনে এই ধরনের কঠোর অভিযান জারি থাকবে।