বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২০
- আপডেট সময় : ১০:০৬:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
- / 251
রংপুরের বদরগঞ্জে দোকান মালিক ও ভাড়াটিয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লাভলু মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন, যাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শনিবার দুপুরে বদরগঞ্জ পৌর শহরে এ ঘটনা ঘটে।
কারণ দর্শানোর নোটিশ বিএনপি নেতাদের:
ঘটনার জেরে বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মানিক এবং বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
দ্বন্দ্বের সূত্রপাত দোকান নিয়ে:
নিহত লাভলু মিয়া বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের রাজামরামপুর গ্রামের মহসিন আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বদরগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসংলগ্ন এলাকায় ঢেউটিন ব্যবসায়ী জাহিদুল হক জোয়ারদার ইশতিয়াক বাবুর কাছ থেকে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছিলেন। সম্প্রতি দোকান মালিক দোকান ছাড়ার নোটিশ দিলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও দ্বন্দ্ব:
ব্যবসায়ী জাহিদুল হক বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিককে বিষয়টি জানান। অপরদিকে দোকান মালিক ইশতিয়াক বাবু সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকারের কাছে অভিযোগ করেন। ফলে দুই নেতার মধ্যেও দ্বন্দ্ব শুরু হয়, যার রেশ গিয়ে পড়ে সমর্থকদের ওপর।
সশস্ত্র মহড়া ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি:
শনিবার শহিদুল হক মানিকের সমর্থকেরা ভাড়াটিয়ার পক্ষে সশস্ত্র মহড়া শুরু করলে মোহাম্মদ আলী সরকারের অনুসারীরা বাধা দেয়। এরপর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দোকান খুলে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করে মানিকের পক্ষ। অপরপক্ষ প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং সকাল থেকেই শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, যা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
শহরের অস্থিরতা ও আতঙ্ক:
দুই পক্ষের উত্তেজনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয় নেয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত ও নিহতের পরিচয়:
সংঘর্ষে মোহাম্মদ আলী সরকারের পক্ষের ১৫ জন বিএনপি কর্মীসহ দুইজন পথচারী এবং মানিকের পক্ষের ৩ জন আহত হন। গুরুতর আহত ৫ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, সেখানেই সন্ধ্যা ৬টায় লাভলু মিয়া মারা যান।
প্রশাসনের অবস্থান:
বদরগঞ্জ থানার ওসি একেএম আতিকুর রহমান জানান, শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং কেউ অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দলীয় প্রতিক্রিয়া:
বিএনপির জেলা কমিটির সদস্য সচিব আনিছুর রহমান নিশ্চিত করেছেন, সংঘর্ষে তাদের একজন কর্মী লাভলু মিয়া মারা গেছেন এবং দলীয়ভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




















