ঢাকা ০৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাড়ির দখল নিতে বাবার হাত-পায়ের রগ কাটল ছেলে, বৃদ্ধের অবস্থা আশঙ্কাজনক

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:২৬:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
  • / 440

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নিজ বাড়ির দখল নিতে গিয়ে বাবা ধন মিয়াকে (৭৮) কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে তার প্রথম স্ত্রীর মেজো ছেলে মাসুক মিয়া। গতকাল সোমবার উপজেলার চাপরতলা ইউনিয়নের তারাউলা গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। হামলায় বৃদ্ধ ধন মিয়ার দুই হাত ও বাম পায়ের রগ কেটে গেছে এবং বুকে গুরুতর জখম হয়েছে।

হামলার শিকার ও চিকিৎসাধীন

প্রাথমিকভাবে ধন মিয়াকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও, অবস্থার অবনতি হওয়ায় আজ মঙ্গলবার তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের ট্রমা সার্জন ডা. সোলায়মান মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “ধন মিয়া বয়স্ক মানুষ। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার হাত-পায়ের রগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। একাধিক হাড় ভেঙে গেছে। শরীরে জখমের চিহ্ন রয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় ধন মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ঢাকায় রেফার করেছি।”

পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও অভিযুক্তের পরিচয়

স্থানীয়রা জানান, ধন মিয়ার সাত ছেলে – প্রথম স্ত্রীর ঘরে পাঁচজন এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে দুজন। ধন মিয়া প্রত্যেক ছেলেকে আলাদা বাড়ি করে দিয়েছেন এবং তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা একটি বাড়িতে বসবাস করেন। মাসুক মিয়া দীর্ঘদিন ধরে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাবার এই বাড়িটি দখলের চেষ্টা করছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাঁদতে কাঁদতে ধন মিয়া অভিযোগ করেন, “আমি কাউরে বঞ্চিত করিনি। প্রত্যেককে বাড়ি করে দিয়েছি। দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে যে বাড়ি থাকি, মাসুক সেটির অর্ধেক দখল করে নিয়েছে। বাড়ি থেকে আমাদের তাড়ানোর জন্য সে চাপ দিচ্ছিল। সোমবার সকালে এ নিয়ে কথা কাটাকাটিও হয়।”

তিনি আরও বলেন, “বাড়ি সংলগ্ন মসজিদের সামনে বিকেলে একা পেয়ে মাসুক দা দিয়ে আমাকে কোপাতে থাকে। মাটিতে পড়ে গেলেও সে থামেনি। পরে আশেপাশের মানুষ ও অন্য ছেলেরা এলে সে পালিয়ে যায়।”

মাসুক মিয়ার ছোট ভাই কাউছার মিয়া জানিয়েছেন, তার ভাই মাসুক আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। তার নামে ডাকাতি, হত্যা চেষ্টাসহ হবিগঞ্জ সদর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তার ভয়ে কাউছার নিজেও বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করেন।

পুলিশের বক্তব্য

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, তারা ঘটনাটি শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাড়ির দখল নিতে বাবার হাত-পায়ের রগ কাটল ছেলে, বৃদ্ধের অবস্থা আশঙ্কাজনক

আপডেট সময় : ০৮:২৬:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নিজ বাড়ির দখল নিতে গিয়ে বাবা ধন মিয়াকে (৭৮) কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে তার প্রথম স্ত্রীর মেজো ছেলে মাসুক মিয়া। গতকাল সোমবার উপজেলার চাপরতলা ইউনিয়নের তারাউলা গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। হামলায় বৃদ্ধ ধন মিয়ার দুই হাত ও বাম পায়ের রগ কেটে গেছে এবং বুকে গুরুতর জখম হয়েছে।

হামলার শিকার ও চিকিৎসাধীন

প্রাথমিকভাবে ধন মিয়াকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও, অবস্থার অবনতি হওয়ায় আজ মঙ্গলবার তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের ট্রমা সার্জন ডা. সোলায়মান মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “ধন মিয়া বয়স্ক মানুষ। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার হাত-পায়ের রগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। একাধিক হাড় ভেঙে গেছে। শরীরে জখমের চিহ্ন রয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় ধন মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ঢাকায় রেফার করেছি।”

পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও অভিযুক্তের পরিচয়

স্থানীয়রা জানান, ধন মিয়ার সাত ছেলে – প্রথম স্ত্রীর ঘরে পাঁচজন এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে দুজন। ধন মিয়া প্রত্যেক ছেলেকে আলাদা বাড়ি করে দিয়েছেন এবং তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা একটি বাড়িতে বসবাস করেন। মাসুক মিয়া দীর্ঘদিন ধরে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাবার এই বাড়িটি দখলের চেষ্টা করছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাঁদতে কাঁদতে ধন মিয়া অভিযোগ করেন, “আমি কাউরে বঞ্চিত করিনি। প্রত্যেককে বাড়ি করে দিয়েছি। দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে যে বাড়ি থাকি, মাসুক সেটির অর্ধেক দখল করে নিয়েছে। বাড়ি থেকে আমাদের তাড়ানোর জন্য সে চাপ দিচ্ছিল। সোমবার সকালে এ নিয়ে কথা কাটাকাটিও হয়।”

তিনি আরও বলেন, “বাড়ি সংলগ্ন মসজিদের সামনে বিকেলে একা পেয়ে মাসুক দা দিয়ে আমাকে কোপাতে থাকে। মাটিতে পড়ে গেলেও সে থামেনি। পরে আশেপাশের মানুষ ও অন্য ছেলেরা এলে সে পালিয়ে যায়।”

মাসুক মিয়ার ছোট ভাই কাউছার মিয়া জানিয়েছেন, তার ভাই মাসুক আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। তার নামে ডাকাতি, হত্যা চেষ্টাসহ হবিগঞ্জ সদর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তার ভয়ে কাউছার নিজেও বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করেন।

পুলিশের বক্তব্য

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, তারা ঘটনাটি শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।