বিডিআর হত্যাকাণ্ড ও রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্তে গ্রেপ্তার সাবেক মেজর হাফিজ
- আপডেট সময় : ০১:০৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / 43
বিডিআর ট্র্যাজেডির আড়ালে কি লুকিয়ে ছিল বড় কোনো রাষ্ট্রবিরোধী গভীর চক্রান্ত? সেই স্পর্শকাতর প্রশ্নের তোলপাড়ের মাঝেই এবার আইনশৃঙ্খলার বাঁধনে জড়ালেন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা। রাজধানীর অভিজাত এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার আব্দুল হাফিজকে।
রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী বিপজ্জনক তৎপরতা ও বহুল আলোচিত বিডিআর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকার একটি বাসভবন থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “তিনি বর্তমানে ডিবি কার্যালয়ে পুলিশ হেফাজতে আছেন।”
নতুন মামলার প্রস্তুতি ও ডিএমপির কড়া বার্তা
ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) আকতার হোসেন জানান, বনানী এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পরপরই তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সেখানে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় নতুন মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও হাফিজের পরিচয়
খন্দকার আব্দুল হাফিজ কেবল সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাই নন, বরং গত দেড় দশক ধরে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে, ২০০৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে পদার্পণ করেন হাফিজসহ সাবেক একদল সামরিক কর্মকর্তা।
পরবর্তীতে তিনি দলটির কেন্দ্রীয় শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এর আগে ২০১৪ সালে মির্জাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও নৌকার প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন এই সাবেক সামরিক কর্মকর্তা।










