ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে মসজিদের ইমামকে কুপিয়ে জখম

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:৩৭:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • / 260

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক মসজিদের ইমামকে কুপিয়ে রক্তাক্ত ও জখম করার ন্যাক্কারজনক অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে খোদ ভুক্তভোগীর আপন চার ভাই, এক বোন এবং দুই জা (ভাইয়ের স্ত্রী)-এর বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ পাল্টা দাবি করেছে, আহত ইমামই প্রথমে তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় ইতিমধ্যেই উভয় পক্ষ আলফাডাঙ্গা থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

গত বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যার ঠিক পূর্বমুহূর্তে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের কঠুরাকান্দি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। আহত শফিকুল ইসলাম (৪৫) কঠুরাকান্দি গ্রামের মৃত গোলাম রহমান মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন সজ্জন ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত এবং পার্শ্ববর্তী নগরকান্দা জামে মসজিদে ইমামতি করেন।

বাড়িতে ঢুকে অতর্কিত কোপ:

আহত ইমাম শফিকুল ইসলামের স্ত্রী তাছলিমা বেগম আলফাডাঙ্গা থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, পৈতৃক জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর স্বামীর সঙ্গে বড় ভাই নুরুল ইসলাম টুকুসহ চার ভাই ও এক বোনের তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে বুধবার সন্ধ্যার আগে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে আচমকা তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে।

এর প্রতিবাদ করায় অভিযুক্তরা ইমাম শফিকুলের ওপর অতর্কিত ও বর্বরোচিত হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে রামদা ও ধারালো অস্ত্রের কোপে তিনি গুরুতর জখম হন। তাঁর রক্তাক্ত চিৎকার শুনে আশেপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ইমামের মাথা ও হাতের আঙুলে গুরুতর জখম হওয়ায় সেখানে মোট ১২টি সেলাই দিতে হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার, পাল্টা মামলা:

অন্যদিকে জমি দখলের এই হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে পাল্টা দাবি তুলেছে অভিযুক্ত পক্ষ। তাদের দাবি, শফিকুল ইসলামই প্রথমে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেছেন।

অভিযুক্ত কিবরিয়া মিয়া ও তাঁর স্ত্রী পারভিন বেগম জানান, ঘটনার সময় শফিকুল ইসলাম তাঁদের পরিবারের এক নারী সদস্যের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন। এই নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে পারভিন বেগমও আহত হন এবং তাঁকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বুধবার রাতেই কিবরিয়া মিয়া বাদী হয়ে উল্টো শফিকুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি পাল্টা লিখিত অভিযোগ ঠুকে দেন।

তদন্তে পুলিশ:

পারিবারিক এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান জানান, “উভয় পক্ষের কাছ থেকেই আমরা দুটি পৃথক লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুরো বিষয়টি মূলত পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটেছে। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে; তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ফরিদপুরে মসজিদের ইমামকে কুপিয়ে জখম

আপডেট সময় : ১২:৩৭:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক মসজিদের ইমামকে কুপিয়ে রক্তাক্ত ও জখম করার ন্যাক্কারজনক অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে খোদ ভুক্তভোগীর আপন চার ভাই, এক বোন এবং দুই জা (ভাইয়ের স্ত্রী)-এর বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ পাল্টা দাবি করেছে, আহত ইমামই প্রথমে তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় ইতিমধ্যেই উভয় পক্ষ আলফাডাঙ্গা থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

গত বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যার ঠিক পূর্বমুহূর্তে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের কঠুরাকান্দি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। আহত শফিকুল ইসলাম (৪৫) কঠুরাকান্দি গ্রামের মৃত গোলাম রহমান মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন সজ্জন ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত এবং পার্শ্ববর্তী নগরকান্দা জামে মসজিদে ইমামতি করেন।

বাড়িতে ঢুকে অতর্কিত কোপ:

আহত ইমাম শফিকুল ইসলামের স্ত্রী তাছলিমা বেগম আলফাডাঙ্গা থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, পৈতৃক জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর স্বামীর সঙ্গে বড় ভাই নুরুল ইসলাম টুকুসহ চার ভাই ও এক বোনের তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে বুধবার সন্ধ্যার আগে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে আচমকা তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে।

এর প্রতিবাদ করায় অভিযুক্তরা ইমাম শফিকুলের ওপর অতর্কিত ও বর্বরোচিত হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে রামদা ও ধারালো অস্ত্রের কোপে তিনি গুরুতর জখম হন। তাঁর রক্তাক্ত চিৎকার শুনে আশেপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ইমামের মাথা ও হাতের আঙুলে গুরুতর জখম হওয়ায় সেখানে মোট ১২টি সেলাই দিতে হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার, পাল্টা মামলা:

অন্যদিকে জমি দখলের এই হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে পাল্টা দাবি তুলেছে অভিযুক্ত পক্ষ। তাদের দাবি, শফিকুল ইসলামই প্রথমে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেছেন।

অভিযুক্ত কিবরিয়া মিয়া ও তাঁর স্ত্রী পারভিন বেগম জানান, ঘটনার সময় শফিকুল ইসলাম তাঁদের পরিবারের এক নারী সদস্যের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন। এই নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে পারভিন বেগমও আহত হন এবং তাঁকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বুধবার রাতেই কিবরিয়া মিয়া বাদী হয়ে উল্টো শফিকুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি পাল্টা লিখিত অভিযোগ ঠুকে দেন।

তদন্তে পুলিশ:

পারিবারিক এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান জানান, “উভয় পক্ষের কাছ থেকেই আমরা দুটি পৃথক লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুরো বিষয়টি মূলত পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটেছে। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে; তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”